ত্রিশালে নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  য়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত সুতিয়া নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় নদীর ঐতিহ্য ও গতি প্রবাহ হারিয়ে যেতে বসেছে। সম্প্রতি পৌরসভার দরিরামপুর এলাকায় বাজার ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা বিশাল অংশ বেদখল করে করে পাঁচতলা ভবণ নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে তিনতলার কাজ শেষ হয়েছে । স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ভবন নির্মাণের কারণে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং নৌ-যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বড় দুর্ঘটনার কবলে।

ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জমি শিকস্তি আইন অনুযায়ী এ জমির মালিক সরকার। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা এবং কুষ্টিয়া জেলায় কর্মরত এক থানার ওসি জিয়াউর রহমান ১৪ শতাংশ জমি দখলের মাধ্যমে ইসমাইল প্লাজা নাম দিয়ে নদীর ভেতরের এ জমি দখল করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ৩তলার কাজ শেষ হয়েছে ।এতে নৌ-চলাচল ব্যাহত ও নদী বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এব্যপারে পৌরসভার পক্ষ থেকে ঐবিল্ডিং মালিককে বার বার উচ্ছেদের তাগাদাও দেয়া হয়েছে । ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান জানান, বিল্ডিংটি অনুমোদন বিহীন হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে অবৈধ দখলদারকে বার বার তাগাদা দেয়া হয়েছে । পৌরসভার নোটিশ কর্ণপাত না করায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে ।ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফৌজিয়া সিদ্দিকা জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনারের কার্যালয় থেকে জরিপ শেষে নির্মিত অবকাঠামো সরিয়ে নেয়ার জন্য অবৈধ দখলদারকে জানিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, দখল করা জমিতে নির্মিত  বিল্ডিং এর ছাঁদের একাংশ নির্মাণ করা হয়েছে জেলা পরিষদের জমিতে ।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর নিচ থেকে আরসিসি পিলার করে ভবনের নিচের অংশ করার পর ৩তলার কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তালার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই দখলদারের জন্য ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে সুতিয়া নদী ।
ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন জানান, নদীর জমি দখলদারের বিরুদ্ধে ত্রিশাল উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আমিসহ ১২ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুলেশন করে দখলদার উচ্ছেদের দাবী জানিয়েছি  ।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন জানান, দখলদারকে বার বার নোটিশ করার পরও কোন জবাব দেন না । উপরন্তু তিনি প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছেন । ইউএনও বলেন, ইতিপূর্বে সরকারি এই জমিতে নির্মিত ভবনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয় । সেময় দখলদার হিসাবে শাহীন নামের একজনকে পাওয়া যায় । ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন  । জানা যায়, শাহীন দখলদার ওসির সম্পর্কে শেলক হন ।
এব্যাপারে দখলদার ওসি জিয়াউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি ।জমি দখলের বিষয়ে এলাকার সচেতনমহল একাধিকবার অভিযোগ করলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালীদের হাত থেকে নদী বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছে তারা।
Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment