অতি সাধারণ এক সাংবাদিকের কথা-১৯

0

শেখ রেহানার ইন্টারভিউ করা যাবে তা খোদ অ্যাসাইনমেন্ট প্রদানকারী কালাম মাহমুদও নিশ্চিত ছিলেন না। আর মুস্তাফিজুর রহমান বলেছিলেন, এই ছেলে শেখ রেহানার কাছে ঘেঁষতেই পারবে না। কিন্তু এ অ্যাসাইনমেন্টে সফল হবার পর কালাম মাহমুদ নিশ্চিত হলেন, তার চয়েজ যথার্থ। আর মালিক মনে করলেন, এ জিনিস কাজে লাগবে! এব বিষয় পরে জেনেছি।

এদিকে, অন্য ঝামেলা চাপলো আমার ওপর। এবার ঝামেলা চাপালেন মালিক মুস্তাফিজুর রহমান নিজে। আমাকে একদিন ডেকে বললেন, ‘আনহে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছাবের একটা কাভার করে দেন।’ আমি একটু সতর্ক হলাম। কারণ উটকো চাপ নেয়া আমার ভালো লাগছিল না। আর যতকিছুই হোক, ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় কাভারেজে থাকেন। বিষয়টি আমার কাছে বাড়তি হেপা মনে হচ্ছিল। আমি বললাম, মুস্তাফিজ ভাই ভাইস প্রেসিডেন্টকে কীভাবে পাবো!

: শেখ রেহানাকে কিভাবে পেয়েছেন?

: সেতো আর রাষ্ট্রীয় প্রটেকশনে থাকে না।

: প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে পেলেন, সে তো রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে থাকে!

: মিজান ভাইর সঙ্গে আমার পুরনো রিলেশন আছে, তাছাড়া সে তৃণমূলের নেতা, প্রটোকলের ধার ধারে না। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট তো বিচারপতি ছিলেন, এই লোক আগেই তো ভাবে থাকতো; ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার পর এখন আছে মহাভাবে! আমি তো তার কাছে ঘেঁষতেই পারবো না।

আমার কথায় একটু বেকায়দায় পড়লেন মুস্তাফিজ ভাই। অকাট্য যুক্তি, খণ্ডানোর উপায় ছিল না তার। এ অবস্থায় তিনি অন্য লাইনে গেলেন। বললেন, ‘আরে ভাই এতো কিছু বুঝি না; আনহে হারবেন। হেতিরে দরকার, ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ওপেন করতে অইবো।’

আমার কাছে পরিষ্কার হলো, পত্রিকার জন্য নয়; ভাইস প্রেসিডেন্টকে দরকার তার অন্য ব্যবসার জন্য। অবশ্য পত্রিকা ব্যবহার করে মালিকের অন্য ধান্দা করার বিষয়টির সঙ্গে আমি আগেই পরিচিত হয়েছি ১৯৮৬ সালে সাপ্তাহিক আবির্ভাব সম্পাদক আবুল কাশেম মজুমদারদের মাধ্যমে। তিনি আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন সে সময়ের শিল্প উপমন্ত্রী মেজবাউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সাক্ষাৎকার নেবার জন্য। উপমন্ত্রীর বাসায় যাবার জন্য পল্টন মোড় থেকে সম্পাদক সাহেব একটি কারও ভাড়ায় নিয়েছিলেন। আবুল কাশেম মজুমদার এক পর্যায়ে সাপ্তাহিক আবির্ভাব থেকে দৈনিক সমাচারের সম্পাদক ও মালিক হয়েছেন। দৈনিক সমাচারের মালিকের কর্মচারী ছিলেন এই কাশেম মজুমদার। কর্মচারী থেকে তিনি মালিক হয়েছেন। দৈনিক সমাচারে অনেকের মতো আমিও চাকরি করছি। এখানেই মোস্তফা ফিরোজের সাথে আমার পরিচয়, তখন তিনি এ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ছিলেন; এখন তিনি টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।  তবে এই পত্রিকা কখনো আলোচনায় আসেনি, পাঠক টানতে পারেনি; অথবা পাঠক টানতেও চাননি কাশেম সাহেব। নিশ্চয়ই তিনি অন্য কিছু চেয়েছেন, পত্রিকা ছিল তার মোক্ষম হাতিয়ার। এবং তার চাওয়া সফল হয়েছে। পত্রিকা মালিকের অতি সাধারণ একজন কর্মচারী থেকে তিনি হয়ে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক; শিল্পপতি হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত। এতো কিছু হতে পেরেছেন তার লক্ষ্য ছিল বলেই। এজন্য তিনি তার পত্রিকা ব্যবহার করতে চেয়েছেন ও সফল হয়েছেন।

একই তরিকায় হাঁটছিলেন সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ মালিক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেছিলেন, সংযোগ স্থাপানের জন্য। তার লক্ষ্য এক ধাপ সফল হবার পর তিনি দৈনিক পত্রিকা বের করেছিলেন, দৈনিক রূপালী।  সাপ্তাহিকের মতো তার এ দৈনিকও সফল হয়েছিল। কিন্তু আরও উপরে ওঠার জন্য রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি, কিন্তু এবার ওঠার বদলে এক পর্যায়ে তার পতন হলো। রাজনীতিক পঙ্কিল পথে হেঁটে সংসদ সদস্য হবার পরও তার শেষ রক্ষা হয়নি। উল্টো বিএনপি সরকারের রোষাণলে পড়ে তার স্বপ্নের বিসিআই বন্ধ হয়ে গেছে, পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে তার, জীবনের শেষ সম্বল হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ; এ শোকে আত্ম হননের ঘটনাও ঘটেছে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

শেষতক ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি নুরুল ইসলামের সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রচ্ছদ রিপোর্ট তৈরি করার অ্যাসাইনমেন্ট আমার ওপর চাপলোই, এড়ানো গেল না। কিন্তু কাজে নেমে বিশেষ সুবিধা করতে পারছিলাম না। ফোনে কোনোভাবেই দায়িত্বশীল কাউকে কানেক্ট করা যায়নি। ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম শুনেই ফোন রেখে দিচ্ছিলেন। সে এক বিরক্তিকর অবস্থা। নিয়ম মাফিক কয়েকদিন ঘুরে কিছুই হলো না। তখন অন্য এক কৌশলে গেলাম।

খোঁজ খবর নিলাম ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারের কে কী করে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই জানা গেল, তার স্ত্রী জাহানারা আরজু কবি। যদিও তার কবিতা আমি কখনো পরিনি। আমার পড়া না পড়ায় অবশ্য কবির  কিছুই আসে যায় না। তবে তিনি কবিতা লেখায় আমার উপকার হয়েছে। স্ত্রীর কবিত্বকেই ভাইস প্রেসিডেনেটর কাছে পৌঁছানোর পথ হিসেবে বেছে নিলাম। ঘরের দরজা খুলতে না পারলে জানালা দিয়ে ঢোকার রেওয়াজের মতো। এবার আর কোনো ফোনটোন না। ভাইস প্রেসিডেন্ট অফিসে থাকাকালে তার বাসায় চলে গেলাম দুপুরের পর। গিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কবি জাহানারা আরজুর সঙ্গে দেখা করতে চাইলাম। আমাকে ইজ্জত করে নিয়ে বসানো হলো ভেতরে। কিছুক্ষণ পর আমাকে অতি ইজ্জতের সঙ্গে বিশেষ ড্রইং রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। একটু পরে এলেন ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী। তার কথা শুরু করার আগে সন্দ্বীপের কয়েকটি কপি তার সামনে রাখলাম। তিনি দৃষ্টিনন্দন কপিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখলেন। এ সময় বলাম, কবি হিসেবে আপনাকে নিয়ে একটা কাভার স্টোরি করতে চাই ম্যাডাম। একজন সাংবাদিকের মুখে ভক্তিপূর্ণ ‘ম্যাডাম’ শুনে খুবই খুশি হলেন তিনি। এর মধ্যে নাস্তা এলো। অনেকটা মায়ের মমতার আদলে তিনি প্লেটে তুলে দিয়ে প্রায় সকল আইটেম খাওয়ালেন। ৮৭ সালের এই স্মৃতি মনে হয় এই সেদিনের ঘটনা। তবে এতো আদরের মধ্যে আমার উদ্দেশ্য ভুলিনি। জাহানারা আরজুর সঙ্গে কথা বলার জন্য বন্ধের দিন নির্ধারণ করলাম যাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট বাসায় থাকেন।

নির্ধারিত দিন কবি জাহানার আরজুর সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা কথা বলে একটি কাভার স্টোরি করার মতো উপাদান নিলাম। একদম শেষে মূল লক্ষ্যে পা বাড়ালাম। বললাম, আপনার ওপর যে স্টোরি পেয়েছি তাতো তো এখন স্যারের কমেন্ট নিতে হবে।

: কী বলেন! তা কী করে হয়? তিনি তো এভাবে কথা বলতে পারবেন না।

: তা হলো তো ম্যাডাম, এতোক্ষণ আপনার যে সময় নষ্ট করলাম, তা তো বিফলে যাবে!

আমার কথা শুনে জাহানারা আরজু একটু ভাবলেন। এরপর বললেন, একটু বসেন। এই বলে তিনি ভেতরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললেন, আপনি একটু অপেক্ষা করতে পারবেন না, সাহেবকে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পারমিশন নিতে হবে।

মুখে বললাম, পারবো ম্যাডাম। অন্তরে বললাম, এজন্যই তো এসেছি মা জননী! প্রায় আধাঘণ্টা পর বিচারপতি এ.কে.এম নূরুল ইসলাম এলেন। তিনিও খুব ভদ্রলোক ছিলেন। আবার ঘণ্টা দুই কথা হলো। এক পর্যায়ে মনে হলো তারা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কেউ নয়, আমিও অতি সাধারণ এক সাংবাদিক নই; তাদের পরিবারেরই একজন। কেবল অনেক দিন যোগাযোগ ছিল না, এই যা! সাপ্তাহিক সন্দ্বীপে ১৯৮৭ সালের ২০ এপ্রিল আমার আইটেমটি প্রকাশিত হলো ‘কাব্য সাহিত্য এবং রাজনীতিতে অনন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট পরিবার’ শিরোনামে।

প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও স্ত্রীর সূত্র ধরে আলাপের সূচনা করে বিয়ে-সংসার থেকে সকল বিষয়ই খোলা মেলা কথা বলেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলাম। বাদ যায়নি স্বাধীনতার পর তের মাস জেল খাটা এবং বাড়ির নামকরণ প্রসঙ্গও। সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ থেকে উদৃত করা যায়, ‘বাড়ির নাম কবিতা অঙ্গন কে দিয়েছে?’

: আমি।

: কেন, আপনি কি কবি?

: না, আমি ঠিক কবি নই, আমার স্ত্রী কবি। তাছাড়া আমি তাকে অনেক সময় কবিতা বলে ডাকি।”

দেশ হানাদার মুক্ত হবার দশ দিন পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।  এ প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করতে পারেন বা ‘নো কমেন্ট’ বলে এড়িয়ে যেতে পারেন। ধন্যবাদ বলে উঠে যেতে পারেন, অথবা জেনারেল নূরউদ্দিনের মতো ওভারস্মার্ট বলে গালি দিতে পারেন। নানান আশংকা বিবেচনায় নিয়ে একটু ঘুরিয়ে বললাম, আপনার পরিবারের ওপর নেমে আসা সবচেয়ে বড় দুর্যোগ কোনটি?” কৌশলে বেশ কাজ দিল। অথবা তিনি মোটেই জটিল লোক ছিলেন না। হয়তো সরাসরি প্রশ্ন করলেও তিনি উত্তর দিতেন। এরপরও আমার ঘুরানো পেঁচানো প্রশ্নের উত্তরে বিচারপতি নূরুল ইসলাম বললেন, ‘বড় ধরনের দুর্যোগ নেমে আসে ৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর। নিরাপত্তার কথা বলে আমাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে ১৩ মাস থাকতে হয়। এ সময় পরিবারের ওপর নানান রকম বিপর্যয় নেমে আসে। এ তের মাস পরিবারের প্রতিটি সদস্য অমানবিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। অর্থিক টানাপোড়েন তো ছিলোই।’ অপর এক প্রসঙ্গে বিচারপতি ইসলাম বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ চলাকালে ন’মাসে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের বাইরে ও ভিতরে অবস্থানকারী সকলেই মুক্তিযোদ্ধা। ভিতর থেকে যারা কাজ করেছেন তাদের ঝুকি নিতে হয়েছে বেশি।’

টিক্কা খানের শপথ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘টিক্কা খান গভর্নর হয়ে এলে আমরা সবাই তাকে ওথ না দেবার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেই। অবশ্য পরে প্রবল চাপের মুখে বি.এ সিদ্দিকীকে শপথবাক্য পাঠ করাতে বাধ্য করা হয়।’ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মূলায়ন করতে বলা হলে সামরিক সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট’র পদে থেকেই বিচারপতি নূরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ঐতিহাসিক সত্য যে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার অগ্রনায়ক। তাঁকে কেন্দ্র করেই স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। তিনি বিরাট হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। অবশ্য এই বিরাট হৃদয়ের জন্যই অনেকে তাতে ভুল বোঝাবার সুযোগ পেয়েছে। তিনি অত্যন্ত বন্ধু বৎসল ছিলেন, পুরনো বন্ধুত্বকে মূল্য দিতেন।’

কেবল রাজনৈতিক ও সৃষ্টি কর্ম নয়; ব্যক্তিগত বিষয়ও কথা হয়েছে সেদিন। বিয়ে সম্পর্কে এক প্রশ্নে উত্তরে ইসলাম পত্নি জাহানারা আরজু বলেন, ‘বলতে পারেন আমি আমার শাশুড়ির মনোনীত।’ প্রশ্ন: কেবল মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত, নাকি আপনাদেরও পছন্দ-টছন্দের ব্যাপারও ছিলো? এ প্রশ্নে ভাইস প্রেসিডেন্ট লাজুক একটু হেসে বলে ছিলেন, “উভয়েরই পছন্দ ছিলো…”

এ সাক্ষাৎকার প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট উদ্বোধন করলেন বিসিআই-এর একটি শাখা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিজানুর রহমান চৌধুরী বিসিআই-এর ১৫তম শাখা উদ্বোধন করেছিলেন। একের পর এক শাখা এভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা উদ্বোধন করার ফলে নতুন এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনআস্থা বেড়ে গিয়েছিলো; দ্রুত ফেঁপে-ফুলে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু  শেষমেশ সবই তলিয়ে গেল রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার চোরা বালিতে। অবশ্য নিজে তলিয়ে গেলেও এই চোবালির উপর দাঁড়িয়েই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তার ছেলে মাহফুজুর রহমান মিতা, হয়েছেন সংসদ সদস্যও।

লেখক: মাই টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক

ছবি: সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ-এর কাভার পেজ, শিল্প উপমন্ত্রীর সঙ্গে গদগদ সাপ্তাহিক আবির্ভাব সম্পাদক কাশেম মজুমদার, বিসিআই-এর একটি ব্রাঞ্চ উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী মিজান চৌধুরী, পাশে মুস্তাফিজুর রহমান।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ