দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া ৭ নংওয়ার্ডে সমিতি বাজার রাস্তা, যেন ছোট্ট জলাশয়

শুনতে আশ্চর্য লাগলেও বাস্তবে তা সত্য। দীর্ঘদিন থেকে কক্সবাজার পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অবজ্ঞায় দক্ষিণরুমালিয়ার ছড়া ৭নং ওয়ার্ডের সমতি বাজারের রাস্তাটি চলাচলের উপযোগি তো নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে চরমে। আর সমিতি বাজারের রাস্তাটি দেখে মনে হবে, রাস্তা যেন ছোট্ট জলাশয় ! পথচারীদের হাটা, চলাফেরার চরম ভোগান্তির নাম কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নংওয়ার্ড সমিতি বাজার । পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ৭নংওয়ার্ড দক্ষিণরুমালিয়া ছড়া সমিতি বাজার। এই রাস্তায় জলাশয় হওয়ায় সিএনজি, অটো রিক্সা, ভুটভুটি, টমটম না যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়তে হয় দক্ষিণ রুমালিয়াছড়া সমিতি বাজারে আসা পথচারীদের। সমিতি বাজার, সিকদার বাজার, এ বিসিঘোনায় ৩ টি হাফেজ খানা, ৩ টি ফোরকানিয়া ৫ টি মসজিদ ও ৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিক্ষক ও অভিভাবক এবং জনসাধারণ চরম সমস্যা নিয়ে সমিতি ববাজার দিয়ে চলাফেরা করেন প্রতিনিয়ত। পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে সমিতি বাজারের দিকে যানবাহন এসে থামে। এই থামার ফলে এক দিকে যানজট ও অন্যদিকে খানাখন্দ রাস্তা। বৃষ্টি হলে কাদা আর ছোট্ট জলাশয় যানবহন চলাচলে যেমন সমস্যা তার থেকে অধিক সমস্যা পায়ে হেঁটে যাওয়া। কোন দিকে থেকে যে যানবাহনের চাকার কাদা ছুঁড়ে এসে গায়ে পড়বে বলা মুশকিল এমনটি জানালেন সমিতি বাজারের বাসিন্দা স্কুল মাস্টার মোসা ও মাস্টার শুক্কুর । আর শুক্কুর স্যারের বাড়ী থেকে লন্ড্রি দোকান পর্যন্ত সামান্য বৃষ্টি হলে দেখা যায় রাস্তার নাজেহাল অবস্থা। অনেকটা ঠিক ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি মতো অবস্থা। গত বছর ২০১৫ সালে কক্সবাজার পৌরসভার কতৃক দক্ষিণ রুমালিয়া ছড়া হতে সমিতি বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা হয়। মাস না যেতেই টানা বৃষ্টিতে রাস্তার বেশ কয়েক জায়গায় খোয়া, পিচ উঠে ছোট ছোট খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় জমে থাকে পানি। আর তার সাথে বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হয় কাদা। সে পানি পড়ছে পথচারীদের গায়ে। অনেকের গন্তব্যস্থলে যেতে এই রাস্তার পার হতে গিয়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। সমিতিবাজারের ব্যবসায়য়ীরা বলেন, গত এক বছর আগে পৌরসভা থেকে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়।ড্রেনটি অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের জিনিসপত্র দিয়ে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। পানি বের করার জন্য নির্মাণ করা হলেও কোন কাজে আসেনি। পানি বের করার জন্য অন্তত ১৫-২০ হাত ড্রেন ভেঙ্গে পানি বের করতে হচ্ছে। এক বছর যাবৎ ভাঙ্গা ড্রেনের বড় বড় খাম্বা এখনো পড়ে আছে। সেখানে হচ্ছে ছোটখাট দুর্ঘটনা। শুক্কুর স্যারের বাড়ি থেকে লন্ড্রি দোকান পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে জমে থাকা কাদার জন্য পথচারীরা হাটতে পারেন না। পথচারী রাজন, আজিজ, বাদশা বলেন, রাস্তার প্রশস্ত অনেক ছোট। একদিক থেকে একটি বড় গাড়ি আসলে বিপরীতে দিক থেকে আসা অন্য গাড়ীটি সহজে পার হতে পারে না। পথচারীরা রাস্তার পশ্চিম দিক দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। পথচারীকে একই দিক দিয়ে হাঁটার ফলে ছাত্রীদেরকে পড়তে হয় চরম সমস্যায়। ব্যবসায়ী সাগর বলেন, পশ্চিম পারের সব দোকানিরা মাটি তুলে রাস্তা থেকে অনেক উঁচু করে ফেলেছে। যার ফলে পানি হলেই মাটি নেমে রাস্তায় প্রচুর পরিমাণে কাদা জমে যায়। পানি হওয়া মাত্রই সব মাটি কাদা হয়ে রাস্তায় জমে পড়ছে। পথচারীরা ইচ্ছে করলেও রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারছে না। আর অন্যদিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার কক্সবাজার পৌরসভার সব কর্তা বাবুরা তাদের চোখে কখনো আমাদের সমিতিবাজারের দুর্ভোগের কথা মনে হয় না। আমাদের দাবী অতি দ্রুত সমিতিবাজারের পথচারীদের জন্য আলাদা হাটার জায়গা বের করে দেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনাকরেছেন।

Related posts

Leave a Comment