আমার স্বামী আমাকে দিয়ে দেহব্যবসা করাত, শুনুন এক মেয়ের নিজের কষ্টের কথা

অনলাইন ডেস্ক : জানিনা ভাইয়া আমার মত জীবন আর কয়জন কাটাচ্ছে। তবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমার মত জীবন যেন আর কাওকে না দেয়। আমি কিভাবে আপনাকে বলব ভাঁষা খুঁজে পাচ্ছিনা। তবে সাহস যখন করেছি তখন বলতেই হবে তানা হলে আমি মানষিকভাবে শান্তি পাবনা। আমি শুধু একটু বাঁচতে চাই। আমার সব কিছু শোনার পর যেকোনভাবে আমাকে একটা ভালো সমাধান দিবেন।
আমি পড়াশুনা করাকালীন একজনের প্রেমে পড়ে যাই। সে একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে ভালো পোষ্টে চাকুরী করত। সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমাদের ভালোবাসাটা কেউ মেনে নিবেনা জেনে আমরা নিজেরা পরিবারের কাওকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে নিই। আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় দেড় বছর হল আর এখন আমাদের দুই পরিবারের সবাই আমাদের বিয়েটা মেনে নিয়েছে। আর তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে নেওয়ার কারন ছিল আমদের বিয়ের আগে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল।
বিয়েটা হয়েছিল গ্রামের বাড়িতে আর সেখানেই আমাদের বাসররাত হয়ে গেল। পরেরদিন আমরা গেলাম তার চাকুরীর জায়গায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম তার অফিস থেকে আমাদের হানিমুনের ব্যবস্থা করেছে। আমরা যথারীতি হানিমুনে চলে গেলাম। আমি এতোটাই খুশি ছিলাম ভাইয়া যে আপনাকে বলে বোঝাতে পারব না। আর সেই খুশিতেই হয়ত কারো নজর লেগেছিল। আমরা হানিমুনে যাওয়ার পর একটা সুন্দর হোটেলে উঠলাম, যেটা আগে থেকেই বুক করা ছিল।
রাতে ফ্রেশ হয়ে আমরা আমাদের রুমেই ছিলাম। একটু পর একজন ভদ্রলোক আসল। কথা বলে জানলাম সেটা আমার স্বামীর অফিসের বস হয়। তারা দুইজন মিলে রাতে অনেক ড্রিংকস করে। এতোদিন প্রেম করেও আমার অজানা ছিল যে, আমার স্বামী মদ খায়। আমি সেদিন তার সেই আচরন দেখে অনেকটা ভয় পেয়ে যাই। আমি কোন কথা না বলে তাদের জন্য আনুষাঙ্গিক খাবারের ব্যবস্থা করি।
রাত যখন গভির তখন আমার স্বামী আমাকে রুমের মধ্যে নিয়ে যায় এবং বলে আজকে রাতে আমার এই রুমে তার বস থাকবে এবং তার বস যা করবে যা যা বলবে আমাকে তাই করতে হবে। আমি রেগে গিয়ে বললাম এখনই আমি বাড়িতে চলে যাব, সবাইকে বলে দিব তোমার এই আচরনের কথা। তখন ভেঁসে ওঠে তার আসল চেহারা। যেটা এর আগে আমি কখনো দেখিনি।
সে আমাকে বে-ধড়ক মারধর শুরু করে দিল। আমি তারপরেও রাজি না হলে সে আমাকে কিছু ভিডিও দেখায় যা দেখে আমার প্রায় রক্তশুন্য হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল। আমরা বিয়ের আগে যতবার শারীরিক সম্পর্ক করেছি তার সবগুলো ভিডিও তার কাছে ছিল। সে কিভাবে ভিডিও করেছিল আমি কিচ্ছু জানতাম না। সে আমাকে হুমকি দেয় তার কথা না শুনলে সব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে। তারপরেও আমি রাজি না হলে সে আমাকে আরো মারধর করে। আমি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য রাজী হয়ে যাই। সেই রাতে তার ঐ বস আমার সাথে রাত কাটালো।
পরের দিন তার ঐ বস আবার আসল। আমাকে বাধ্য হয়ে আবার তার বসের সাথে রাত কাটাতে হল। যে কয়দিন আমরা হানিমুনে ছিলাম সেই কয়টা দিন আমাকে তার বসের সাথেই রাত কাটাতে হল। আমরা হানিমুন শেষ করে ফিরে আসার সময় আমার স্বামী আমাকে হুমকী দিল আমি যদি এই বিষয়ে কাওকে কোন কিছু জানায় তাহলে আমার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলবে। আমাকে সারা দুনিয়ার কাছে উলঙ্গ করে ফেলবে। আমি আমার পরিবারের জ়ীবন বাঁচাতে ভয়ে কাওকে কিছু বলতে পারিনি।
আমরা বাসায় ফিরে আসার পর সে আমাকে বাসায় বন্দি করে রাখে। যখন অফিসে যায় আমাকে বাহিরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে যায়। যেদিন বাসায় ফিরে আসি তার পরদিন এখানেও তার একজন নতুন মক্কেল আসল। আমাকে তার সাথেও একইভাবে রাতযাপন করতে হল। তারপর থেকে প্রতিদিন তার কেউ না কেউ আসতই। যাদের সবার সাথে আমাকে রাত কাটাতে হত। তাদের মনরঞ্জন করতে হত। বলা যায় আমাকে দিয়ে আমার স্বামী দেহব্যবসা শুরু করে দিয়েছিল।
আমি মরে যেতে পারছিলাম না কারন সেটাতেও সে আমাকে হুমকী দিয়েছিল আমি মরে গেলে সে সবাইকে বলবে আমি একটা খারাপ মেয়ে ছিলাম। তাই নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছি কারন প্রমান হিসেবে তার কাছে সব গোপন ভিডিও আছে। আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। কোন পাপে আমার এমন শাস্তি হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ে করে বাসর রাতের পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমার স্বামী আমাকে ছুঁয়ে দেখেনি।
ভালোবেসে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলাম তাই কাওকে জোর দিয়ে কিছু বলতেও পারব না। সে দিনদিন এতোটাই নিচে নামতে শুরু করল যে আমার সহ্যের সীমা ভেঙ্গে যেতে লাগল। আমি সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু আমার দিকে হয়ত আল্লাহর একটু করুনা হল। আমাকে সেদিন সে অনেক মারধর করছিল ঠিক এমন সময় আমার চাচা আসল আমাদের বাড়িতে। আমাকে করুন অবস্থায় দেখে আমার চাচা আমাকে নিয়ে চলে আসল বাড়িতে। এমনকি আমার চাচার সাথে সেদিন তার হাতাহাতিও হয়েছিল।
আমি বাড়িতে আসারপর বাড়ির সবাইকে বলি সে আমাকে প্রতিদিন ভিষন মারধর করে। কিন্তু আমাকে দিয়ে যে দেহব্যবসা করায় সেটা আমি লজ্জায় কাওকে বলতে পারিনা। আমার পরিবার সব কিছু শোনার পর সিদ্ধান্ত নেয় আমাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার এবং থানায় একটা নারী নির্যাতন মামলা দেওয়ার জন্য। আমি পরিবারের সবার কথামত তাই করি। তারপর সে আমাকে ফোন করে জানায়, আমি যদি মামলা না তুলি তাহলে আমার সব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে।
আমাকে মামলা তুলে আবার তার কাছে ফিরে যেতে বলে। আমি জানি আমি যদি এই ভুল আবার করি তাহলে আবার সে আমাকে ব্যবহার করে তার কাজ হাসিল করে নিবে। আমার কি মরে যাওয়া উচিৎ ভাইয়া? না কি করা উচিৎ আমি নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। আমাকে প্লিজ আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে বেঁচে থাকার একটা রাস্তা করে দিবেন।
পরামর্শ:-
আমাদের সমাজে এখন এই ধরনের মুখোশধারী অনেকেই আছেন। যারা তাদের ভদ্র মুখোশের আড়ালে হরহামেশাই করে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মুলক কু-কর্ম। আর আমাদের সমাজের নারীরা নিজের এবং পরিবারের ইজ্জত এবং সম্মান বাঁচানোর জন্য প্রতিনিয়তই এমন অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে এই ধরনের মুখোশধারীরা কেন সাহস পায় জানেন? আপনার মত ভিতু মানুষের কারনে।
আপনার স্বামী আপনার দুর্বলতাটা আগে থেকেই জানত বলেই সে এমনটি করার সুযোগ পেয়েছে। আপনার উচিৎ ছিল ফোন করে আপনার পরিবারের কাওকে না কাওকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত করানো। কিন্তু আপনি আপনার স্বামীর হুমকীর ভয়ে তা করতে পারেন নি। আপনার জীবনে যাকিছু হারানোর সেটা তো হারিয়েই ফেলেছেন এখন নতুন করে হারানোর আর কি আছে।
এখন আপনার একটা মাত্র করনীয় আর সেটা হল, আপনার সাথে এমনটা যে করেছে। আপনার বিশ্বাস নিয়ে যে খেলেছে তাকে একটা উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া। আর সেই কারনে আপনার স্বামী আপনার সাথে যা যা করেছে সব কিছু আপনার চাচাকে অথবা বাবা-মাকে খুলে বলুন। আপনি যদি এখন এই ব্যবস্থা না নেন তাহলে আপনার জায়গায় হয়তো অন্যকোন বোন বলী চড়বে।
আপনার উচিৎ হবে নিজেকে তার হাত থেকে রক্ষা করা এবং অন্য কোন মেয়ের যেন সর্বনাশ সে করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা। আপনি হয়ত ভয় পাচ্ছেন আপনার ভিডিওগুলো নিয়ে, যেগুলো আপনার স্বামীর কাছে আছে। যেগুলোর দ্বারা আপনাকে সে ভয় দেখাচ্ছে। তাহলে আপনাকে একটা বিষয় জানাতে হয় যে, বর্তমান সরকার সেই ধরনের অপরাধীদের জন্য অনেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রেখেছেন। সে কাওকে জানানোর আগেই আপনাকে আপনার পরিবারকে জানাতে হবে।
আর এখন মিডিয়া সবসময় এই সকল বিষয় নিয়ে অনেক সক্রিয়ভাবে কাজ করে। তাই আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নাই। জানাজানি হয়ে গেলে হয়ত সাময়িকভাবে একটু মানষিক কষ্ট পাবেন। কিন্তু বাঁকি জীবনটা আপনি ভালোভাবে কাটাতে পারবেন। এখন তার ভয়ে যদি আপনি মামলা উঠায়ে নেন তাহলে শয়তানের কাছে হেরে যাওয়া হবে। এবং আপনার ভবিষ্যত জীবনটা মুল্যহীন হয়ে যাবে। আপনি না পাবেন বাবার বাড়িতে জায়গা না পাবেন স্বামীর কাছে স্থান।
তাই যত তাড়াতাড়ি হয় সমস্ত বিষয় পরিবারের লোকদের জানান। তাদের কাছে পরামর্শ চান। তারাই আপনাকে পথ দেখাবে। কারন এই সময় পরিবারের আপনজন ছাড়া কাওকে আপনার বিশ্বাস করা ঠিক হবেনা। আমি জানিনা আমার পরামর্শ আপনার কতটা কাজে আসবে তবে আশা করছি আপনি বুঝতে পেরেছেন আপনার এখন কি করা প্রয়োজন।
পরামর্শ দিয়েছেনঃ
শোয়েব হোসেন এলএলবি (অধ্যয়নরত)
Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment