চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাড়া যাবে ২৫ মে থেকে

আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম বাজারজাতকরণে জেলাব্যাপী আম ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় এই ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এরশাদ হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঞ্জুরুল হোদা, ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, কানসাট আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হাবিবুল্লাহ, কানসাট ইউপি চেয়ারম্যান বেনাউল ইসলামসহ জেলার আম ব্যবসায়ী, চাষীসহ বিভিন্ন অফিস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে করনীয় বিয়য়ে বক্তব্য রাখেন প্রবীন সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তসলিম উদ্দিন, গৌড় বাংলা’র সম্পাদক হাসিব হোসেন, চাঁপাই দর্পণ’র সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সাংবাদিক আহসান হাবিব, নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক ড. সাইফুর রহমান, অব. অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানসহ অন্যরা। জেলায় এবছর প্রণয়ন করা আম ক্যালেন্ডারে ২৫মে গোপালভোগ, সকল প্রকার গুটি আম ২০মে, হিমসাগর ও ক্ষিরসাপাতা ২৮ মে, লক্ষনভোগ ১জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বায় ৫জুন, ফজলী ও সুরমা ফজলী ১৫ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন, আশ্বিনা ১ জুলাই বাজারজাতকরণের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ আদেশ অমান্য করে কোন চাষী আম বাজারজাত করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শাস্তির বিষয়ও বলা হয় সভায়।

সভায় জেলার আমে কোন প্রকার কেমিক্যাল বা আমের সাথে কোন মাদক পরিবহন করলে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারীও দেয়া হয় সভায়। জেলার বিখ্যাত আম বাজার কানসাটসহ সকল আম বাজারে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিটাল ওজন যন্ত্রের মাধ্যমে পরিমাপ করে ৪০ কেজিতে মন হিসেবে ক্রয়েরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, কোন অসাধু আম আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী যেনো আমে কোন প্রকার কেমিক্যাল বা ফরমালিন মিশাতে না পারে সে জন্য সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষন করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন। এছাড়া সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষন করবে কৃষি বিভাগ। এদিকে আম শ্রমিকদের তালিকা করে আম মৌসুম পরবর্তী সময়ে বেকারত্ব দূরকরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া পরিবহন যেনো কোন প্রকার মাদক ও অস্ত্র পাঁচার না করে সেই পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক। তিনি অসাধু আম আড়ৎদার ও আম ব্যবসায়ীদের হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, যদি কোন মাদক ও অস্ত্র পাঁচার করার চেষ্টা করেন, তাহলে প্রশাসন তার নিজ গতিতে চলবে। ওই সব অসাধু আম আড়ৎদার ও আম ব্যবসায়ী যতই বড় ক্ষমতাশীন হউক না কেনো কোন ছাড় দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা ৫টি উপজেলার আম বাজারে বিএসটিআই, র‌্যাব-পুলিশসহ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রতিদিন অভিযান চালাবে। তাই আগে থেকে সকল আম আড়ৎদার ও আম ব্যবসায়ীদের সতর্ক বার্তা দিচ্ছে। আপনার নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনবেন না।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার বিখ্যাত আম বাজার কানসাটসহ সকল আম বাজারে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিটাল ওজন যন্ত্রের মাধ্যমে পরিমাপ করে ৪০ কেজিতে মণ হিসেবে ক্রয় করবে। জেলার আমের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকে দেশে ও বিদেশে রপ্তানীতে ভূমিকার রাখার জন্য গণমাধ্যম ও জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক। এদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাত কানসাট আম বাজারের মহাসড়কে যানজট মুক্ত করতে সকল আম ব্যবসায়ীদের মহাসড়ক মুক্ত রেখে রাস্তার দুই পাশে আম বোঝাই ভ্যান দাঁড় করানো পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক। এসময় অন্যান্য বক্তরা বলেন, নিরাপদ আম উৎপাদন করে বাজারজাতের জন্য আমাদের সকল এক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অপরদিকে কানসাট আম বাজারের মহাসড়কের যানজট নিরসন রাখতে কানসাট ইউপি চেয়ারম্যান বেনাউল ইসলামের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়।

তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, মহাসড়কের যানজট নিরসনের জন্য আম বাজারের সকল আড়ৎগুলো সামনে আমের ক্যারেট ট্রাক রাত ৮টার পর করতে হবে। রাস্তার দুইপাশের কোন আম বোঝাই ভ্যান দাঁড় না করে যদি কানসাট মাঠের প্রধান দুই গেট খুলে দেয়া হয়, তাহলে সব আমের ভ্যানগুলো সেখানে অবস্থান করবে। ফলে মহাসড়কের যানজট নিরসন অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া যানজট নিরসনের জন্য ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে।

এদিকে সাধারণ আম চাষিদের প্রতারণা হাত হতে বাঁচাতে বাধ্যতামূলক সকল আম আড়ৎদারদের ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। জেলার আমের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকে দেশে ও বিদেশে রপ্তানীতে ভূমিকার রাখার জন্য গণমাধ্যম ও জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment