আপনি কি ভুল রাস্তায় হাঁটছেন….?

প্রাচীনকাল থেকে এক বিশ্বাস চালু আছে যে আমাদের চারপাশে যা ঘটে তা মহাজাগতিক নিয়মে। এমনকী আমাদের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটলেও নাকি সংকেত দেয় এই মহাজাগতিক নিয়ম। এমনই কিছু সাবধানবাণী যা নাকি আসলে মহাজাগতিক সংকেত।

১. মহাবিশ্বের সাবধানবাণী

একই খারাপ জিনিস বারবার ঘটতে থাকবে। মনে হতেই পারে ভাগ্যটা কী খারাপ, একই জিনিস বারবার ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু, একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন। কারণ, একই খারাপ জিনিস যখন বারবার ঘটে যায় তার মানে এটা মহাবিশ্বের সাবধানবাণী। আপনার সিদ্ধান্ত নিতে বা যে পরিস্থিতিতে বিচরণ করছেন তাতে কোনও সমস্যা আছে। মহাজাগতিক বিশ্ব হয়তো আপনাকে সাবধান করার চেষ্টা করছে যে আপনি আপনার পথে হাঁটছেন না।

২. ঘন ঘন আঘাত পাওয়া

উল্টো-পাল্টা জায়গা আঘাত পাওয়া। কখনও কঁনুইয়ে জোর গুঁতো খাচ্ছেন তো পরক্ষণেই পায়ের আঙুলে আঘাত পেলেন। এটা আসলে মহাবিশ্বের সংকেত যা আপনাকে সাবধান করার জন্য। ঘনঘন এমন আঘাত পেলে চলাফেরায় দ্রুততা কমান। শান্ত মাথায় ভাবুন। কিন্তু, ধীরে-সুস্থে চলাফেরা করুন।

৩. ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়া

ঠিক করে খেয়াল রাখতে পারছেন না। সবসময়ই কিছু না কিছু ভুলে যাচ্ছেন। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। বড় জিনিস মানুষ খুব সহজেই মনে রাখতে পারে। কিন্তু, সমস্যা হয় ছোট জিনিস খেয়াল রাখা নিয়ে। এই প্রবণতাকে হাল্কাভাবে নেবেন না। কারণ, এর মানে আপনার নিজের মধ্যে মনসংযোগের কোনও সমস্যা হচ্ছে।

৪. অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া

প্রিয় কোনও জিনিস ভেঙে ফেলা বা একের পর এক ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও কিন্তু আপনার পক্ষে সাবধান হওয়ার সংকেত হতে পারে। এটা নাকি আসলে মহাবিশ্বের সাবধানবাণী। এর মানে আপনি এমন এক রাস্তায় চলেছেন যেখানে এমন সব ঘটনা ঘটেই যাবে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরনোর আদর্শ উপায় হল সাবধানে প্রিয় জিনিসগুলো ব্যবহার করা এবং ঘনিষ্ঠজনেরা আপনার সম্পর্কে কী বলছে তা শোনা। আর দরকার ঠান্ডা মাথায় আত্মবিশ্লেষণ।

৫. রোজ কোন না কোন কাজে দেরি করা

এমন স্বভাবের বশবর্তী হলে ভেবে দেখুন। কারণ, এটা মহাবিশ্বের সাবধান সংকেত। কেন বার বার এমন হচ্ছে? ভেবে দেখুন। সব কাজেই দেরি করে ফেলা আপনার ভাবমূর্তিতে কালো ছাপ ফেলতে পারে। তাই বলে এমন তাড়াহুড়ো করবেন না যাতে পাগল পাগল লাগে। স্বাভাবিক গতিতে কাজ করুন। আর চেষ্টা করুন সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছতে।

৬. চারপাশের পরিবেশে তিতিবিরক্ত হয়ে পড়া

মনের মতো পরিবেশ নেই। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বেরিয়ে আসতে চাইছেন এমন পরিবেশ থেকে, কিন্তু পারছেন না। আসলে এটা হল মহাবিশ্বের সংকেত, যেটা বলার চেষ্টা করছে আপনি যে পথে রয়েছেন সেটা আসলে ভুল। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মনের উপরে। তাই এই পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য মানসিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করাটা জরুরি।

৭. ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া

সমানে সর্দি-কাশি এবং জ্বরে ভুগছেন। এটাও কিন্তু, মহাবিশ্বের এক সংকেত যে আপনি সঠিক রাস্তায় নেই। পারলে ভাল করে চিকিৎসক দেখান। তার পরামর্শ মতো ওষুধ খান।

৮. সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা

এমন কিছু বিষয় যা আপনি এড়িয়ে চলতে চাইছেন। এই বিষয়ে আপনি কোনও কথা বলতে রাজি হচ্ছে না। এই ধরনের স্বভাব প্রমাণ করে দেবে আপনি ভুল করছেন। আপনার এই পালায়নপর মনোভাব প্রকাশ হয়ে পড়াটা আসলে মহাবিশ্বের সাবধানবাণী।

৯. খিটখিটে মেজাজ আর সামান্যতে বিরক্তি

এমন স্বভাবের মানে এটা মহাবিশ্বের সাবধান সংকেত। এর মানে আপনি আপনার জীবনটাকে ঠিক করে উপভোগ করতে পারছেন না। আপনাকে এই স্বভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বেশি করে কথা বলতে হবে, অন্যদের সঙ্গে মিশতে হবে। জীবনটাকে হাল্কাভাবে নিতে হবে। চিন্তা করবেন না।

১০. নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারছেন না

কোনও কাজই সময়ে শেষ করতে পারছেন না। সময় মেনে কাজ শেষ করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। সাবধান হয়ে যান। সমানে এই ধরনের কাজ হতে থাকা আসলে মহাবিশ্বের সংকেত।

১১. সারক্ষণ আতঙ্কে ভোগা

আদৌ কাজটা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে কি না বা একটা হাতে নেওয়া কাজ করতে পারবেন কি না- এমন ধরনের মানসিক পরিস্থিতি হলে সাবাধান হয়ে যান। কারণ, বারবার এই পরিস্থিতির মানে এটা মহাবিশ্বের সংকেত। সারাক্ষণ এমনভাবে আতঙ্কে সিটিয়ে থাকবেন না। একটু সাহসী হয়ে নিজের কাজের জায়টা ঠিক করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে ভয় কেটে গিয়েছে।

 

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment