ঘুম নেই তো শরীরও নেই

আগে ঘুম, তবে কি না কাজ! হ্যাঁ, এ কথাটাই সত্যি। ঘুম ভাল না হলে কিন্তু আটকে যাবে সব কাজ। এ কথাই বারবার করে মনে করাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যে সময়টা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার কথা, সেই সময়টা ইচ্ছে করে জেগে থকাই এখন যেন দস্তুর। এই ‘বদভ্যাস’ শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের উপরে এতটাই প্রভাব ফেলছে যে, স্নায়ুতন্ত্র থেকে শুরু করে পরিপাকতন্ত্র, রেচনতন্ত্র, রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক মতো কাজ করতে পারছে না।

আমরা বেশি করে জাঙ্ক ফুড খাব, রাতভর ফেসবুকে চ্যাট করব, দিনের বেলা যখন যেখানে পারব ঘুমিয়ে পড়ব, এটা কিন্তু স্বাভাবিক দিন যাপন নয়। সময়ে খাওয়া-দাওয়া এবং অফিসের কাজের মতো ঘুমটাও অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর থেকে শুরু করে মাঝবয়সীদের একটা বড় অংশ এখন অনিদ্রা ও তার থেকে হওয়া রেস্টলেসনেস সিন্ড্রোমের শিকার। যার সার্বিক প্রভাব গিয়ে পড়ছে কর্মক্ষেত্রে। এক শারীরবিজ্ঞানীর কথায়, ‘‘রাতে ঠিক মতো ঘুম না হলে পরদিন কাজের জায়গায় মনোনিবেশ করতে সমস্যা হয়। আর মনোনিবেশ করতে সমস্যা হলে কাজে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় সব সময়েই।’’

শারীরবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ যখন রাতে ঘুমায়, তখন শরীরের অধিকাংশ প্রক্রিয়া একেবারে ঢিমেতালে চলে। সেই বিশ্রামটা পেলে তবেই পরদিন সকাল থেকে ফের পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। ঘুম না হলে শরীর-যন্ত্র বিশ্রাম পায় না। ফলে পরদিন সকালে তার কাজ করতেও সমস্যা হয়।

প্রতিদিন খাওয়াদাওয়ার সময়ের মতো ঘুমের সময়টাও নির্দিষ্ট রাখতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন শারীবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে যে ভারসাম্য থাকে, সেটা নষ্ট হয়ে যাবে।

আসলে ঘুম ঠিক হলে তবেই জীবন ঘড়ি ঠিক গতিতে দৌড়ায়। জীবন ঘড়ির গতি এ দিক ও দিক হলেই যে মুশকিল!

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment