চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী মোাসা.ববিতাকে (১৯) দুই হাত বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে স্বাামী মো.রুবেল (২৮) কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান আসামীর উপস্থিতিতে এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন। সেই সাথে রায় দ্রুত কার্যকরের নির্দেশ প্রদান করেন বিচারক। দন্ডিত মো.রুবেল জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর পোড়াগঞ্জ গ্রামের মো.তাজেলের ছেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সরকারী কৌসুলী (আ্যাড.পিপি) আঞ্জুমান আরা ও মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১ জুলাই রাতে শিবনগর পোড়াগঞ্জ গ্রামে স্বামীর বাড়ীতে খুন হন এক বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী ববিতা। তাঁকে পরনের কাপড় দিয়ে সামনের দিকে দুই হাত বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এঘটনার পর বাড়ীর সকলেই পালিয়ে যায়। পরদিন ভোরে শিশুর কান্নার সংবাদে প্রতিবেশীরা ওই বাড়ীতে এসে ববিতার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় ও পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে ববিতার পিতা শিবগঞ্জের দেবীনগর পিঠালীতলা গ্রামের মো.শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২ জুলাই শিবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় মামলা করেন (নং-০৪)।

মামলায় ববিতার স্বামী রুবেলকে প্রধান অভিযুক্ত সহ ৭ জনকে আসামী করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ ওই বছরই ১২ নভেম্বর আদালতে চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত সোমবার ১ নং আসামী নিহত ববিতার স্বামী রুবেলকে ফাঁসির আদেশ দেন।

একই সাথে অপর তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে ববিতার সাথে বিয়ে হয় রুবেলের। সেই সময় রুবেলকে ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেয়া হয়। হত্যার দিন দুপুরে পিতার বাড়ী থেকে ৫০ হাজার টাকা ও বাইসাইকেল এনে দেবার জন্য ববিতাকে চাপ দেয় রুবেল। ববিতা এই দাবী প্রত্যাখ্যান করে পিতাকে ঘটনাটি জানান। তিনি ঈদ পর্যন্ত অপেক্ষার জন্য বলেন। কিন্তু সেই রাতেই হত্যা করা হয় ববিতাকে। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আ্যাড.সাদরুল আমিন।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment