নারী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ার দাবি

নারী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারী শ্রমিকরা।

আজ সোমবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মহান মে দিবসের এক বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে নারী শ্রমিকরা এ দাবি জানান। র‌্যালির আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

র‌্যালিটি ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শুরু হয়ে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যায়। এতে বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন অংশ নেয়।

বাংলাদেশ ফেডারেল শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মী শাহানা সুলতানা বলেন, ‘দেশের অগ্রযাত্রায় নারীরা সর্বক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। অথচ নারী শ্রমিকরাই আজ অবহেলিত, নির্যাতিত। তারা শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাচ্ছে না।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীরা কর্মক্ষেত্রে বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। পুরুষ যে পরিমাণ মজুরি পাচ্ছে তার তুলনায় একজন নারী ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে পায় ৭৬ শতাংশ, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে পায় ৭১ শতাংশ, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পায় ৬৯ শতাংশ ও কন্সট্রাকশনে পায় ৬০ শতাংশ বেতন।’

র‌্যালিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে ন্যূনতম মজুরি ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির দাবিও জানান। তাদের এসব দাবি লিখে ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

র‌্যালি শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সমান এক সমাবেশে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ  করে যাচ্ছে। কোনো শ্রমিক যদি দুর্ঘটনার শিকার হন, আহত বা নিহত হন তাহলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আমরা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চতর শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এখন থেকে শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের সরকার আর্থিক সহযোগিতা করবে।’

শ্রম প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে, শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করেন। কারণ তারাই হলেন অর্থনীতির প্রাণ। এ শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে একটি সোনার বাংলা বিনির্মাণ হবে।’

সমাবেশে শ্রমিক নেতা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমি শুরু থেকে কাজ করছি। আগে শ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। এখন তারা তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের আমলে শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হতেন। এখন সেই অবস্থা আর নেই। বর্তমানে শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে। তারা তাদের সঠিক মজুরি পাচ্ছে। কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ পাচ্ছে। এসব আওয়ামী লীগ সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টার ফসল।’

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment