সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত শিল্পপতির পশুর খামার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দারিদ্র বিমোচন বা বেকরত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বি হতে নয়, জীবের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই গড়ে তুলেছেন গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী, মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুর খামার । নিতান্তই সখের বসে গড়ে তোলা সেই খামার হয়ে উঠেছে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। তেমনই উজ্জল সম্ভাবনাময় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ঠ শিল্পপতি তরিকুল ইসলাম (টি. ইসলাম)। নিজ এলাকায় স্থায়ীভাবে গরু, ছাগল ও উন্নত প্রজাতির গাড়লের খামার করে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ গরুর খামার গড়ে তুলেছেন টি ইসলাম গ্র“প অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান । জানা যায় চাঁপাইনাববগঞ্জ পৌর এলাকার মীরপাড়ায় তার মালিকানাধীন মিনার অটো রাইস মিল সংলগ্ন বিরাট এলাকাজুড়ে ২০০৫ সালে প্রথম গরুর খামার গড়ে তুলেন। এরপর নাচোল উপজেলার লক্ষিপুর এলাকায় নির্মানাধীন টি. ইসলাম এগ্রো ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজের পাশেই গড়ে তুলেছেন আরো একটি পশুর খামার। যেখানে গরু, গাড়ল, হাঁস ও মাছ চাষের জন্য দর্শনীয় পুকুর রয়েছে।

তার খামারে বর্তমানে প্রায় ৮০ টি উন্নত জাতের গাভীসহ প্রায় ২০০ টি গরু রয়েছে। এ খমারে পালিত গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০-২৫০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। মেসার্স টি ইসলাম এগ্রো ফিড এন্ড ডেইরী ফার্মের মালিক বিশিষ্ঠ শিল্পপতি তরিকুল ইসলাম শেয়ার বিজ কে জানান- আগামী কোরবানীর ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হবে আরো ৫০ টি গরু। যা সম্ভাব্য বাজার দর হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তার মালিকানাধীন পৌর এলাকার মীরপাড়ায় অবস্থিত ছাগলের খামার পরিদর্শন করে দেখা যায় ২৭৫ টি উন্নত জাতের ছাগল ও ৯০ টি গাড়ল রয়েছে। যার বর্তমান আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রায় ১ হাজার রাজহাঁস ও পাতিহাঁস রয়েছে। জানা যায় টি ইসলামের বিশাল আকারের গরু খামার পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন শ্রেনী- পেশার লোকজন। তার গরুর খামার দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাছাড়া গরুর খামার করতে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেকেই। সম্প্রতি সরকারি পশু হাসপাতালে ছাগল ও গাড়ল প্রদর্শণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে শিল্পপতির খামারে পালিত পশু। এছাড়াও টি ইসলাম বর্তমানে একাধিক পুকরে নিজেই মাছ চাষ করছেন। তার নিজস্ব ১০ টি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউস সহ বিভিন্ন দেশী জাতের মাছের চাষ করা হয়। মাছ চাষ ও গরুর খামারে স্থানীয় বেশ কিছু (২০-২৫ জন) বেকার যুককের কর্মস্থনানের সুযোগ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন আগামী দিনে এ খামার বাড়ানো ও নতুন করে খামার স্থাপনের উদ্দেশ্য রয়েছে। আমার সখ থেকে খামার স্থাপন, মোটাতাজা করন প্রক্রিয়া ছাড়াই গরু, ছাগল, গাড়ল, হাঁস ও মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

Please follow and like us:

Related posts