বিবাহিতরা কি কারণে তরুণের প্রেমে মগ্ন থাকেন ?

এখন হরহামেশাই দেখা যায় কমবয়সী একজন তরুণ প্রেম করছেন বয়সে অনেকটা বড় কোন বিবাহিত নারীর সঙ্গে। আজকাল এ বিষয়টি খুব দেখা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা পরকীয়া ধরে নেয়া হয়। ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধাই মানে না এটা সত্য। বয়সে বড়, ডিভোর্সি কিংবা বিধবা একজন নারীর সাথে কোন তরুণের প্রেমের সম্পর্ক সমাজ সমালোচনার চোখে দেখলেও আসলে তেমন অন্যায় নেই তাতে।

কিন্তু প্রেমটা যখন বয়স্কা বিবাহিত নারীর সাথে হয়? অবশ্যই নৈতিকতার একটা প্রশ্ন চলেই আসে। স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও যখন প্রেম নিবেদন করছে একজন কমবয়সী তরুণ, নারী হয়তো নিজেকে সংবরণ করতে পারছেন না। কিন্তু একটি তরুণ কেন প্রেমে পড়ে এমন একজনের, যেখানে চাইলেই সে কোনো তরুণীর সঙ্গে প্রেম করতে পারে-

অনেক তরুণই কিশোর বয়স থেকে বয়সে একটু বড় নারীদের নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগে থাকেন। দেখা যায় খুব কম বয়সে কোন আপা বা আনটির প্রেমে পড়ে যায়। সেই প্রেমে সফল হতে না পেরে ফ্যান্টাসির পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকে। আর তাতে ইন্ধন যোগায় পর্নোগ্রাফির মতো অসুস্থ বিষয়টাও। কিশোর থেকে তরুণ হতে হতে ছেলেটির ফ্যান্টাসির পরিধিটা আরও বাড়ে। তার তখন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিবাহিতা নারীদেরকে আক্ষরিক অর্থেই বেশী আকর্ষণীয় মনে হয়।

সত্যিকারের ভালোবাসার কোন বয়স, ধর্ম, জাত, হিসাব-নিকাশ নেই। এমন ভালোবাসা যে কারো জীবনে হতে পারে আর যখন-তখন হতে পারে। আজকাল সত্যিকারের ভালোবাসার দেখা পাওয়া দুর্লভ হলেও এটা হতেই পারে যে শত পার্থক্য সত্ত্বেও মানুষ দুজন আসলেই নিজেদের গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেন। এক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্নটা উঠতেই পারে। তবে জবাবটাও আপেক্ষিক, জীবন থেকে জীবনে বদলে যায়।

আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই নায়িকা, বিশেষ করে বলিউডের নায়িকাদের দেখে বড় হয় কিশোর-তরুণরা। আর সেই বয়স থেকে বয়সে বড় নায়িকাদের প্রতি তীব্র আকর্ষণ জন্মে যায়। সেই আকর্ষণের আবেদন পূরণ করতেই বয়স্কা বিবাহিতা নারীদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তাঁরা।

একজন বয়সে বড় বিবাহিতা নারী নিঃসন্দেহে কাক্সিক্ষত দিক থেকে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। আর এই বাড়তি অভিজ্ঞতার খোঁজে অনেক ছেলেই মনে করে প্রথম আকাক্সক্ষার সাথী হিসাবে একজন বিবাহিতা নারীই ভালো। বয়সে বড় হলেও এক্ষেত্রে অসুবিধা হয় না কোনো। এই অসুস্থ চিন্তা থেকে এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বেশিরভাগ তরুণ।

সব ক্ষেত্রে যে একেবারে পুরুষেরই দোষ, তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই নারী নিজের দুঃখের কথা শুনিয়ে কিংবা নানান রকম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে তরুণটিকে ফাঁদে আটকে ফেলে। এবং এমন অনেক ক্ষেত্রেই ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে বোঝার পরও তরুণটির কিছুই করার থাকে না।

একজন বয়সে বড় বিবাহিতা নারীর সাথে প্রেম ও যৌন সম্পর্কে জড়ানোর সবচাইতে বড় সুবিধা হ”েছ দায়িত্ব নেয়ার কোন দায় থাকে না। যতদিন ইচ্ছা প্রেম হলো, ইচ্ছা না হলেই স্বামী-সন্তানের দোহাই দিয়ে ছেলেটি সরে যেতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রেই এমন সম্পর্ক পরিণতির দিকে যায় বা ছেলেটি সাহস দেখায় আরেকজনের স্ত্রীকে বিয়ে করার।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment