চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্যাতিত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মিথ্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোচিং বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে শিক্ষকের হামলায় আহত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমলী আদালত ‘ক’ অঞ্চলের বিচারক শরিফুল ইসলাম সদর থানা পুলিশকে এজাহার হিসাবে মামলা রুজ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই আদালতের বিচারক গত ১৪ মে নির্যাতিত সাংবাদিক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর দায়ের করা এজাহার আবেদনটি সদর থানা পুলিশকে তদন্ত নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করেছে তদন্ত অফিসার এস আই রশিদুল ইসলাম ।

জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকায় “চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাগামহীন কোচিংবাণিজ্য” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের জেরে ৩০ এপ্রিল দুই সাংবাদিকের উপর নির্মমভাবে হামলা চালায় ‘এ্যাডভান্স’ কোচিং সেন্টারের পরিচাল হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শিফটের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারি শিক্ষক মাহবুবুল হক। এ হালায় আহত হয় দৈনিক শেয়ার বিজ প্রতিনিধি ও জেলা স্বাধীন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ চৌধুরী ও ভোরের বার্তা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।

আদালতের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী মামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুল হক। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাবশালী আইনজীবি ও একাধিক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন । সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার একই দিন তারিখ দেখিয়ে ২৮ দিন পর কোচিংবাজ শিক্ষক মাহবুবুল হক এর স্ত্রী শামীমা নাসরিন (৩৯) বাদী হয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ এনে ৪৪৮/৩২৩/৩৮৫/৪২৭/৩৪ ধারায় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন । মামলার এজাহারে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে চালানো কোচিং সেন্টারকে বৈধ দাবী করেছেন । নির্বাহী আদেশ অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য চাললেও স্থানীয় প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায় ।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সুত্রে জানা যায়, কোন তদবিরে থানায় সাংবাদিকেরর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে পারেনি অভিযুক্ত কোচিংবাজ শিক্ষক মাহবুবুল হক। থানায় মামলা করতে ব্যার্থ হয়ে আদালতে চাঁদাবাজীর মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন । ২০১২ সালের কোচিংবাণিজ্য বন্ধ নীতিমালায় জেলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কে সভাপতি ও জেলা শিক্ষা অফিসার কে সদস্য সচিব করে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের ৫০০ গজের মধ্যেই গড়ে উঠেছে অন্তত ৩০ টি কোচিং সেন্টার। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় কোচিংবাণিজ্য চললেও এটি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রনে কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মতিউর রহমান জানান , কোচিংবাণিজ্য সরকারি পরিপত্রের পরিপন্থি । তবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা¬-২০১২ এর ১৩ অনুচ্ছেদে শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়াও নীতিমালা ১৩ এর (ঙ) তে বলা হয়েছে সরকারি শিক্ষা প্রষ্ঠিানের কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপিল ) বিধি মালা ১৯৮৫ এর অধীনে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Reply