হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোচিংবাজ শিক্ষক মাহবুবুল হকের খুঁটির জোর কোথায়!

0

সম্পাদকীয়: চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোচিং বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে শিক্ষকের হামলায় আহত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মিথ্যা দায়ের করেছে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মাহবুবুল হকের স্ত্রী শামীমা নাসরিন। একই আদালতের বিচারক গত ১৪ মে নির্যাতিত সাংবাদিক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর দায়ের করা এজাহার আবেদনটি সদর থানা পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করেছে তদন্ত অফিসার এস আই রশিদুল ইসলাম । কিন্তু তদন্ত কাজ যেভাবে এগুনোর দরকার সেভাবে এগুচ্ছে না বলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন নাগরিক হতাশাগ্রস্ত।

গত ২৯ এপ্রিল দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকায় “চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাগামহীন কোচিংবাণিজ্য” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ৩০ এপ্রিল দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নির্মমভাবে হামলা চালায় ‘এ্যাডভান্স’ কোচিং সেন্টারের পরিচালক হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শিফটের সমাজিক বিজ্ঞানের সহকারি শিক্ষক মোঃ মাহবুবুল হক। এ হামলায় আহত হন দৈনিক শেয়ার বিজ প্রতিনিধি ও জেলা স্বাধীন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ চৌধুরী ও ভোরের বার্তা পত্রিকার প্রতিনিধি মেহেদী হাসান। আদালতের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী মামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুল হক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাবশালী আইনজীবী ও একাধিক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন । সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার একই দিন তারিখ দেখিয়ে ২৮ দিন পর কোচিংবাজ শিক্ষক মাহবুবুল হক এর স্ত্রী শামীমা নাসরিন (৩৯) বাদী হয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ এনে ৪৪৮/৩২৩/৩৮৫/৪২৭/৩৪ ধারায় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন । আমরা মনে করি, মামলার এজাহারে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে চালানো কোচিং সেন্টারকে বৈধ দাবী করেছেন কোচিংবাজ শিক্ষক । অন্যদিকে নির্বাহী আদেশ অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য চালালেও সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার শাক্ষী গোপালের ভূমিকা পালন করছে বলে সচেতন নাগরিকদের অভিমত ।

নির্ভযোগ্য একাধিক সুত্র মতে, থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে চাঁদাবাজীর মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন । ২০১২ সালের কোচিংবাণিজ্য বন্ধ নীতিমালায় জেলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাাসক কে সভাপতি ও জেলা শিক্ষা অফিসার কে সদস্য সচিব করে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের ৫০০ গজের মধ্যেই গড়ে উঠেছে অন্তত ৩০ টি কোচিং সেন্টার। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় কোচিংবাণিজ্য চললেও এটি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রনে কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মতিউর রহমানের ভাষ্যমতে, কোচিংবাণিজ্য সরকারি পরিপত্রের পরিপন্থি । তবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা -২০১২ এর ১৩ অনুচ্ছেদে শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়াও নীতিমালা ১৩ এর (ঙ) তে বলা হয়েছে সরকারি শিক্ষা প্রষ্ঠিানের কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপিল ) বিধি মালা ১৯৮৫ এর অধীনে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । কিন্তু হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোচিংবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকসহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকার সচেতন নাগরিকের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করেন, এ কোচিংবাজ শিক্ষকের খুটির জোর কোথায়? একজন শিক্ষক সরকারি নীতিমালাকে অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও ক্ছিু হচ্ছে না। অথচ নির্ভিক ও তরুণ সাংবাদিকদের ভিন্নভাবে ঘায়েল করতে স্ত্রীকে দিয়ে দীর্ঘদিন পর চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করল। আসলে কি তাহলে দেশের আইনের শাসন বলে কিছু নেই শিক্ষা ক্ষেত্রে। তাহলে কি কোচিংবাজ শিক্ষদেরই জয় হবে।

সবচেয়ে মজার বিষয়, আনন্দের বিষয় যে, এ কোচিংবাজ শিক্ষক বিভিন্ন মহলে তদবির করেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে মীমাংসা করার চাপও এসেছে। কিন্তু হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয় হতে বা সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি থেকে কোন প্রতিবাদ বা মীমাংসার কথা জেলার ৪টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বলেনি। এর দ্বারা সচেতন নাগরিক আঁচ করতে পেরেছে যে, কোচিংবাজ শিক্ষক কেমন ধরনের ব্যক্তি বা শিক্ষক।
আমরা জানি, শিক্ষকতা মহৎ পেশা। জাতি গড়ার কারিগর। যে শিক্ষক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘায়েল করতে পারে সে শিক্ষকের দ্বারা সবধরনের নীতি বহির্ভূত করা করা অসম্ভব নয় । আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি, এ

কোচিংবাজ শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক হলেও কোচিং ব্যবসাকে সফল করার জন্য সমাজে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। যা শিক্ষকের নীতির ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ কোচিংবাজ শিক্ষক চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছে। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যান, তার দলের সাফায় গেয়ে কোচিং বাণিজ্য রমরমাভাবে চালিয়ে যান। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় তাকে একাধিকবার দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যা শিক্ষক হিসেবে তার কলঙ্কজনক ঘটনা। ২০১৬ খ্রিস্টাবে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে নীয়ম ভঙ্গ করে প্রবেশের দায়ে তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে প্রশাসন দ্বারা লাঞ্ছিত করা হয়। তার পরেও তার বোধোদয় নেই শুধু অবৈধ কোচিং বাণিজ্যের জন্য। ওই কোচিংবাজ শিক্ষক চাকরি জীবনের ১ দশক পার করলেও বাধ্যতামূলক বিএড ডিগ্রি অর্জনের জন্য গত বছর নিয়ম ভঙ্গ করে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের পরিবর্তে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএড করছেন। এখানেও শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। বিএডবিহীন শিক্ষক হিসেবেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। কোচিংবাজ শিক্ষক হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাথেও অসদাচারণ করে থাকেন বলে আমবা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে।

পরিশেষে, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। কিন্তু কোচিংবাজ শিক্ষক কীভাবে আইনের আওতায় আসছেন না তা চাঁপাইবাসীর সচেতন নাগরিকদের মনে বেদনার সৃষ্টি করছে। আমরা কোচিংবাজ শিক্ষক মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

লেখক: এ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহাজামাল

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ