সাংবাদিকের কলমে যখন অসত্য বিবরণ: দালাল বলাই শ্রেয়!

  • কোচিংবাজ শিক্ষক মাহাবুবুল হক-কে নিয়ে দ্বিতীয় অংশ

আজকের বিষয়টা একটু ব্যাতিক্রম । আজ লিখবো সেইসব তথাকথিত কলমধারি সাংবাদিকদের নিয়ে যারা কিনা স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে অন্যায়ের সাথে আপোষ করে অসত্যকে সত্যের চাদরে মুড়ি দেওয়ার বৃথা চেষ্টায় মত্ত । স্থানীয় মুষ্টিমেয় অসৎ সাংবাদিকমহল মাহবুবের টাকার লালসায় তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের পত্রিকায় ভুল নিউজ দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চক্রে লিপ্ত হয়েছে ।

প্রথমত বলা চলে, ‘চাঁপাই দৃষ্টির’ কথা । বিগত দিনেও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে । বড় ভাই, #গোপাল_মনির এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেও জানতে পারলাম, “পাপিয়া ম্যাডাম ও অপু সাংবাদিক চাঁপাই দৃষ্টির সম্পাদক, এমরান ফারুক মাসুম-এর বিরুদ্ধে এর আগেও মামলা করেছিল ।” এর সাথে তিনি শিক্ষা অফিসেও মাননীয় এমপি মহোদয়ের নিকট লাঞ্ছিত হয়েছিলেন । এরকম বলা চলে, মার খেয়েছিলেন । যাই হোক । বিষয়টি হলো, এসব কর্মকাণ্ডের পরেও থামছেনা তার কলমের অসত্যের বিবরণ । সত্য জেনেও কেন এসব করছেন তিনি? যেখানে কোচিংবাজ শিক্ষকের পক্ষে তার স্কুলের কোনো সহকর্মীর অবস্থান নেই । শহরের ৪টি সরকারি বিদ্যালয়ের কেউই মাহবুবের পক্ষে টু শব্দও করেনি । বরং অনেকে মৌখিকভাবে অনেক অভিযোগ করেছে । এর দ্বারাই কি স্পষ্ট হয়না যে, তিনি আসলে কেমন প্রকৃতির মানুষ সেখানে আপনি তার পক্ষে সাফাই গাইছেন । ভালো কথা । আপনাদের নিজেদের মধ্যেই তো দুই রকমের বর্ণনা দেখা যাচ্ছে । বানাতে গিয়ে মনে হয়, গল্পের ধারা ভুলে গিয়েছিলেন । তাইনা? বিস্তারিত পরে আসছি ।

গত শুক্রবার সকালে, স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক (নাম প্রকাশ করবোনা) আমার বাবাকে বলেন, “আপনার ছেলে ফেসবুকে যেসব মিথ্যা লিখে বেড়াচ্ছে আর অনলাইন পোর্টালের নিউজ করে নিজেকে হাইলাইট করছে, এটা তার জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হবে । মাহবুব তার উক্ত নিউজগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আপনার ছেলের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম মামলা করবে । যতো তাড়াতাড়ি পারবেন, আপনার ছেলেকে এগুলো ডিলেট করতে বলেন ।” এর দ্বারা আপনারা ম্যাংগো পিপলস কি বুঝলেন? এমন কি, মাহবুবের কোচিং এর শিক্ষক কর্তৃক আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে । আজকাল সত্যকে আঁকড়ে ধরলেও এসব সিচুয়েশন ফেস করা লাগে ।

এছাড়া ‘দৈনিক রাজবার্তা’ ও ‘দৈনিক আমাদের কণ্ঠ’ একই নিউজ তৈরি করেছে । জানিনা, মাহবুবকে এরা কতটা কাছ থেকে চেনে । তবে, চাঁপাইবাসি বলতে পারে, মাহবুবের টাকার ক্ষমতা এদের কাছে কতটা Priority পায় ।

দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি- (১ মে, ২০১৭, সোমবার)

“সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইলের অপচেষ্টা”- এই শিরোনামে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, এপ্রিলের ২৫ তারিখ এক ব্যক্তি (ফারুক ভাই ও মেহেদি ভাই) সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মাহবুবকে ফোন করে তার কোচিং এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে তাদের অফিসে দেখা করতে বলেন । পরের দিন, মাহবুব তাদের অফিস গেলে তারা মাহবুবকে বলে, তিনি বেআইনী কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করছেন । “এই বিষয়ে সংবাদ হলে চাকরি চলে যাবে”- এই ভয় দেখিয়ে মাহবুবের কাছে তারা ১ লাখ টাকা দাবি করে । কিন্তু, মাহবুব টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে সেখান থেকে চলে আসে । কিছুদিন পরে ঐ চক্রের একজন মাহবুবের স্ত্রীর মালিকানাধীন কোচিং ও স্কুলের ছবি তুলে নিয়ে যান । মাহবুব, ‘চাঁপাই দৃষ্টি’- কে জানান, তিনি হরিমোহনের কোনো ছাত্রকে প্রাইভেট পড়ান না ।

আমার যুক্তিখণ্ডিত উত্তর- সাংবাদিকের কাজ শুধু শোনা কথায় বিশ্বাস করাই নয় । বরং তা যথাযথভাবে যাচাই করা । মাহবুব বলল, আর আপনি উড়ো কথায় বিশ্বাস করে তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করে বসলেন । হরিমোহনের কোনো ছাত্র তার কোচিং-এ পড়ে কিনা সেটি সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করা উচিত ছিল । এপ্রিল- ২৫শে যদি ফোন করে চাঁদা চায়, এরপরে মাহবুবের মামলা করতে এতো দেরি হলো কেন? নাকি উনি চোর পালানোর অপেক্ষায় ছিলেন ?

দৈনিক রাজবার্তা- (৩০মে, ২০১৭, মঙ্গলবার)

“চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোচিং সেন্টারে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের”- এই শিরোনামে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ে ২ জন চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিলো । তারা ৩০ এপ্রিল অর্থাৎ ঘটনার দিন সশস্ত্র অবস্থায় কোচিং সেন্টারে অফিসকক্ষে অনধিকার ঢুকে ফারুক ভাই, বাদী অর্থাৎ শামিমা নাসরিনকে এই মুহূর্তে ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলে । এরপর মেহেদি ভাই, শামিমা নাসরিনের বুকে চাকু চেপে বলে, চিৎকার করলে এখনই জবাই করে দিব (অনেকটা বাংলা মুভির মতো) । এরপর ফারুক ভাই ছবি তুললে অভিভাবকরা তাকে বাঁধা দেয় । এরপরে আসামিরা অফিস ভাঙচুর করেই পালিয়ে যায় । এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক, শামিমা নাসরিন গত ২৮ মে চীফ জুডিশিয়াল আদালতে আসামির বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করে ।

আমার যুক্তিখণ্ডিত উত্তর- দৈনিক রাজবার্তার চাঁপাইয়ের জেলা প্রতিনিধি চাঁপাই এর নতুন মুখ নয়তো? কোচিং সেন্টার কার নামে আছে, সেটি উনি না জেনেই অযৌক্তিকভাবে উক্ত সংবাদ প্রকাশ করেছেন । কোচিং- এর যেকোনো শিক্ষার্থী/অভিভাবককে জিজ্ঞসা করলেই তারা বলে দেবে কোচিং এর মালিক কে? শামিমা নাসরিনকে তারা চেনে কিনা? এছাড়াও যাচাই করতে চাইলে, এ্যাডভান্স কোচিং কর্তৃক প্রকাশিত ষষ্ঠ শ্রেণির এ্যাডমিশন ভর্তি গাইডের, প্রথম পৃষ্ঠা দেখতে পারেন । “এ্যাডভান্স চাইল্ড কেয়ার” প্রতিষ্ঠানটি মাহবুবের স্ত্রীর নামে তালিকাভুক্ত থাকলেও মূলত স্কুল পরিচালনায় শামিমা নাসরিনের কোনই ভূমিকা নেই । মুখ্য ভূমিকা পালন করে মাহবুব নিজেই । সেটি নাহয় বাদই দিলাম । কিন্তু, কোচিং সেন্টারের মালিক মাহবুব নিজেই । ভালো করে তথ্য সংগ্রহ না করে আজাইরা মন বানানো গল্প প্রকাশ করলে হাসির পাত্র হয়ে যাবেন মাননীয় জেলা প্রতিনিধি । আর তাছাড়া ঘটনা ঘটল ৩০ এপ্রিল আর মামলা দায়ের করা হলো তার প্রায় ১ মাস পর অর্থাৎ ২৮ মে । এই ১ মাস শামিমা নাসরিন কোথায় ছিলেন? তিনি কি চান্দে ঈদের শপিং করতে গিয়েছিলেন? এসব দিয়েই কি সুস্পষ্ট হয় না যে, আসল প্যাঁচটা কোথায়?

দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি- (৩০মে, ২০১৭, মঙ্গলবার)

“কোচিং সেন্টারে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের”- এই শিরোনামে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ফারুক ভাই ও মেহেদি ভাই ঘটনার প্রায় দুই মাস আগের থেকেই কোচিং সেন্টারের মালিক শামিমা নাসরিনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবি করে আসছিল ।

আমার যুক্তিখণ্ডিত উত্তর- পত্রিকার সম্পাদকের মনে হয় তিনটি হাত । দুইটি হাতের সাথে একটি অতিরিক্ত অজুহাত । কতো রকমের নিউজ দিতে পারেন আপনারা? প্রথমে ১ লক্ষ টাকা আর পরে ৫ লাখ? তারপরেও আগের পত্রিকার কোনো রেফারেন্স ছাড়াই? চাঁদাবাজরা কি বাংলাদেশের দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিচ্ছবি? সময়ের সাথে সাথে তাদের ডিমাণ্ড ও বাড়ছে? নাকি আপনাদের বিবেক পরিবর্তন হচ্ছে? প্রথমে যদি চাঁদাবাজরা তাকে তাদের অফিসে ডেকে চাঁদা দাবি করেছিল তবে মাহবুব চুপ করে ছিল কেন? তখন কেন চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে নাই? একবার বলেন, “মাহবুবকে চাঁদাবাজরা অফিসে ডেকে চাঁদা দাবি করেছিল ।” আরেকবার লিখেন, “শামিমা নাসরিনের কাছে দুই মাস ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল চাঁদাবাজরা ।” আপনাদের তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনই মিল নেই । আপনারাও সাংবাদিকতা ছেড়ে গল্পকার হয়ে যান । নিজের ইচ্ছামতো বানিয়ে গল্প লিখে তা প্রকাশ করতে পারবেন । অনেক অভিজ্ঞতা আপনাদের ।
“সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ।” – এটা কি ভাই? ফারুক ভাই ও মেহেদি ভাই কি সত্যিই সাংবাদিক নন? নাকি কোনো এলিয়েন । তাদের পরিচয় কি আপনি জেনেও না জানার ভান ধরেছেন ? আপনারা সিনিয়ার রিপোর্টার হয়েও এসব কি শুরু করেছেন? যেখানে আপনাদের কলম থেকে সত্য জানাটাই আম জনতার অধিকার । সেখানে, আপনাদের এরুপ কর্মকাণ্ড দেখলে আফসোস হয় ।

মূল বিষয় হচ্ছে এটাই যে, প্রতিটি পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে- গত ৩০ এপ্রিল ফারুক ভাই ও মেহেদি ভাই- কোচিং-এ সশস্ত্র ঢুকে বাদীর বুকে চাকু ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে । এরপর অফিস ভাঙচুর করে চলে যায় । কিন্তু, গত ৩০ এপ্রিল ঘটনার দিন ফারুক ভাই ও মেহেদি ভাই মার খেয়েছিল । ভাঙচুর করলো কখন? আর বাদীর বুকে চাকুই বা ধরলো কখন? যদি ঐ দিনই তারা মার খেয়েছিল তবে ফারুক ভাই ও মেহেদি ভাই তাদের অস্ত্রের সঠিক ব্যাবহার করলোনা কেন? চাকুই যদি ধরেছিল, তবে তাদের ‘ডাকাত’ না বলে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলা হচ্ছে কেন? ঐদিন মাহবুব ও তার সঙ্গীরা সাংবাদিকদের মারার পর থানায় গিয়েছিল এবং স্বীকারও করেছিলো যে, তারা সাংবাদিকদের মেরেছিল । কিন্তু উক্ত একটা পত্রিকাতেও সাংবাদিকদের মারার বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই । কি লুকানোর অপচেষ্টা? ঐদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ দিয়ে কোচিং- এর দুই অভিভাবকের মধ্যে কথোপকথনের একটা অডিও ক্লিপ আছে আমার কাছে যেটা মেহেদি ভাই হতে প্রাপ্ত যা শুনলে আপনারা অতি সহজেই উপলব্ধি করতে পারবেন আসল সত্যটা কোথায় ঢেকে আছে । প্রকৃতপক্ষে সবটাই বানোয়াট । সাংবাদিকদের মধ্যেই দুই রকম খবর । মূল কথা তো এটাই যে, টাকার খেলায় সত্য আজ বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে আর মিথ্যা বানোয়াট হয়ে সত্যের জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বৃথা চেষ্টায় মেতে উঠেছে ।

Please follow and like us:

Related posts