পাশাপাশি দাফন করা হল স্বর্ণালঙ্কারের জন্য খুন হওয়া দুই শিশুকে

0

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী ভবানীপুর-ফতেপুর মহল্লায় পরনের স্বর্নালঙ্কারের জন্য খুন হওয়া দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন মেঘলা (৭) ও মেহজাবিন আক্তার মালিহাকে (৬) নামোশংকরবাটি ডিহিপাড়া গোরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুমাইয়ার বাবা মিলন রানা মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে পৌঁছান। এরপর দুপুর ২টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় এলাকায় আবারও আবেগময় পরিবেশ ও হৃদয় বিদারক দৃশ্যর অবতারণা হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে ওই গোরস্থানেই দাফন করা হয় মেহজাবিনকে। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী লাকী খাতুন (২২) বুধবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেবার পর ও তদন্তে ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রধান অভিযুক্ত লাকী খাতুন দুই শিশুর পরনে থাকা ১২ আনা ৩ রতি ওজনের স্বর্নের চেইন ও কানের দুল ২১ হাজার টাকায় শহরের ঘাটালপাড়ার যে দোকোনে বিক্রি করেছিল সেই প্রীতি জুয়েলার্সের মালিক মিজানুর রহমান পলাশকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সুমাইয়া খাতুনের লাশ দাফনের জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার আগে বাবা মিলন রানা (বাঁয়ে) ও চাচা মো. রিপন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সুমাইয়া খাতুনের লাশ দাফনের জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার আগে বাবা মিলন রানা (বাঁয়ে) ও চাচা মো. রিপন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ওসি আরও বলেন, তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্য কোন ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। যত দ্রুত সম্ভব ঘটনায় প্রকৃত জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদানে কাজ করছে পুলিশ।

জানা গেছে, দেনাগ্রস্থ লাকী খাতুন তার শিশু কন্যা ইলমার (৪) সাহায্যে তার খেলার সাথী প্রতিবেশী দুই শিশুকে স্বর্নালঙ্কারের লোভে বাড়ীতে ডেকে নেয়। পরে শিশু ইলমাই অনেক গুরুত্ত্বপূর্ন তথ্য প্রকাশ করে যা দ্রুত তদন্তে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে সুমাইয়া খাতুন মেঘলা ও মেহজাবিন আক্তার মালিহা দুই জনেই স্কুল থেকে বাড়ী ফিরে বাইরে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। তিনদিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বস্তাবন্দী মরদেহ প্রতিবেশী লাকী খাতুনের শোবার ঘরের খাটের নীচ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুই শিশু স্থানীয় ছোটমনি বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় ওই দিনই মেহজাবিন আক্তার মালিহার পিতা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন যা জোড়া হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন লাকীসহ পাঁচজন। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সামান্য স্বর্নালঙ্কারের জন্য প্রতিবেশীর হাতে এক সাথে দুই শিশু অপহরণ ও খুন হবার বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিভাবকরা ভীত ও আতংকিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ওই এলাকায় আগেও শিশু অপহরণ ও হত্যার একাধিক ঘটনা থাকায় বেশী চিন্তিত হয়ে পড়েছে মানুষ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ