সরকার ৯ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে দ্রুতগতিতে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

সংবাদপত্র কর্মীদের বেতন-ভাতার নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনে কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকে এই ওয়েজ বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারি ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেসওয়ার্কার্স প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়সভায় তথ্যমন্ত্রীএসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রস্তাবে আমরা নীতিগতভাবে স্বীকৃতি দিয়েছি। সরকার উদ্যোগ নিলেও এটা মূলত সাংবাদিক, কর্মচারীএবং মালিকপক্ষ-এই ত্রিপক্ষীয় একটা ব্যবস্থা।

একজন বিচারপতি ওয়েজবোর্ডে নেতৃত্ব দেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচারপতি সুবিচার করার চেষ্টা করেন। সেখানে আমাদের তরফ থেকে বিচারপতিকে চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। বাকিরা কিন্তু আমাদের হাতে নেই। বাকিটা সাংবাদিক, কর্মচারী, শ্রমিক, মালিকপক্ষ প্রতিনিধি দেবেন, সেটাকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটা আইনগত রূপ দেবো যে, এরা ওয়েজ বোর্ডের সদস্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই সদস্যরা ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়েজ বোর্ডের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ওয়েজ বোর্ড গঠনের যে প্রস্তাব এসেছে। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক দূর এগিয়েও গেছি। আমরা আশা করছি, অতিদ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে তারা (ওয়েজবার্ড) কাজ শুরু করতে পারবে।

হাসানুল হক বলেন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন, নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এই দুটি সংগঠনের প্রতিনিধি আমাদের দফতরে জমা হয়নি। এই প্রতিনিধি দেয়ার দায়িত্ব তাদেরই। বাকিদের মধ্যে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার্স-তাদের প্রতিনিধি দিয়েছেন। কাজটা কিছুদূর এগিয়ে গেছে। বাকি থাকলো বিচারপতি নিয়োগ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার পতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো চূড়ান্ত করে পাঠায়নি। প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত করলে আমরা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবো। ওয়েজ বোর্ড গঠনের আইনগত বিধান অনুসারে আমরা যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নাম দিতে অনুরোধ করেছি, নাম দিচ্ছেন। নাম দেবেন না বলে কেউ বলেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেইদিক থেকে আমি মনে করি, নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তার মানে কার্যক্রম শুরু করার দ্বারপ্রান্তে আছে।

মন্ত্রী বলেন, বিকাশমান ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন ও কমিউনিটি রেডিও এবং এফএম রেডিওতে যারা কাজ করছেন, তাদের বর্তমানে ওয়েজ বোর্ডের বিধানে আনতে পারছি না। সবার দাবি হচ্ছে, এবার যেন তাদের অন্তর্ভূক্ত করি।

ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ওয়েজ বোর্ডের আওতায় আনতে অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রীবলেন, কিভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে আমরা ওয়েজ বোর্ডের আওতায় নিয়ে এসে একই ওয়েজ বোর্ডে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়; এটার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, এটা করতে আইনে হাত দিতে হবে। সেটা বড় কথা নয়। মানুষের জন্য সব করা যায়। নীতিগতভাবে তাদেরকে (ইলেকট্রনিক মিডিয়া) ওয়েজ বোর্ডে আনতে আমরা নীতিগতভাবে সম্মত।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment