চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাষ হচ্ছে ‘ব্যানানা আম’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন জাতের ব্যানানা আম। থাইল্যান্ড থেকে আসা এই আম স্বাদে-গন্ধে যেমন অনন্য, দেখতেও তেমনি আকর্ষণীয়; চাষ পদ্ধতিও সহজ। বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাগানের সংখ্যা। বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নাবী জাতের এই আমের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী কৃষিবিদরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শত শত জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে আসা নাবী জাতের এই আমের প্রতিটির ওজন গড়ে সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ গ্রাম। ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের কারণে ইতোমধ্যেই আমের এই জাতটি চাষিদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চাষ পদ্ধতি সহজ হওয়ায় অনেকে ব্যানানা আম চাষ করে সচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন। বাজারেও এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

কৃষক দুরুল হোদা বলেন, আমটি দেখতে খুব সুন্দর ও সুস্বাদু। নতুন জাতের আমের চারা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে সংগ্রহ করে ৫ বিঘা জমিতে লাগানো শুরু করি। ফজলি আম শেষ হওয়ার সময় ভালো জাতের আম না থাকায় এই নতুন জাতের আম দেশের চাহিদা পূরণ করবে, বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে থাইল্যান্ড থেকে এই জাতের ডগা নিয়ে এসে প্রথমে গ্রাফটিং করা হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের গবেষকরা দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য শুরু করেন গবেষণা। তিন বছর গবেষণা করার পর আসে সফলতা। এরপর প্রতিবছর নিয়মিত আম আসায় ২০১৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে কৃষকের মাঝে এই আমের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়। এ জাতের আমের চারা হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক ড. সাইফুর রহমান জানান, সাধারণত জুন মাসের পর থেকে দেশের বাজারে ভালো জাতের আমের প্রাপ্যতা যখন কমে আসে, তখন বাজারে আসে এই জাতের আম। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় ও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য এই আম চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে সফল হবেন চাষিরা। এ বছর ৫০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নাবী জাতের এই আমের বাণিজ্যিক চাষ নিয়েও আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment