কোচিংবাজ শিক্ষক মাহবুবের উত্থান যেভাবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক: হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক মোঃ মাহবুবুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে তথা নিজেকে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রমরমাভাবে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে ০৬/০১/২০০৭ খ্রি. তারিখে যোগদান করেন যোগদানা করে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষকের কাছ থেকে পদ্ধতি জেনে হরিমেহান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও ওমর ফারুক নামের এক পুস্তক ব্যবসায়ীর সাথে যৌথ উদ্যোগে একটি কোচিং চালু করেন। পরবর্তীতে ওই দুইজনের সাথে প্রতারণা করে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাডভান্স কোচিং সেন্টার। অবৈধ কোচিং পরিচালনার জন্য তাকে ০২-০৫-২০১২ খ্রি. তারিখে নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় গমোস্তাপুর উপজেলার রহনপুর সরকারি এবি উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার তদবিরের মাধ্যমে এবং মোটাংকের ঘুষের মাধ্যমে হরিমোহন সকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করে ২৮-০৮-২০১২ খ্রি.। হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে শুরু হয় তার বেপরোয়াভাবে কোচিং ব্যবসা। ২০১০ সালে সারা দেশের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ডাবল শিফট্ চালু হয়। ২০১১ সালে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ জন নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকা যোগদান করেন প্রভাতি শিফটে। নিজের কোচিং বাণিজ্য জমজমাট করতে এসব শিক্ষকদের প্রথমে তার বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে পোলাও, কোরমা খাইয়ে বন্ধুত্ব স্থাপণ করত। তারপর কৌশলে ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় তার কোচিং এর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে সাহায্য করার জন্য বলত। ওসব ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতেন রাজনৈতিক নেতার ছেলে-মেয়ে বলে। না বুঝে অনেক শিক্ষক সাহায্য করেছে বলে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নবাবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় নিজে ডিউটি না করে পরীক্ষার পূর্বে হলে গিয়ে উমুক নেতার ছেলে ও উমুক নেতার মেয়ে বলে পরিচয় করে দিয়ে আসতেন পরিদর্শকদের কাছে। এ ভাবেই জমতে থাকে তার কোচিং বাণিজ্য। যেসব মেয়ে শিক্ষার্থী দেখতে সুন্দরী ও ছেলে শিক্ষার্থীরা দেখতে হ্যান্ডসাম তাদের ফ্রি পড়িয়ে অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের আকৃষ্ট করতো বলে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন এ প্রতিবেদকের কাছে মৌখিকভাবে। কোচিং বাণিজ্য হতে আয়কৃত টাকা কিছু ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে চাঁদা দিত যাতে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারে। হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে রাখতো একজন শিক্ষকের দুর্নাম অন্য শিক্ষকের কাছে বলে। ফলে সে একজন জামাত পন্থী শিক্ষককে ম্যানেজ করে সুবিধামত রুটিং এ ক্লাস নিত। ফলে একটি ক্লাসের পর নাস্তা খাওয়ার নাম করে বাড়ি না গিয়ে কোচিং এ গিয়ে সময় কাটাতো । কখনও বাজার করার নাম করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকতো বলে একাধিক হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের কাছে জানা গেছে। সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক হয়ে নবাবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জোর করে তার এক আত্মীয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে ইংরেজি ক্লাস নিত। কিন্তু হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতি শিফটে ৫ জন ইংরেজি শিক্ষক থাকায় সে সুযোগ নিতে পারেনি। একবার চেষ্টা করলেও ইংরেজি শিক্ষকদের তোপের মুখে ব্যর্থ হন। এছাড়াও এ মোঃ মাহবুবুল হক দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রায় সময় লাঠি দ্বারা পিটাতো যে দেরি কেনো হয়েছে? ফলে অনেক শিক্ষার্থী তার কোচিং এ ভয়ে যেত বলে নাম প্রকাশে একজন শিক্ষার্থী জানান। এসব থেকে তার কোচিং বাণিজ্যে বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ চৌধুরী ও ভোরের বার্তা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মেহেদি হাসানের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার প্রচেষ্টা করে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment