চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখনো জমে উঠেনি আম কেনা-বেচা

নিজস্ব প্রতিবেদক:চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত মে মাসের ৪ তারিখ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আম সংশ্লিস্ট পক্ষসমূহের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫মে থেকে জেলায় বানিজ্যিকজাতের আম  গাছ থেকে সংগ্রহ ও বাজারজাতকরনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী জেলায় আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি গ্রহন করেন। কিন্তু এরপর সপ্তাহ পার হলেও জমে ওঠেনি জেলার আম বাজারগুলি। এব্যাপারে কৃষিবিদ, ব্যবসায়ী ও চাষীরা বলছেন, দেশসেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হতে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হবে।

ভৌগলিক ও আবহাওয়াগত কারনেই দেশের মধ্যে সবশেষে বাজারে আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম (নাবি ফলন)। বাজারে যার সরবরাহ থাকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর (আশ্বিন) পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে আমের ফলন আরও নাবি। তাপ ও বৃষ্টিজনিত আবহাওয়ার তারতম্যে আম গাছে পূষ্ট ও পরিপক্ক হতে দেরী হচ্ছে। সাধারনত: চাঁপাইনবাবগঞ্জের আগে মেহেরপুর,সাতক্ষীরা,নওগাাঁ ও রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আম বাজারে আসে। গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত (হিমসাগর), ল্যাংড়া, ফজলি ও আশ্বিনা  মূলত: এই জাতের আমগুলি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বানিজ্যিকজাতের আম সরবরাহের সিংহভাগ স্থান দখল করে আছে।

সদর উপজেলার মল্লিকপুরের আমচাষী ও ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪৫) শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরঘাট আমবাজারে বসে বলেন, বাজারে এখন শুধু গোপালভোগ ও গুটি (আঁটি) জাতের আম সরবরাহ রয়েছে। তবে সরবরাহ ও কেনাবেচা কম। তিনি তাঁর বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাগানের আম বাজারে নামাতে শুরু করবেন ১০/১২ দিন পর থেকে। তিনি বলেন, সকাল থেকে ৫০ ঝুড়ি মত আম এখন এই বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে। ক্ষণস্থায়ী গোপলভোগ ১৬০০-২৪০০ টাকা মন দরে কেনাবেচা হচ্ছে মান ভেদে ( ৪০-৬০টাকা প্রতি কেজি)। তিনি অপেক্ষা করছেন বাজারে ক্রেতা ও মুল্য আরও বাড়বে এই আশায়। আম বাজার সম্পর্কে একই অভিমত জানালেন একই বাজারের খুচরা বিক্রেতা মসজিদপাড়ার আরিফ (৩৪) ও মতিউর রহমান (৩০)। এদিকে জেলার বিভিন্ন সড়ক সংলগ্ন এলাকায় বাগান থেকেই আম সরবরাহ কেবলমাত্র শুরু করেছেন অনেক চাষী ও ব্যবসায়ী।

তাঁরা বলছেন, বাইরের ক্রেতারা এখনও তেমনভাবে আসতে শুরু করেননি। শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ বাগানের ইজারাদার চাঁন মিয়া (৪২) জানালেন, এখান থেকে তাঁর নিজের বিভিন্ন বাজার থেকে আনা গোপালভোগ বেচছেন ২২০০ টাকা মন দরে। যা ক্রমাগত বাড়ছে। সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু আহমেদ আপেল ( বালিয়াডাঙ্গা ব্লক) ও আব্দুল মতিন ( ঝিলিম ব্লক) বললেন, রমজানের কারনে প্রথমদিকে আমের চাহিদা কম। অর্ধেক রোজা পার হলে চাহিদা বাড়বে। মাত্র বাজারজাত শুরু হওয়া বাজারের অন্যতম সেরা ক্ষীরসাপাতের (হিমসাগর) সরবরাহ শুরু হলে আম বেচা-কেনা জমে উঠবে। এর প্রভাব চলবে ঈদ পর্যন্ত। এই আম জেলার বাইরে সরবরাহ হয় প্রচুর। এ মৌসুমে ঈদের পরই ল্যাংড়া ও ফজলির মুল বাজার শুরু হবে।

এদিকে গত সোমবার (২৯ মে) শুরু হয়েছে জেলার অন্যতম বৃহৎ গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আম বাজার। গোমস্তাপুর আমচাষী সমিতি সভাপতি মাইনুল ইসলাম ও রহনপুর আম আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, ওজন জটিলতার কারণে এই বাজারে  সরবরাহ দেরীতে শুরু হল। কিন্তু এর পরেও বাজার প্রায় ফাঁকা। ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশন বাজার এখনও সেভাবে বসেনি।

দেশের বৃহত্তম জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আমবাজারে এখনও আম সরবরাহ,কেনা-বেচা সেভাবে শুরু হয়নি। সোনামসজিদ এলাকার বাগান মালিক শফিউর রহমান (৫৫) জানালেন, আরও দু’সপ্তাহ সময় লাগবে পুরোপুরি  এই বাজার বসতে। দেশের সব শেষ আম পাওয়া যায় এই বাজারে। এদিকে দফায় দফায় রোগ-বালাই,ঝড় ও শিলা বৃষ্টির পর জেলায় এ মৌসুমে উৎপাদনের ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলেননি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হুদা।

গত শনিবার (০৩ জুন) বিকেলেও সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় গাছ উপড়ানো ঝড়,শিলাবৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেবে জেলার ২৬,১৫০ হেক্টর জমিতে ২২ লক্ষ গাছে আম চাষ হয়েছে। তাঁরা ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে শতকরা দশ ভাগ করে ক্ষতির হিসেব করেছেন স্থানভেদে। এর আগে রয়েছে মুকুল ও গুটির ক্ষতি। হেক্টরে আম ফলন ধরা হয় দশ টন পর্যন্ত। এসব বিবেচনায় এ মৌসুমে সরবরাহে কিছু ঘাটতি ও মূল্য বেশী হতে পারে বলে মনে করেন, জেলা কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশনের সহ সাধারণ সম্পাদক রোকন উজ্জামান। এদিকে, বাজারে নিরাপদ আম সরবরাহে প্রশাসনের যথেষ্ট নজরদারি রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সুত্র জানিয়েছেন।

Please follow and like us:

Related posts