চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি ২০০ কোটি টাকা

0

গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে তিন দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় সরকারি হিসাবে বোরোধান ও আমের ক্ষতির পরিমান প্রায় শত কোটি টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করেছে। এর মধ্যে শুধু শিবগঞ্জ উপজেলায় আমের ক্ষতি হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার উপর। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন ক্ষতির পরিমান ২’শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, এবার কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৫ হাজার ৪’শ বিঘার বোরোধান ক্ষতি হয়। এ ছাড়া জেলার গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি বিলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বেশকিছু বোরোধান নিমজ্জিত হয়। ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং উজানের ঢলে নিমজ্জিত হওয়া ধান থেকে ৭৬ হাজার ৫৯৫ মণ চাল নষ্ট হয়ে যায়। এতে টাকার অংকে ক্ষতি হয়েছে ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, ঝড় ও অতিশিলাবৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থকরি ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবার ২৪ হাজার ২১৭ বিঘার আমবাগানে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৮ লাখ ৮৯ হাজার ২০ মণ আম ঝরে পড়ে। এতে টাকার অংকে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুজ্জামান জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করেছেন। তাতে শুধুমাত্র আমই ক্ষতি হয়ে প্রায় ৫৪ কোটি টাকার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ি বোরো ও আমের ক্ষতির পরিমান ৮৮ কোটি ৪৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫’শ টাকা হলেও কৃষক ও ব্যবসায়িরা বলেছেন ক্ষতির পরিমান তিন’শ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, যেসব আম কালবৈশাখির কবলে পড়ে ঝরে পড়েছে তা গাছে থাকলে ওই আম কয়েকবার হাত বদল হয়ে ভোক্তাদের কাছে যেত। সেক্ষেত্রে লেনদেন হত আরও দুই থেকে তিন’শ কোটি টাকা। জেলা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল ওয়াহেদ এমনটাই ধারণার কথা বলেন।
জেলার একাধিক আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ি আবু তালেব জানান, তাঁর একারই প্রায় কোটি টাকার আম নষ্ট গয়ে গেছে। আম বাগান মালিক মসিউল করিম বাবু জানান, নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নে তাঁর আমের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।
গোমস্তাপুর  মামুন বিশ্বাস জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ঢলের পানিতে জলমগ্ন রাধানগর ইউনিয়নের বিল কুজাইনসহ ৬টি মৌজার উঠতি বোরো ধান ডুবে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি আশংকা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত মৌজাগুলো হচ্ছে, বিল কুজাইন, ভাটুসিংড়া, জশৈল, রোকনপুর, সুন্দরপুর ও হাকিলা। সম্প্রতি উপপরিচালক বরাবরে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই বিলে মোট ১৪ হাজার ৫’শ ৭০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে দুর্যোগে আক্রান্ত জমির পরিমান ৮’শ ৫৩ হেক্টর। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমান ২’শ হেক্টর। আংশিক ডুবে যাওয়া জমির পরিমান ১ শ হেক্টর। যার শতকরা হার ৬০ ভাগ। এছাড়া মোট ক্ষতিগস্ত ফসলি জমির পরিমান  ২শ ৬০ হেক্টর। এর ফলে ১ হাজার ৬ মে. টন চাল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।  উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বিলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পূণর্ভবা নদীর  উপচে পড়া পানিতে বিল জলমগ্ন হলে কৃষকরা এ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

নাচোল ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের বরাত দিয়ে আমাদের নাচোল প্রতিনিধি মতিউর রহমান জানান, জেলার নাচোল উপজেলায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ২৯০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওইসব পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই ঝড়ে বোরোধান, আম, ভুট্টা, কলা, পেপে, সজিনা, ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ম ভেঙ্গে পড়ে গাছপালা।   

By গৌড় বাংলা ডেস্ক

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ