ধর্ষণের ১৭ দিন পর মেয়ে দু’টিকে আবারো হোটেলে ডেকেছিল এমপির ছেলে

অনলাইন ডেস্ক: ধর্ষণের ১৭ দিনের মাথায় মেয়ে দু’টিকে আবারো ডেকেছিল শয্যাসঙ্গিনী হতে। তবে এবার ডাক পড়েছিল ঢাকার একজন সংসদ সদস্যের ছেলের তরফ থেকে। আর তখনই মেয়ে দু’টি মামলা করার কথা চিন্তা করে। এত দিন তারা সমঝোতা করে হোটেল কক্ষে ধারণকৃত ভিডিওটি ফেরত দাবি করেছিল। আর ধর্ষক ও তাদের বন্ধুদের কাছে ওই ভিডিও ছিল মেয়ে দু’টিকে বশ করার অস্ত্র।
গত ২৮ মার্চ বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে গণধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। ধর্ষিতা তরুণীদের একজন জানান, ঘটনার সময় সাফাতের বডিগার্ড
বেল্লাল সেই দৃশ্য ভিডিও করে। ঘটনার সময় তারা হাতে পায়ে ধরেছেন ভিডিও না করার জন্য। কিন্তু সাফাত কোনো কথাই শোনেনি। সাফাত তখন চিৎকার করে বলছিল, ‘হ্যাঁ ওরা ভিডিও করবে। ’ ধর্ষণের ঘটনার পর প্রথমে তারা চিন্তা করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তারা যাবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গেলে মামলা করলে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তখন তাদের আরো সর্বনাশ হবে। তারা সাফাতের সার্কেলের অনেকের সাথে কথা বলেছেন শুধু ভিডিওটি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। ধর্ষিতাদের একজন বলেন, তাদের ধারণা ছিল কোনোভাবে ভিডিওটি নেটে ছেড়ে দিলে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যাবে। তাদের সবার সর্বনাশ হবে তখন। পরিবারের সম্মান যাবে। ওই তরুণী বলেন, ‘আমরা তো মেয়ে। আমাদের সর্বনাশের কথা চিন্তা করেই বিষয়টি মিটমাট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনোভাবেই ভিডিওটি দেয়নি। ’ তরুণীদের একজন জানিয়েছেন, তারা যে চিন্তা করেছিলেন ঠিক সেই ঘটনাই ঘটে। মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাদের ডেকে পাঠানো হয়। এবার তাদের শয্যাসঙ্গী হবে একজন সংসদ সদস্যের ছেলে। ঢাকার ওই প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধেও নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তার ছেলের বিরুদ্ধেও খুনের অভিযোগ ছিল। সেই সংসদ সদস্যের ছেলে গত ১৫ এপ্রিল ওই মেয়ে দু’টিকে ডাকে একটি হোটেলে। তরুণীদের একজন বলেন, তাকে হুমকি দেয়া হয়Ñ যদি তিনি হোটেলে না যান তবে সাফাতের সাথে যা হয়েছে তা নেটে ছেড়ে দেবে। ওই তরুণী বলেন, ‘তখন ঘাবড়ে যাই। নানা অজুহাত দেখাতে থাকি। কিন্তু সংসদ সদস্যের ছেলে ছিল নাছোড়বান্দা। ’ বেশ কয়েকজন বলেছেন, ওই সংসদ সদস্যের ছেলের সাথে সাফাতের সম্পর্ক হলো বড় ভাই-ছোট ভাই। এক দিকে সে টাকার জোর তো দেখাতই। আর সাথে ওই সংসদ সদস্যের ছেলের দাপটও দেখাত সে। যে কারণে সাফাত কাউকেই পাত্তা দিতে চাইত না।
এ দিকে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সাফাতের ড্রাইভার বেল্লাল ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করার কথা স্বীকার করেছে। সে পুলিশকে বলেছে, সাফাতের নির্দেশে সে ভিডিও করেছে। স্বাভাবিকভাবে সাফাত যেসব রুমে থাকত সেসব রুমে তাদের যাওয়ার কোনো অনুমতি না থাকলেও ওই দিন তাকে ভিডিও করার জন্য সাফাত নিজেই ডেকে নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভিডিও করার পেছনে সাফাতের দীর্ঘমেয়াদি কোনো উদ্দেশ্য ছিল। হয়তো ধর্ষিতা দুই তরুণীকে নিজেদের আয়ত্তে রাখার জন্যই পরিকল্পিতভাবে সে এটি করেছে। যাতে পরবর্তী সময় ডাকলেই তাদের পায়। একটি সূত্র জানিয়েছে, সাফাত এরূপ আরো অনেক তরুণীর সর্বনাশ করেছে। যারা মুখ বুঝে সাফাতের অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছে। বিষয়টি তারা কাউকে বলতেও পারছে না।এ দিকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের ছেলে মাহিরের বিরুদ্ধে ধর্ষকদের সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠলেও এখনো সে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ ও গোয়েন্দারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করেনি।
উল্লেখ্য গত ২৮ মার্চ বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের ছেলে সাফাত এবং তার বন্ধু নাঈম আশরাফ মিলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এতে সহায়তা করে সাফাতের অপর বন্ধু সাদমান সাকিফ। অভিযোগ উঠেছে হোটেলের অন্যতম পরিচালক মাহিরও সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। মাহির সাফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওই দুই তরুণীসহ মোট চারজনকে সাফাত জন্মদিনের নিমন্ত্রণ জানিয়ে ওই হোটেলে নিয়েছিল। সেখানেই দুই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার ব্যাপারে মামলা নিয়ে গড়িমসি করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত গত ৬ মে মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়েরের পর সাফাত, সাকিফ, সাফাতের ড্রাইভার বেল্লাল ও বডিগার্ড রহমত আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment