ফসলি জমিতে অবৈধ ইটভাটা

রাজশাহীর তানোরে ইট পোড়ানো আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে চার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বাঁধাইড় ইউপির গোয়ালপাড়া গ্রামের মধ্যে চার ফসলি জমিতে ‘পদ্মা’ নামের অবৈধ ওই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ফসলি জমিতে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করায় আশপাশের জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যহত ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ফলে ভাটার কালো ধোয়ায় লোকালয়ের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুন্দরপুর ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম আলু চাষের কথা বলে তানোর উপজেলার গোয়ালপাড়া মাঠে প্রথমে ৪ বিঘা ফসলি জমি ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে আরো প্রায় ২০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ২৪ বিঘা জমির ওপর অবৈধ ভাবে ‘পদ্মা’ নামের ইটভাটা স্থাপন করেছেন। স্থানীয়রা অবৈধ এই ইটভাটা স্থাপনে বাধা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁধাইড় ইউপির এক মেম্বার জানান, ভাটা মালিক বাঁধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করা হয়। একারণে ওই ভাটার আশপাশের জমির মালিকরা জিম্মি হয়ে কোন অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের জারি করা পরিপত্র (২০অক্টোবর/২০০৩) অনুযায়ী ইটভাটায় ১২০ ফুট উঁচু চিমনি স্থাপন বাধ্যতামুলক।

অথচ ওই ইটভাটায় মাত্র ৩০ ফুট উচু মানধাত্তা আমলের টিনের দুটি চিমনি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (৪ ধারার ৫ উপধারা) অনুযায়ী আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর ও ফল বাগানের আশপাশের ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ।

কিন্তু লোকালয় ও চার ফসলি জমিতে পদ্মা ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী কাঠ।সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হেনা বলেছেন, অবৈধ ভাটার নির্গত ধোঁয়া লোকালয় ও ক্ষেত-খামারে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আশপাশের আমগাছে মুকুল আসছে না।

ফসলের ব্যাপকহানী হচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। দুর্বিষহ হয়ে উঠছে জনজীবন। এছাড়াও ইটভাটায় শিশু শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।

স্থানীয়রা অবৈধ ভাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিন্তু প্রশাসন রহস্যজনক কারণে ভাটা বন্ধের ব্যাপারে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

এব্যাপারে পদ্মা ইটভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, সময় স্বল্পতার কারণে ইটভাটা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেন নি।

তবে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সকল কাগজপত্র সংগ্রহ হয়ে যাবে। কৃষি জমির পাশে ইটভাটা হলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবী করেন তিনি।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা: শওকাত আলী জানান, কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ইটভাটা স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ইউএনও।

http://eibela.com/article/tanore-illegal-brick-four-crop-land

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment