আবারও ল্যাব ওয়ানের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ : প্রসূতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান ল্যাব ওয়ান মেডিক্যাল সার্ভিসেস এ অবহেলায় আবারও প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ল্যাব ওয়ান কতৃপক্ষ ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত্যের বাবা আবু সুফিয়ান। অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও গনমাধ্যামকর্মীদের প্রেরণ করেন।

এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাতেও লিখিত অভিযোগ করেন চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত প্রসূতির বাবা আবু সুফিয়ান। অভিযোগের ভিক্তিতে  সদর মডেল থানার অপারেশন ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিকের পরিচালক কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে হয়েছে।  আইনগত ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধিন, প্রাথমিক তদন্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

অভিযোগপত্রে, ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর কারনে ডাক্তার ও ল্যাব ওয়ান সার্ভিসেস কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা  গ্রহনের দাবি জানান।

জানা যায়, অভিযোগকারি আবু সুফিয়ান তার সন্তান সম্ভবা মেয়ে হাবিবা খাতুন মুক্তার প্রসব বেদনা উঠলে ২৪ জুন দুপুরে শহরের পিটিআই মোড়ে অবস্থিত ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেসে ভর্তি করান।

ভর্তির পর ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেসে দায়িত্বরত ডাক্তার মোঃ শহিদুল ইসলাম খান জেনারেল সার্জন (সার্জারি), নবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ রোগির আল্ট্রাসনোগ্রফি করার আদেশ দেন।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে ডাক্তার শহিদুল ইসলাম খান জানান রোগির নরমাল ডেলিভারী হবেনা এই মূহুর্তে সিজার করা লাগবে, অপারেশন ছাড়া ডেলিভারি সম্ভব না বলে রোগিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যেতে বলেন।

তবে অপারেশন থিয়েটারে এ্যানেসথেসিয়া ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে অভিযুক্ত ডাক্তার শহিদুল ইসলাম খান নিজে রোগিকে অবশ করার ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার তিন মিনিটের মাথায় রোগির মৃত্যু ঘটে।

অবহেলা আর অপেশাদারিত্বের কারনে এই মৃত্যু হয়েছে যা হত্যার সমপর্যায়ে পড়ে উল্লেখ করে হত্যাকারি ডাক্তার ও ল্যাব ওয়ান সার্ভিসেস কতৃপক্ষের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন অভিযোগকারি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায় মৃত হাবিবা আক্তার মুক্তার, মাসুমা আক্তার নামে আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মায়ের অকাল মৃত্যুতে তাই নিষ্পাপ এই বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কাজী শামীম হোসেন জানান, আমি অভিযোগটি পেয়েছি সাথে সাথে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছি।  গতকাল (বুধবার) এ্যানাসথেসিয়া কনসালটেন্ট, আরএমও সহ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার শহিদুল ইসলাম খানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে সাক্ষাতকার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য এর আগেও ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেসে (১১ডিসেম্বর, ২০১৬)   ভুল চিকিৎসায় মর্জিনা বেগম(২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। সে সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ল্যাব ওয়ানের বিরুদ্ধে  চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিভিল সার্জন। তবে অভিযুক্ত ডাক্তার শহিদুল ইসলাম খান কে রাখা হয় তদন্ত কমিটিতে। অদৃশ্য কারনে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি কতৃপক্ষ।

Please follow and like us:

Related posts