জয় হাসলেই অভিমান পানি হয়ে যায়

0

অপু বিশ্বাস: সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ আমার জীবনের সবচেয়ে ভালোলাগার দিন। এই দিনের মতো আনন্দ আমি আর কোনোদিন পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। এই দিন সৃষ্টিকর্তা আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি উপহার দিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার এই উপহার হলো আবরাহাম খান জয়। আমার সন্তান।

প্রথম মা হওয়ার অনুভতি একদম ভিন্ন একটি অনুভূতি। এটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তবে এতটুকু জানি মা হওয়ার আনন্দটা যারা মা হয়েছেন তারাই জানেন। যার কারণে মা হওয়ার জন্য প্রত্যেকটা মেয়ে অপেক্ষা করেন। মা হলেই শুধু এর অনুভূতি বুঝা যাবে। এর আগে এ অনুভূতি অনুভব করা সম্ভব নয়।

যখন মনটা একটু খারাপ থাকে অথবা বাহির থেকে যখন আসি তখন জয়ের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিলে ও আমার কোলে ঝাপিয়ে পড়ে। তখন নিজের কাছে মনে হয়ে পৃথিবীতে আমার চেয়ে সুখী মানুষ দ্বিতীয়টা নেই। কিসের দুঃখ! কিসের কষ্ট! সুখী হওয়ার অনুভুতিটা সন্তান না থাকলে বুঝতে পারবে না। সন্তান হলো মায়ের সবচেয়ে দুর্বল একটা জায়গা। এটা আমি এখন বুঝতে পারছি।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি আমার বাবুটা এখন পর্যন্ত কান্না করেনি। অনেক সময় আমি যদি ওকে (জয়) ধমক দিই, ‘এই জয় তুমি দুষ্ট হয়ে গেছো, অনেক রাত হয়ে গেছে ঘুমিয়ে যাও।’ তখন ঠোঁট বাঁকা করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তখন যদি বলি, ‘এদিকে তাকাও ওদিকে তাকাও’ ও কোনো দিকেই তাকাবে না। আমার দিকেই তাকিয়ে থাকবে। পরে আমি যখন হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলি, ‘ওরে বাবা আমার আর এভাবে বকা দিব না।’ তখন জয় খুব রিলাক্স হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি জানি না, আমার সাথে ওর কি যোগাযোগ। আমার ছেলে আমাকে বুঝে এটাই আমার কাছে ভালো লাগে।

আমার ছেলেকে আমি পড়াশুনা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই। আমি চাই, আমার ছেলে পরাশুনা করে অনেক বড় হউক। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিস্টার হতে এমন কোনো চাহিদা আমার নেই। আমি খেয়াল করব সে কোনো বিষয়ে ভালো করছে। সেদিকেই তাকে পড়াব। এছাড়া আমরা স্বামী-স্ত্রী যেহেতু মিডিয়াতে কাজ করি বড় হয়ে ও যদি মিডিয়াতে কাজ করতে চায় সেক্ষেত্রে ওকে সহযোগিতা করব।

ছয় মাস পেরিয়ে সাত মাসে পা দিয়েছে জয়। অনেক লক্ষ্মী আমার ছেলেটা। জয়কে যখন কোলে নিই তখন ভুলে যাই আমি একজন অভিনেত্রী। অন্য মায়েদের মতোই ওকে স্নান করাই, ঘুম পাড়াই। ভাবতে খুব ভালো লাগে ওর মতো সন্তানের মা আমি।

এখনো তো কথা বলতে শেখেনি জয়। তবে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে কথা বলার। মাঝে মাঝে পা-পা করছে। শুরুতে মা-মা না করে পা-পা করছে দেখে খুব অভিমান হয়েছিল আমার। পা-পা করার সময় ওর দিকে চোখ বড় করে তাকালেই হেসে ফেলে। তখন আমার সব অভিমান পানি হয়ে যায়। মা দিবসে সবার কাছে আমার লক্ষ্মী ছেলেটার জন্য দোয়া চাই।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ