ছবি তোলাটাই কি শুধু ফটো সাংবাদিকের দায়িত্ব?

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় যুদ্ধ-হামলার ছবি যারা তুলছেন, তাদের ক্যামেরায় ইতিহাস হচ্ছে মানব বিপর্যয়ের অবর্নণীয় সব ঘটনা। বোমা ফাটছে, মানুষ মরছে- এ সবই ফটোগ্রাফারদের চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু চোখের সামনে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষটিকে বাঁচানো যেকোনো মানুষের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। নাকি আগে ছবি তোলাটাই ফটোগ্রাফারের দায়িত্ব? আসলে এখানে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কোনো সুযোগই নেই। তা প্রমাণ করলেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী আবদ আলকাদার হাবাক। সম্প্রতি সিরিয়ায় গাড়িবোমা হামলার ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালনে ছুটলেন।

ওই গাড়িবোমা হামলার স্থানে ছবি তুলতেই ছুটে যান হাবাক। এ কী অবস্থা! চারদিকে মানুষ, মৃত্যু, চিৎকার আর আগুন। এখন ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় কোথায়? এদের বাঁচাতে হবে। হাবাক ছুটে গেলেন আহত ব্যক্তিদের সহায়তায়।

পরে সিএনএনকে হাবাক বলেন, দৃশ্যপট ছিল বীভৎস…বিশেষ করে শিশুদের চিৎকার আর মৃত্যু ঘটে চলেছে আপনার সামনে। আমি আমার সহকর্মীরা ক্যামেরাগুলো পাশে রেখে দিলাম। এরপর আহত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য ছুটে যাই।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর ফুয়া ও কাফরায়ার অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের বহনকারী কয়েকটি বাসের বহরে গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৬৮টি শিশুসহ ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

হাবাক প্রথম যে শিশুটির কাছে ছুটে গেলেন, সে তখন মারা গেছে। আরেকটার কাছে ছুটে গেলেন। কেউ একজন চিৎকার করে ওর কাছ থেকে সরে যেতে বললেন, কারণ সে ইতিমধ্যে মারা গেছে। কিন্তু ছোট্ট ছেলেটি তখনও মারা যায়নি। শিশুটি কোনোমতে শ্বাস নিচ্ছে। প্রাণ আছে। দ্রুত তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ছোটেন। তখনো তাঁর হাতে ঝোলানো সচল ক্যামেরা এই ধ্বংসযজ্ঞ রেকর্ড করে চলেছে।

শিশুটি আলতো করে আমার হাত ধরেছিল আর আমার দিকে তাকিয়ে ছিল, বলেন হাবাক। এই মর্মস্পর্শী ছবিগুলো তুলেছেন আরেক সহকর্মী মুহাম্মাদ আলরাগেব।

প্রথমে কয়েকজন আহতকে সহায়তা দেওয়ার পর আলরাগেব ছবি তুলতে থাকেন। আমি এসবের ছবি তুলে রাখতে চাইছিলাম। তরুণ সাংবাদিকরা জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে চলেছেন দেখে আমি গর্বিত।[vsw id=”hDod-o6U51I” source=”youtube” width=”425″ height=”344″ autoplay=”no”]

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ