যা থেকে বিরত থাকলে জীবনে আনন্দ আসে

ডেস্ক : পরিশ্রমের পর নতুন শক্তি পেতে বিশ্রামের যেমন দরকার, তেমনিই অতিরিক্ত খাবার, ধূমপান কিংবা স্মার্টফোনের মতো কিছু অভ্যাস থেকে কয়েকসপ্তাহ দূরে থাকা জরুরি। জরুরি উপোস করাও। এ কাজগুলো কেন এবং কীভাবে করবেন জেনে নিন।

ধূমপান

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বিশেজ্ঞরা বলেন, যদি কয়েকজন মিলে একসাথে ধূমপান ছাড়ার লক্ষ্য স্থির করেন, তবে কাজটা অনের সহজ হবে। আর এর সেজন্য চাই কোনো একটা বিশেষ কারণ বা উপলক্ষ্য কিংবা জোড়ালো কোনো অনুভূতি।

যন্ত্রটি ‘অফ’ করে সড়ে পড়ুন

আজকাল প্রায় সকলেরই সার্বক্ষণিক সঙ্গী ‘স্মার্টফোন’। অনেকেরই এমন একটা ভাব, যেন ‘যন্ত্রটি’ বন্ধ করলেই সকলের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন তিনি! আসলে এতকিছু না ভেবে হাতের যন্ত্রটি বন্ধ করে দিন। দেখবেন, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সাথে এই ‘সাময়িক বিচ্ছেদে’র ফলে আপনি মানসিকভাবে অনেকটা হালকা বোধ করছেন!

ভিন্ন ভিন্ন ধরন

বিশেষ কিছু খাবার থেকে সাময়িকভাবে দূরে থাকা বা কিছু দিনের জন্য সে সব পরিত্যাগ করা নতুন নয়। সব ধর্মেই কিন্তু উপোস বা রোজা রাখার রীতি রয়েছে, তবে ভিন্ন ভিন্নভাবে। বিশেষজ্ঞরাও আজকাল স্বাস্থ্যগত কারণে মদ, ধূমপান, মিষ্টি, চর্বি বা অতিরিক্ত খাওয়া থেকে কিছু দিনের জন্য বিরত থাকার কথা বলেন। বলেন প্রচুর শাক-সবজি, ফল এবং কফির জায়গায় ‘হার্বাল টি’ বা চা পানের কথাও।

মাংস

খাবারের ব্যাপারে প্রতিটি মানুষেরই ব্যক্তিগত কিছু পছন্দ থাকে, যা থেকে তাঁরা দূরে থাকতে পারেন না। আসলে কিন্তু পছন্দের খাবারকে ‘না’ বলাই হলো সত্যিকারের উপোস বা ত্যাগ। হ্যাঁ, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চকলেট বা মিষ্টি

চকলেট (বানানভেদে চকোলেট) বা মিষ্টিজাতীয় খাবার সুখ হরমোনকে সক্রিয় করে তোলে। তাই উপোসের কয়েক সপ্তাহ চকলেটকে ‘না’ বলুন। পরে অবশ্য এর ফলাফল দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।

কফি-ইন

সকালে কফির সুগন্ধে যার ঘুম ভাঙে, তার কি কফি না হলে চলে? অবশ্যই চলবে, তবে এর জন্য প্রয়োজন অসম্ভব মনের জোর। গরম কিছু চাই তো? বেশ তো, কফির বদলে চা পান করুন। পরপর দু-তিনদিন চা পান করলেই দেখবেন কফির আগ্রহ কমে যাবে। এ সব শুধু কথার কথা নয়…। তাই নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন না!

চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান

গাড়ি ছেড়ে খানিকটা হাঁটুন, পারলে সাইকেল চালান। এতে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে, তেমন রক্ষা করা হবে নিজের স্বাস্থ্যও। শুধু তাই-ই নয়, কিছুদিন করার পর হয়ত এর মধ্যে আনন্দও পেতে শুরু করবেন আপনি।

প্লাস্টিক থেকে দূরে থাকুন

উপোস বা রোজা রাখার পাশাপাশি নিজের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হন। মানে দূরে থাকুন প্লাস্টিকের ব্যবহার করা থেকে। অর্থাৎ উপোসের ক’টা দিন কেনা-কাটা করার সময় বা অন্যান্য কাজে সব ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিত্যাগ করুন। দেখবেন, কেমন অন্য ধরনের একটা অনুভূতি হচ্ছে।

সেক্স

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছুদিনের জন্য সঙ্গম করা থেকে বিরত থাকলে, পরবর্তীতে আনন্দের মাত্রা নাকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই তিন বা চার সপ্তাহ সেক্স থেকে দূরে থাকুন।

আপনি কি সুখী ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোর করে উপোস করলে ফল হতে পারে উল্টো। তাই যিনি নিজের আগ্রহে ও আনন্দের সঙ্গে উপোসের সিদ্ধান্ত নেন বা কোনোকিছু থেকে নিজেকে বিরত রাখেন, একমাত্র তিনিই লাভবান হন।

 

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment