বইমেলায় মানিকের ‘সাংবাদিক সাংঘাতিক’

0

বাংলা একাডেমির বইমেলায় এসেছে সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংবাদকর্মী আমিরুল মোমেনীন মানিকের নতুন বই ‘সাংবাদিক সাংঘাতিক’ নিয়ে পাঠক মহলে তৈরী হয়েছে ব্যতিক্রমী কৌতুহল। । বইটি ঘিরে লেখক বেশ কিছু প্রশ্ন ছুঁড়েছেন পাঠক মহলে।

প্রশ্নগুলো হলঃ আমিরুল মোমেনীন মানিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে কেন ছাপা হলো চলচ্চিত্র পরিচালক এফআই মানিক নাম ও ছবি দিয়ে ? ৫ কোটি টাকা ঘুষের অফার কেন ফিরিয়ে দিলেন এক সাংবাদিক ? সাংবাদিক কখন সাংঘাতিক হন? বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভির কিছু সংখ্যক জেলা প্রতিনিধি বেতন না পেয়েও গাড়ি নিয়ে চলেন, কিভাবে সম্ভব ? কতিপয় সাংবাদিকের প্রশ্রয়ের কারণে বন্ধ হচ্ছে না অনিয়ম, কারা তারা ? রাজনীতি করা ছাড়া সাংবাদিকতার পরিচয় কেন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে ? টেলিভিশনের টক-শো এখন পরিণত হয়েছে ক্যাশবাক্সে, কেন?

‘সাংবাদিক সাংঘাতিক’ বইটিতে সাংবাদিকতা পেশার ঘাত-প্রতিঘাত, উত্থান-পতন ও নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন এ লেখক। সাংবাদিকদের নিয়ে সমাজের নেতিবাচক ধারনাকেও তিনি সামনে এনেছেন দারুণভাবে। নিজে একজন পেশাদার সাংবাদিক হবার কারণে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই লিখেছেন এই বই। সহজ ভাষা ও উপমা সমৃদ্ধ এ বইটি ভালো লাগবে সবশ্রেণির পাঠকের।

‘সাংবাদিক সাংঘাতিক’ বইটিতে তিনি, বকলেসহীন শৈশব, নাম বিভ্রাটঃ ছাগল সাংবাদিকতা, ধাপ্পাবাজি, পাঁচ হাজার থেকে পাঁচ কোটি, সাংবাদিকের আয় রোজগার, তান্ত্রিক মা তান্ত্রিক বাবা, সাংবাদিক যখন সাংঘাতিক, জাতে উঠা, দলবাজি-ছালবাজি, ঘুষ নয় কমিশন, আমাদের হারামজাদা নীতিবোধ, ইঁদুরের ধানে পিঠার স্বপ্ন ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ।

সাংবাদিক-সাংঘাতিক, প্রকাশ করেছে কালো প্রকাশনী । বিক্রয় মূল্য ১১৫ টাকা। আর পাওয়া যাচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৭৩ নম্বর স্টলে। পাশাপাশি তাঁর আলোচিত বই ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক’ এর তৃতীয় সংস্করণও পাওয়া যাচ্ছে একই স্টলে। এছাড়া দোয়েল প্রকাশনী থেকে বাজারে এসেছে গায়ক নচিকেতাকে নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক অণুউপন্যাস ‘আগুনপাখি’। এটি পাওয়া যাচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩২৮ নম্বর স্টলে।

ইতোমধ্যে আমিরুল মোমেনীন মানিকের ৯টি বই বেরিয়েছে। সমাজের অসঙ্গতি ও বাস্তবতা তিনি তুলে ধরেন সমকালীন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে। তাঁর লেখা অন্য বইগুলো হলো: সুর-সঞ্চারী (২০০২), ইবলিস (২০০৫), ব্লাডি জার্নালিস্ট (২০০৮), বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক (২০১২), রাজনীতির কালো শকুন (২০১৩), বঙ্গবীর এক্সপ্রেস (২০১৪), জনচাকর (২০১৫), মুখোশপরা মুখ (২০১৫), খবরের ফেরিওয়ালা (২০১৬)। ২০১২ সালের বইমেলায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক’ তরুণদের মধ্যে সর্বোচ্চ বিক্রিত বই।

আমিরুল মোমেনীন মানিক ইতোমধ্যে জীবনমুখী ও ব্যতিক্রমী গানের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরী করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৮টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। অবাক শহরে [ ২০১৩], আয় ভোর [২০১৫] ও মা [২০১৫]-এই ৩টি গানের এ্যালবামের মাধ্যমে পরিচিতি পান মানিক। নচিকেতার সঙ্গে তাঁর গাওয়া গান ‘আয় ভোর’, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বেশ কয়েকটি এ্যাওয়ার্ড। উল্লেখযোগ্য হলো: রয়টার্স মেকিং টিভি নিউজ এ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড, উদীচী ইতিহাস প্রতিযোগিতা পুরস্কার, সাঁকো এ্যাওয়ার্ড, ভিন্নমাত্রা এ্যাওয়ার্ড, শের-ই বাংলা স্বর্ণপদক, আরশীকথা সম্মাননা (ত্রিপুরা, ভারত), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি লেখক সম্মাননা।আমিরুল মোমেনীন মানিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের স্থায়ী সদস্য।

বর্তমানে আমিরুল মোমেনীন মানিক মাই টিভির বার্তা সম্পাদক। সাংবাদিকতার বাইরে টক-শো উপস্থাপনা এবং খবর পাঠ করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ