পুনঃসাক্ষ্য গ্রহণে খালেদার আবেদন আপিলেও খারিজ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আইন অনুযায়ী ‘শপথ না নেওয়া’ ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেন। এরফলে তাদের সাক্ষী আর নতুন করে আর গ্রহণ করতে হবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।

পরে বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ করব।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদার আবেদন খারিজ করে দেন। তবে ভবিষ্যতেযে কোনো মামলায় সাক্ষীরা যেন আইন অনুসারে শপথ নেয় সে বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য আইন সচিব ও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টে এই আবেদনটি করেন খালেদার আইনজীবীরা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাক্ষ্য নেওয়ার আগে১৮৭৩ সালের শপথ আইন অনুযায়ী সাক্ষীদের শপথ নিতে হয়। কিন্তু এখানে সেটা করা হয়নি। তাই৩২সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার জন্য বিচারিক আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু ১ ডিসেম্বর সে আবেদন খারিজ হওয়ায় হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করা হয়।

এ মামলায় খালেদা ছাড়া অপর অভিযুক্তরা হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন সাক্ষী। জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment