দুধের সঙ্গে মায়ের গর্ভফুল মেশানো ! প্রাচীন মিশরে অসুস্থ নবজাতকের পথ্য –

অনলাইন ডেস্ক : আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। ঈশ্বরী পাটনীর এই প্রার্থনা ছিল প্রাচীন মিশরীয়দের মনেও। শিশুর জন্ম হলেই অভিভাবক ভাবতেন। আতঙ্কিত হতেন ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিয়ে। বিশ্বাস ছিল‚ সাত জন দেবী রক্ষা করতেন নবজাতককে।

কোনও শিশু অসুস্থ হলে তার কান্না পর্যবেক্ষণ করা হতো। যদি কান্নার শব্দ হতো ‘হিইইই‘ তাহলে ধরে নেওয়া হতো সে সুস্থ হবে। যদি কান্না হতো অন্যরকম‚ মনে করা হতো সে বাঁচবে না। আরও নিশ্চিত হতে অসুস্থ শিশুকে তিনদিন ধরে দেওয়া হতো তরল ডায়েট। দুধের সঙ্গে মেশানো হতো তার মায়ের প্ল্যাসেন্টা। যদি বমি করে তবে সে সুস্থ হবে না। যদি বমি না করে তবে সুস্থতা আসন্ন। অর্থাৎ তখনও প্ল্যাসেন্টা সংরক্ষণের প্রবণতা ছিল।

জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই নামকরণ করা হতো শিশুর। কিছু মিশরীয়র নাম হতো ছোট। যেমন ‘টি‘ অথবা ‘আবি‘। আবার বড় নামের চল ছিলও অঢেল। বেশিরভাগ সময়েই নাম দেওয়া হতো দেবদেবীর নামে। মনে করা হতো এতে ওই দেবতা শিশুর অভিভাবক হলেন। তাই হোরি‚ সেতি‚ আমেনি এরকম নামের অনেক উল্লেখ আছে প্রাচীন হায়রোগ্লিফিক্সে। এছাড়াও ছিল আমেনহোতেপস‚ খুনুমহোতেপস‚ আমুন‚ সিয়ামুন-এর মতো নাম। নীল নদের তীর প্রাচীন মিশরে নথিভুক্ত করা হতো প্রতিটা জন্ম ও মৃত্যু। যাতে করধার্য করা যায়।

জন্মের পরে শিশু থাকত মায়ের সঙ্গেই। ছিল স্লিং-এর আদি সংস্করণ। নরম কাপড় দিয়ে শিশুকে দেহের সঙ্গে জড়িয়ে রাখত মায়েরা। দুধ খাওয়ানোর জন্য ছিল বোতলের মতো জিনিস। মাটির তৈরি।

পিরামিডে শিশুদের মামি দেখে গবেষকদের ধারণা‚ মিশরীয়দের মধ্যেও ছিল অপুষ্টি। এছাড়াও শিশুরা ভুগত অ্যানিমিয়া‚ টনসিলের সংক্রমণে। সুরক্ষা কামনায় তাদের পরানো হতো মাদুলি।

শিশুদের জন্য তৈরি হতো হরেক খেলনা। থাকত রংবেরঙের ছবি। প্রচণ্ড গরমে তাদের হয়তো উদোম করেই রাখা হতো। কোমরে থাকত ঘুনসি। কিন্তু চুলের সাজে কোনও পরিপাট্য কম ছিল না। বিনুনি বেঁধে পুঁতি দিয়ে সাজানো হতো।

পাঁচ বছর বয়স হয়ে গেলেই শিশুরা সাহায্য করত বাবা-মাকে। চাষের কাজ‚ পশুপালন‚ বীজ বপন‚ মাটির জিনিস তৈরি সবেতেই অংশ নিত ছোট ছেলেরা। মেয়েরা করত ঘর গৃহস্থালির কাজ।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment