গোধূলি বেলার ধানমন্ডি লেক, যেন ‘জীবন্ত চুম্বনের কারখানা

ওয়ারিদ আহমেদ তরিনঃ ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ধানমন্ডি লেক প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিল বৃষ্টির পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের মাধ্যমে রাজধানীর একটি বড় অংশের জলাবদ্ধতা দূর করা, শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য বাড়ানো। কিন্তু, দিনের পর দিন হাজারও দর্শনার্থী এই ধানমন্ডি লেকের দৃশ্যপট দেখে তারা জীবন্ত রোবট হয়ে যায়, একি বাংলাদেশ না ইউরোপ আমেরিকার কোন সেক্স স্পট।

রাজধানীর উঠতি বয়সি তরুণ তরণীর মিলনমেলা বসে বিকাল বেলা। পশ্চিম আকাশে নীলিমামাখা সুর্য যখন হেলে তখন হাটার বাহনায় তরুণ তরণীদল নড়াচড়া করে, যখন সন্ধ্যার আলো আধার খেলা করে আকাশ আর ধরণীর বুকে তখন আরেকটি যৌবন সৃষ্ট নির্লজ্জ বেহায়াপনা চুম্বনের দৃশ্য খেলা শুরু হয়, লেকের ওভারব্রীজে দাড়িয়ে।

কয়েক শতাধিক স্কুলপড়ুয়া তরুণ তরুণী সরাসরি স্পর্শ করে একে অপরের নরম ঠোঁট, তারা জানেনা বা ভুলে যায় পাশে কে হেটে যায়। নয়তো বাংলাদেশ নামক একটা মুসলিম প্রধান দেশে বসবাস করছে। তাদের যেনো সময় নেই কারো দিকে থাকানোর, লজ্জা নামক শব্দটা তাদের কাছে অপরিচিত হয়ে যায়।

বয়ঃবৃদ্ধ আর ডায়বেটিস বা শারিরিক সুস্থতার জন্য হাটতে আসা চল্লিশউর্ধ্ব মানুষেরা যেনো থ বনে যায়। এসব দৃশ্যপট দেখে তাদের নিজেদের ও ঘৃনা হয়, এ সমাজ কৃষ্টি কালচার ঐতিহ্য আর সঃস্কৃতি কোনদিকে যাচ্ছে তা ভেবে। আমাদের যুব সমাজ ও উঠতি বয়সের তরুণ তরুণীরা কোনপথে পা দিচ্ছে?

তসলিমা নাসরিন যদি এসব বলে কিছু উগ্র মৌলবাদি তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। আর ধানমন্ডি লেকে যখন তরুন তরুণীরা জীবন্ত চুম্বনে রাজধানী ঢাকাকে হ্যাংক করে তখন কোথায় যায় এসব ফতোয়া।

বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর তালাশ, ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রী, খোঁজ, আন্ডারকভার, ফাঁদ ইত্যাদি অনুসন্ধানমুলক প্রোগ্রামে কপোত কপোতীর রাজিতে অন্দরমহলে যৌবন খেলা তাদের চোখে পড়ে! অথচ ধানমন্ডি লেকের এসব অনাচার পাপাচার বেহায়পনা আসেনা। খোলা আকাশে জনসম্মুখে সেক্সট্যান্ট তাজা দৃশ্যপট তাদের ক্যামেরা ধরেনা।

স্বাধীনতা নামক শব্দটার মানে- যে যেমন পারে তা করা নয়। স্বাধীনতা সেটাই দেশের স্বার্থে সমস্ত আইন মেনে নিরাপদে থাকার নাম স্বাধীনতা। আমাদের সমাজ আর রাষ্ট্রযন্ত্র কি তা দেখেনা। এসব তরুণ তরুণীর পিতা-মাতা কি উদ্দেশ্যে পড়ালেখা করায়?

dhlধানমন্ডি লেকে প্রতিদিন যেসব যুগল বন্দিরা লেকের ফুট ওভার ব্রিজ বা গাছের আড়ালে বসে থাকে তাদের বেশির ভাগেই স্কুল কলেজ ভার্সিটির ছেলেমেয়ে। তাদের মা বাবা কি জানেনা তাদের ছেলেরা কোথায় যায় আর হাওয়া খাওয়ার নামে চুম্বন খায়। আর তরুণীর ভেজা ঠোটে কোটি কোষের জিবের আস্তরণে যৌবন খেলার যেনো এক বিচিত্র প্রতিযোগিতামূলক সেক্স গেইম।

একটা ইতিহাস বহুল লোকেশনে, রাষ্ট্রনায়কের বাড়ির পাশে এসব কেমন জানি অস্বাভাবিক মনেহয়। সন্ধ্যার টেবিলে যাদের দরকার পড়ালেখায় মশগুল থাকার কথা, তারা ব্যস্ত ঠোটের পাতা ভিজাতে। কি আজব দেশ আমাদের।

বিশিষ্ট জনের অনেকের সাথে কথা বলেছি, সকলে মনে করেন সন্ধ্যায় আগে লেক খালি করা দরকার প্রশাসন কতৃক। তারপর যদিও যারা ধরা পড়বে ৩দিনের জেল। নিয়ম নীতি যদি জীবনের জন্য হয়, সমাজ সঃস্কৃতি মানুষের মুল্যাবোধ তৈরিতে কেন আইন প্রয়োগ হবেনা!

আমাদের দরকার বিদেশী কৌশল আর উন্নয়নের গোপন রহস্য। আমাদের তো দরকার হবেনা সেক্স কালচার। কেন আমরা সচেতন হয়েও এসব পাপাচার আর অনাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করিনা। দেশের জন্য যদি জীবন দেবার চেষ্টা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হয় তাহলে বাংলার সমাজ সঃস্কৃতি রক্ষা করা হবে বীর বিক্রমের মতো সাহসী নৈপুণ্য।

সূর্য পড়তে শুরু করলেই ভিড় বাড়তে থাকে লেকে। ধীরে ধীরে রঙ্গিনবাতিগুলো জ্বলতে শুরু করে। লেকের দৃশ্যপট ধারণ করে অন্য এক রূপ।সে রুপে ডুব দেয় সাহসী তরুণ তরুনী তাদের লিপ কিসে ডুব দিতে। লেকের দুপাশে বাংলাদেশের বিখ্যাত মানুষের বসবাস অথচ দিন দিন ঐতিহ্য হারাচ্ছে লেক।এসব তরুণ তরুণীর কৃষ্টিকালচারে তাদের মা বাবার সমান লোকেরা লজ্জায় মুখ লোকায় অথচ তারা নির্বিকার চুমু খেলায় লিপ্ত।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণ তরুণী ধানমন্ডি ৩২ লেকের এলাকাকে অসামজিক কাজের আখড়া বানিয়ে ফেলেছে।দিনের বেলায় অনেক বেশি লোকজন লেকে এলাকায় থাকার কারণে অসামাজিক কাজের হার কম হলেও সন্ধ্যার পর পরই শুরু হয় তরুণ-তরুণীদের অসামাজিক কার্যকলাপ।

বিশেষ করে পতিতাদের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ার মতো। আরও কিছু ধনীর বখে যাওয়া ছেলে মেয়েরা। প্রায়ই দেখা যায় গভীর রাতে গাড়ি নিয়ে কিছু তরুণ তরুণী মাতাল হয়ে ফিরে। বিভিন্ন ব্রিজের উপর অনৈতিক কার্যকলাপে মেতে ওঠে। গভীর রাতে লেকে লোকজন কম থাকে এবং নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যাও কম থাকার কারণে এসব অনৈতিক কাজ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কতৃপক্ষের এই বিষয়ের দিকে নজর রাখা উচিত বলে মনে করি। আমাদের দরকার দেশের উন্নতি, সাধারন মানুষের উন্নতি তবে বাংলাদেশ বদলাবে।কারো মুখের কথায় গ্রাম বা দেশ পাল্টায় না।

আধুনিকতা ও নাস্তিকতা আজকাল কেমন যেন ওতপ্রেতভাবে জড়িয়ে আছে৷ সময়ের সাথে আমিও নিজেকে আধুনিক বলে দাবী করি, কিন্তু আমি কি নাস্তিক..?? মোটেওনা..৷ হয়ত আমার মত অনেকেরও ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করা হয়না, হয়ত খামখেয়ালী, হয়ত ব্যস্ততা, হয়ত অনিচ্ছা প্রকাশ৷ উপরওয়ালা নিশ্চই কোন প্রতিদানের আশায় আমাদের সৃষ্টি করেননি..?? আমার বিশ্বাস মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়৷ ধর্ম যেখানে মানুষের জীবনবিধান, সেখানে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করা নিশ্চয়ই দোষের কিছু নয়,মানুষের সৃষ্টি ইবাদতে।

আমি বড় কোন চিন্তাবীদ কিংবা বড় কোন পন্ডিত নই, কিন্তু গতানুগতিক জীবন নিয়ে কথা বলার অধিকার অবশ্যই রাখি। লেকের কতিপয় যুবক যু্বতীর কাপুরুষোচিত এসব ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়, এবং ঘটনাগুলো জাতীর মেরুদন্ডহীনতারও যথেষ্ট প্রমান দেয়৷ ঘটনার দরুন সবাই পুরুষ জাতীকে যথেষ্ট ধুয়েও দিচ্ছেন, সুযোগ পেলে সবাই লাফাবে সেটাই স্বাভাবিক৷

একজনের স্টাটাস এ দেখলাম লিখেছে, নারী শাসিত সমাজে নারীরাই লাঞ্ছিত। সরকার প্রধান নারী বলে আসলেই কি সমাজ নারীদের হাতে হতে পারে। নারীদের অধিকার লঙ্ঘন হলে নারীরা তাদের পক্ষে বলে, পুরুষেরা বলে, গোটা সমাজ বলে৷ আর পুরুষের অধিকার লঙ্ঘন হলে কে বলে!!

আসলে দোষটা পুরুষদেরই,যখন কোন নারীজাতীয় ক্রাইসিস দেখা দেয় তখন কতিপয় পুরুষেরা গলাফাটাবে পরবর্তীতে তারাই তাদের হালাল করবে, আবার কতিপয় পুরুষ এত নারীপ্রীতি দেখাবে যে অন্য পুরুষরাও তাদের কাছে অমানুষ হয়ে যাবে, আর অপরাধকর্মে লিপ্ত জানোয়ারেরা পুরো পুরুষজাতীকে কলঙ্কিত করে নিজেদের বীরপুরুষ ভাববে৷ কিন্তু নিজেদের মর্যাদা নিয়ে ভাববে কি?আমি মোটেও নারীবিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে কথাগুলো বলছিনা, কিন্তু নারীদের কি কোন দায় নেই?

আধুনিকতার নামে সমাজ আজ এমন জায়গাতে পৌছেচে যে, যেখানে সমাজের নির্দিষ্ট কোন মানদণ্ড নেই, সম্পর্কের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে সবাই নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে যে সেখান থেকে নিচে তাকলে সব অদৃশ্যমানই লাগে, মেয়েরা এক্ষেত্রে কোন অংশে কম যায়না৷

অনেকেই অনৈতিক কাজ করতে বিব্রত হন না৷ ধানমন্ডি লেকে আড্ডা দেওয়ার দরুন চোখে অনেক কটুকর দৃশ্যও দেখতে হয়৷লেকের চিপা গুলোতে যখন নিজের বডি মাসাজ করতে ব্যাস্ত হয়, তখন কোথায় যায় তাদের সম্ভ্রম। নিজের স্বামীর সাথে নিশ্চয়ই করেন না।

হ্যা জানি, মেয়েরা, তোমরা নিজেদের জন্য সাজুগুজু করো, তোমাদের আত্ববিশ্বাস বাড়ানোর জন্য৷ কিন্তু সেটা যখন মাত্রা অতিক্রম করে তখন তা হয়ে যায় কামউদ্দীপক, আর সেটা যখন করোই তখন নিশ্চয়ই তা ছেলেদের আকর্ষিত করার জন্যই। আকর্ষিত পুরুষ তোমাদের দিকে ছুটবে সেটাই স্বাভাবিক, যদিও আমি সেটা সমর্থন করি না৷ আর তোমাদের মত কতিপয় নারীর জন্য অন্যরাও হ্যরাসমেন্ট এর শিকার হয়৷

তাই আগে নিজেদের অভ্যাস বদলাও, তারপর পুরুষ জাতীর উপর আঙ্গুল তুলো, এরপরও যদি কোন ফল না পাও, তখন সবাই তার প্রতিরোধ করবে। মাংস দেখলে পাগলা কুকুর দৌড়াবে তা স্বাভাবিক, নিজেদের চালচলন পরিবর্তন করুন তবে পুরুষের চোখ পাল্টাবে।

পরিশেষে ধানমন্ডি লেক হোক চিত্ত বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত কোন উচ্ছশৃংখল যুবক যুবতীর চুম্বনের তীর্থ স্থান যাতে না হয়। সেদিকে সব ধরনের প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।

newsbd71.com/?p=130227
নিউজবিডি৭১/ /আর/০৯ নভেম্বর, ২০১৬ 

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment