শিবগঞ্জে বাল্য বিয়ের দায়ে বর ও কনের মা-বাবাসহ ৫ জনের জেল

সকাল বেলা বিয়ের কোন আয়োজন ছিল না। তবে বিয়ের আলোচনা আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

শুধু প্রশাসনকে না জানানোর কৌশল হিসেবেই দুপুরের পরেই বর-কনের পক্ষে মাত্র কয়েকজন মিলেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক বর-কনের বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য উভয় পক্ষ প্রস্তুত ছিল। কাজিকে ম্যানেজ করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল অন্য একজনকে। কিন্তু সকল কৌশল মুহুতের মধ্যেই গুড়িয়ে গেল। ঘটনাটি ঘটেছে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের জাইগীর গ্রামে।

সূত্র মতে, কানসাট ইউনিয়নের আবদুস সালামের মেয়ের নাদিরা (১২) সাথে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেবিনগর গ্রামের শুকুরুদ্দিনের ছেলে পলাশ (১৯) এর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সময় ছিল আজ সোমবার বিকেলে। উপজেলা প্রশাসন গোপনে জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কল্যাণ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে কনের পিতার বাড়িতে উপস্থিত হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়েই বিয়ে আসরে বসা বর কনের পক্ষের অনেকেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শেষ রক্ষা পায়নি বর-কনের কয়েকজন আত্বীয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কল্যাণ চৌধুরী জানান, বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সোমবার বিকেলে কানসাট ইউনিয়নের জাইগীর গ্রামে কনের পিতার বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেবিনগর গ্রামের বাসিন্দা বর পলাশ (১৯) এর মা শিউলি বেগম, পিতা শুকুরুদ্দিন, চাচা সারোয়ার রহমান, জাইগীর গ্রামের বাসিন্দা কনের মা সায়েরা ও কনের পিতা আবদুস সালামকে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ১৫ দিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়।

এ সময় বর-কনের উপযুক্ত বয়স না হওয়ায় তাদের সাজা দেয়া হয়নি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন, সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস, শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। এর আগে রবিবার উপজেলার দূলর্ভপুর ইউনিয়নের দামুদিয়াড় গ্রামে বাল্য বিয়ের দায়ে জিন্নুর রহমানের স্ত্রী ও বরের মা মোসাঃ সমিজা বেগম এবং রবিউল ইসলাম রবুর স্ত্রী ও কনের মা বেবি বেগমকে ৭ দিনের জেল দিয়েছিল ভ্রাম্যমান আদালত।

SomoyerKonthosor

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment