সাংবাদিক ধ্রুব’র বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না হলে তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও

বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম-এর সাংবাদিক গোলাম মুজতবা ধ্রুব’র বিরুদ্ধে এক বিচারকের করা আইসিটি অ্যাক্ট- ৫৭ ধারার মামলা প্রত্যাহারের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। মামলা প্রত্যাহার না করলে আগামী রবিবার (১৮) জুন তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সাংবাদিক ধ্রুবর বিরুদ্ধে বিচারকের দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে’ আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। সাধারণ সাংবাদিকবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির( ডিআরইউ) সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একজন বিচারক কীভাবে একটি কালো আইনে অভিযুক্ত ৫৭ ধারায় মামলা করেন? এই আইনটি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার আইন। ফলে ৫৭ ধারা বাতিল না হলে কলম পেশা হুমকির মুখে পড়বে। অবিলম্বে এই কালো আইন বাতিল করতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ৫৭ ধারা বাতিল করার দাবি করে আসছি। আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী নিজেও এই আইনটি বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে আমরা চাই দ্রুত আইনটি বাতিল করা হোক।’ ধ্রুবর মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি তার পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ( ক্র্যাব) সভাপতি আবু সালেহ আকন্দ বলেন, ‘গত ৪ মাসে ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ৫৭ ধারা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের নিপীড়ন- নির্যাতন করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে এই ধারা রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, মাদক ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবশেষে বিচারকও এই কালো আইনে মামলা দিলেন, সাংবাদিকরা কোথায় যাবে? দুদিনের মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে রাজপথ নামতে বাধ্য হবে সাংবাদিক সমাজ। যেকোনও পরিস্থিতির দায় ভার বিচারককে নিতে হবে।’
বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ ও ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় তবে সেটা ন্যায় সংগত ও যৌক্তিক হতে হবে। কেউ কোনও একটি রিপোর্টের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হন তিনি মামলা করতে পারেন, তার জন্য প্রেস কাউন্সিল আছে। তিনি ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন, মানহানীর মামলাও করতে পারেন। কিন্তু ৫৭ ধারায় মামলা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা। সাংবাদিক ধ্রুবকে ৫৭ ধারায় মামলা করে বিচারক উদ্যোশ্য প্রণোদিত হয়ে মামলাটি করেছেন। তার সাংবাদিকতা জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এ কাজটি তিনি করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে করা এই মামলাটি প্রত্যাহার চাই। শুধু তাই নয়, ৫৭ ধারা বাতিল ও আগামীতে যেন এমন কোনও কালো আইন দেশে না আসে সেটারও দাবি জানাই।’

কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে চ্যানেল ২৪ এর সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদ নিজাম বলেন, ‘আগামী রবিবার সকাল ১০টা অর্থ্যাৎ ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত মামলাটি প্রত্যাহারের সময় বেঁধে দেওয়া হলো। যদি মামলা প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে রবিবার সকাল ১১টায় আবার আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হবো। বিক্ষোভ মিছিল করবো, মিছিল নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।’
মানববন্ধনে অন্যান্য সাংবাদিকরা ৫৭ ধারা বাতিল, ধ্রুবর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলার নিঃশর্ত প্রত্যাহার করে বিচারককে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন ৭১ টিভির সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন নাহার মিনু, চ্যানেল ২৪’র সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদ নিজাম, নতুন সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার ইমরান আলী, বাংলা ট্রিবিউটের ক্রাইম রিপোর্টার আমানুর রহমান রনি, যমুনা নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার সুশান্ত সাহা, ইউথ জার্নালিস্ট ফোরামে রাহাত হুসাইন, বাংলা ট্রিবিউনে রিপোর্টার রশিদ আল রুহানী, পরিবর্তনের স্টাফ রিপোর্টার ফররুখ বাবু, আশিক মাহমুদ, প্রীতম সাহা সুদীপসহ আরও অনেকে।
প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জের এক বিচারককে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর.কম এর নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম মুজতবা ধ্রুবর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয়। মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়।
যে প্রতিবেদনের জন্য মামলা করা হয় সেটি গত ১১ জুন রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ‘একটি অসুস্থ শিশু, বিচারকের ট্রাক ও একটি মামলা’ শিরোনামে বিডিনিউজে প্রকাশিত হয়।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment