তিন রাজ্যের ঘুম কেড়ে নিলেন এই মহিলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরনে অতি সাদামাটা পোশাক৷ পায়ে ছেঁড়া জুতা৷ গায়ে জড়ানো মলিন চাদর৷ একঝলক দেখলে মনে হবে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না জোটা কোনও দরিদ্র পরিবারের বধূ৷ কিন্তু এমনটা ভাবলে সম্পূর্ণ ভুল করবেন৷ কারণ এই মহিলাই লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা-রূপো-হিরের মালিক! পুলিশের খাতায় সে ‘মোস্ট ওয়াটেন্ড ডাকাত-রানি’!

শেখেরা বিবি বেশ কয়েক বছর ধরে ঘাঁটি গেড়েছিল মালদহের কালিয়াচকে৷ সেখানে বসেই গড়ে তুলেছিল তার গ্যাং৷ দলের সর্দার সে নিজেই৷ সঙ্গী তার দ্বিতীয় স্বামী আবদুল কাশিম৷ শুধু এ রাজ্যই নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড পুলিশের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল এই ডাকাত দম্পতি৷ অবশেষে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল শেখেরা এবং তার দলবলকে৷ আর ধৃতদের জেরা করতেই চক্ষু

চড়কগাছ জেলার পুলিশকর্তাদের৷ ফেরিওয়ালা সেজে সাইকেলে করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ‘হরেকমাল’ বিক্রির নাম করে এলাকাবাসীর নানা তথ্য জোগাড় করত কাশিম৷ আর কাজের অছিলায় গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে হাঁড়ির খবর সংগ্রহ করা কাজ ছিল স্ত্রী শেখেরার৷ এভাবেই তৈরি হত ব্লুপ্রিন্ট৷ ছক সাজানো হয়ে গেলেই চক্রের বাকিদের নিয়ে চলত সশস্ত্র অপারেশন৷

জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, শেখেরা বিবির নেতৃত্বে বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ১৭টি বড় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ধৃতরা৷ ডাকাতিতে বাধা পেলে মিলত ‘উচিত শিক্ষা’৷ রেহাই পেত না দুধের শিশুরাও৷ গত সেপ্টেম্বরে রাজমহলে এক বাড়িতে ডাকাতি চালানোর সময় কেঁদে উঠেছিল বাড়ির শিশু৷ ওই কান্না শুনে পাছে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে যায়, তাই শিশুটিকে গলা টিপে খুনের চেষ্টা করা হয়৷ শিশুটি এখনও ঘোরের মধ্যে৷

গত ২৬ ডিসেম্বর দলটি পাকুড়ে এক বাড়িতে হানা দিয়ে পনেরো লক্ষ টাকার হিরে জহরত ডাকাতি করে চম্পট দেয়৷ গত মাসে আবার সাহেবগঞ্জে ডাকাতিতে বাধা পেয়ে এক ব্যক্তির হাত কেটে নেয় ডাকাত দলের সদস্যরা৷ ধৃত ডাকাত দলটির সদস্য জাহাঙ্গির আলম, মহম্মদ রফিকুল শেখ, সামসুল শেখ, আবদুল কাশিম ও তার স্ত্রী শেখেরা বিবি এবং হোসেন শেখ ও মেহতাব শেখকে জেরা করতে এসেছেন বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পুলিশকর্তারা৷

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে পঁচিশ কেজি গাঁজাও৷ উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অমিতকুমার ভরত রাঠোর বলেছেন,“ ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে৷ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ৷”-সংবাদ প্রতিদিন

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment