সরকারী নীতিমালা উপেক্ষিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে থামছে না কোচিং বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্ষমতার জোর আর অবৈধ অর্থের দাপটে সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাগামহীনভাবে চলছে কোচিং বাণিজ্য। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারি নীতিমালা ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে কার্যকর ভুমিকা নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রশাসনে। জনগনের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষা। তবুও শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধে সরকারি আইন শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রভাতি শিফটের সহকারি শিক্ষক মাহবুবুল হক “এ্যাডভান্স ” নামে একটি অবৈধ কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে করেন। শহরের পাঠানপাড়ায় সাতটি ভবন ভাড়া নিয়ে তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার নামে বছরে কোটি টাকার বাণিজ্য করে থাকেন। জানা যায় ক্ষমতার জোরে বিভিন্ন সরকারি স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য সিন্ডিকেটগুলো তার নিয়ন্ত্রনে। ভর্তি বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও বিতর্কিত এই শিক্ষক কে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যলয় থেকে বদলী করা হয় গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এবি স্কুলে। তবে অল্প কিছু দিনের মাথায় অবৈধ অর্থের প্রভাব আর তদবিরে ফিরে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যলয়ে। এর পর থেকেই বিতর্কিত শিক্ষক মাহবুবুল হক এর পরিচালনায় বেপরোয়া ভাবে চলছে কোচিং বাণিজ্য। এছাড়াও এ শহরে অসংখ্য কোচিং সেন্টার রয়েছে যা নীতিমালার পরিপন্থি।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রাজধানীর লা মেরিডিয়ার হোটেলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল আয়োজিত ‘কানেক্টিং ক্লাসরুম’ শীর্ষক এক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বলেছেন, কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই বন্ধে সরকার আইন করতে যাচ্ছে। যে শিক্ষকরা ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়াতে ব্যস্ত থাকেন, তাদেরকেও এ আইনের আওতায় আনা হবে। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক শামসুল হুদা।
এ সময় তিনি বলেন প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকরা শিক্ষক নামের কলঙ্ক, এরা কুলাঙ্গার। এবার এমন কিছু কুলাঙ্গার শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নীতিবান শিক্ষকরা সরকারের শিক্ষা পরিবারের মাথার তাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় দুর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার বদ্ধ পরিকর। শিক্ষামন্ত্রীর এমন স্পষ্ট বক্তব্যের পরও কিভাবে ওপেন কোচিং বাণিজ্য চলতে পারে এ প্রশ্ন এখন জনমনে।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধভাবে পরিচালিত এ্যাডভান্স কোচিং সেন্টারের পরিচালক মাহবুবুল হক কোর্চি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের উপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এঘটনায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদ ও জড়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে সাংবাদিকরা। একই দাবীতে জেলা স্বাধীন প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহত সাংবাদিক ফারুক আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করা হয়েছে।

Please follow and like us:

Related posts