এই রমজানে বদহজম হলে কী করবেন

রমজান মাসে অনেকেই বদহজম সমস্যায় ভোগেন। সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারে ভাজা-পোড়া খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আর এটাই বদহজমের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া কারো কারো অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যাও হতে পারে।

পাচনতন্ত্র শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনো সমস্যাই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এর প্রাথমিক কাজ হল আপনার শরীরের অত্যাবশ্যক পুষ্টি শোষণ করে এবং বর্জ্য পদার্থ থেকে পরিত্রাণ পেতেও সাহায্য করে।

এছাড়া বদহজমে গ্যাস, অম্বল, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিণ্য, এসিড রিফ্লাক্স, পাকস্থলীর আলসার ইত্যাদিও হতে পারে।

বদহজমের কারণ:
কম খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব, অত্যাধিক ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত মদ খাওয়া, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং পুষ্টির ঘাটতিই এরজন্য দায়ী।

এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত ভাজা-পোড়া খাবার এড়িয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

তবে একান্তই যদি ভাজা-পোড়া খেতে হয় তাহলে বদহজম, অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

এছাড়া সাধারণ হজমের সমস্যা ঘরোয়া পদ্ধতিতে এবং জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়।

বিস্তারিত নিম্নে দেয়া হল:-

আদা: হজম সমস্যা সমাধানে আদা দারুন কাজে আসে। এটা ব্যাকটেরিয়ারোধী, জীবাণুনাশক। এটা জারকরস এবং এনজাইম প্রবাহ সঠিকভাবে সরবরাহ করে এবং খাদ্য হজমে সহায়তা করে। এটি বমি, পেটফাঁপা, বদহজম, ব্লটিং এবং ডায়রিয়া কমাতে বেশ কার্যকর।

প্রতিদিন ২-৩ বার আদা চা পান করতে পারেন। রমজান মাসে ইফতারের পর আদা চা পান করলে উপকার পাবেন। এছাড়া দুই চামুচ আদার রস এবং ১ চামুচ মধু ১ কাপ পানিতে মিশিয়ে তা প্রতিদিন ২ বার খেতে পারেন।

মৌরি বীজ: মৌরি বীজ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অম্বল, বদহজম ও কমপেট অম্লতার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন। পেটের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত অন্ত্রের আক্ষেপ এবং ব্লটিং থেকে পরিত্রাণ করে এটি। তাই খাওয়ার পর ১ চামুচ মৌরি বীজ চাবিয়ে খেতে পারেন। হজম শক্তি বাড়াতে মৌরি চা পান করুন।

এলোভেরা: এলোভেরায় জোলাপ বৈশিষ্ট্য যা পাচনতন্ত্রে সঠিক কার্যকারিতা প্রদান করে। এলোভেরায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, বিরোধী প্রদাহজনক এবং পরিপাক নালীর জ্বালা ও প্রশমিত করার বৈশিষ্ট্য আছে। পানি অথবা কমলার জুসে এলোভেরার জেল ২ টেবিল চামুচ মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাবেন।

ওটমিল: ওটমিলে উচ্চ ফাইবার থাকে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। ফাইবার অন্ত্রের নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিণ্য রোধ করে। ওটমিল একটি কম চর্বিযুক্ত খাদ্য। তাই ডায়রিয়ায় ভুগলেও এটা খেয়ে আপনি হজম করতে পারবেন। একটি সুস্থ পাচনতন্ত্রের জন্য দিনের শুরু আপনি এক বাটি ওটমিল খেতে পারেন।

হলুদ: সাধারণ হজম সমস্যা সমাধান করে হলুদ। কারকিউমিন হলুদের সক্রিয় উপাদান পিত্ত মুক্তিতে সাহায্য করে। এটি হজম ও লিভার ফাংশন উন্নত করে। এছাড়া বিরোধী প্রদাহজনক সম্পত্তি গ্যাস্ট্রো ইনটেস্টাইনাল নালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

ডা. ফাহিম আহমেদ রুপম
মেডিসিন অ্যান্ড ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
ইমপালস হাসপাতাল, তেঁজগাও, ঢাকা

Please follow and like us:

Related posts