চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেপরোয়া হুন্ডি ব্যবসা কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেপরোয়াভাবে চলছে হুন্ডি নামক অবৈধ অর্থ লেনদেন। প্রতিমাসে শত-কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে অবৈধ পথে। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ অর্থ লেনদেনে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। বছরে প্রায় ১৪ শো কোটি টাকা রিজার্ভ অর্থ থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে। বর্তমানে এই ব্যবসা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। রাজস্ব ফাঁকির মহাৎসব থামাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর সহজ নিয়ম করেছেন। তবুও মানিলন্ডারিং চক্র যেন বেপরোয়া হয়ে উঠছে ক্রমশই। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছরে প্রায় ১৪ শত কোটি টাকা অবৈধ পথে লেনদেন হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সুত্রে জানাযায়- ২০০৪ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত সর্বমোট ৫৯ হাজার ৭১৪ জন প্রবাসী কর্মী বিভিন্ন দেশে রয়েছে। খোদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকেই ৪৫ হাজার কর্মী রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। যার নূন্যতম মাসিক আয়ের যোগফল প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানাযায় অর্জিত বৈদেশিক অর্থের ৯০ ভাগ টাকায় দেশে প্রবেশ করছে অবৈধ পথ হুন্ডির মাধ্যমে। মানিলন্ডারিং এ জড়িত মাফিয়া চক্রের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ভারত, আর ভারত থেকে গরু-অস্ত্র-মাদক হয়ে এসব অর্থ প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এ মানিলন্ডারিং চক্রের সাথে জড়িত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শতাধিক ব্যক্তি। অনুসন্ধানে জানাযায়, কলকাতার মানিলন্ডারিং চক্রের হোতা মুনকুট, এই মুনকুটের সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক চোরাকারবারি ও হুন্ডি ব্যবসায়ীর সাথে রয়েছে গভীর সম্পর্ক্য।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেকেই বৈধ ব্যবসার আড়ালে দ্বিধাহীন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে হুন্ডি ব্যবসা। প্রশাসনের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রযুক্তি না থাকায় ধরাছোয়ার বাইরে থাকছে অপরাধীরা। তবে এই মাধ্যমে টাকা সহজ উপায়ে প্রত্যান্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান অবৈধ বা রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ এ বিষয়ে ধরনা নেই অনেকের। এ অপরাধ থামাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ব্যাপারে পরার্মশ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। হুন্ডি ব্যবসার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ছে মারাত্মক প্রভাব। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য সর্বনাশ ডেকে আনলেও হুন্ডি চক্রকে প্রতিরোধ করতে না পারাটাই দূর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনৈতিক সমিক্ষা অনুযায়ী ফরেন রেমিটেন্স ইতিমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রন জরুরি বলে মনে করছেন ব্যাংকেরর শাখা ব্যাবস্থাপকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Reply