যৌনতায় অনাগ্রহ জাপানি তরুণ-তরুণীদের!

দিন দিন যৌনতায় অনাগ্রহ বাড়ছে জাপানি তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। দেশটির অধিকাংশ তরুণ-তরুণীদের নেই যৌন অভিজ্ঞতা।

নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, জাপানের ৪৩ শতাংশ তরুণ-তরুণীর কোনো যৌন অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি ৬৪ শতাংশের কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই।

আরো জানা গেছে,  ৩০ বছর বয়সেও নেই যৌন অভিজ্ঞতা নেই- এমন তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বাড়ছে দেশটিতে। এমনকি তাদের বেশির ভাগই কোনো ধরণের শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াই জীবন যাপন করছেন।

যদিও জাপানে ভালোবাসা ও যৌনতার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। তাছাড়া যৌনতা নিয়ে একধরণের ফ্যান্টাসি রয়েছে তাদের মধ্যে। দেশটিতে প্রথম প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভালোবাসার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রচলন হয় ‘লাভ হোটেলে’র। তবে প্রশ্ন হলো, হঠাৎ এমন কী হলো প্রেমিক জাপানিদের?

সুন্দরী তরুণী আনা। সফল নির্বাহী হিসাবরক্ষকও। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো , নৈশক্লাবে আড্ডা দেয়া সবই উপভোগ করেন তিনি। কিন্তু যৌনতাই তার নেই কোনো আগ্রহ।

২৬ বছরের জাপানি তরুণ আনো মাতসুয়ি। তিনি ও তাঁর বন্ধুরা নারীদের এড়িয়ে চলেন। তারা প্রেমের বদলে সময় কাটান বিভিন্ন শখের চর্চা করে।

এসবের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন বিবিসির টোকিও প্রতিনিধি রুপার্ট উইংফিল্ড হায়েস।

রুপার্ট উইংফিল্ড হায়েস এ ব্যাপারে ২৬ বছরের কৌতুক অভিনেতা আনো মাতসুয়ি প্রশ্ন করলে তিনি জানান, নারীরা তাকে পছন্দ করেন না। এজন্য তার আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। এছাড়া একবার তিনি এক নারীকে ডেটিংয়ের প্রস্তাব দিলে ওই নারী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে তার মন আরো ভেঙে যায়।

ওই সাংবাদিক আনো মাতসুয়ির বন্ধুদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, বেশির ভাগ বন্ধুর অবস্থা তার মতোই। তারা নারীদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে থাকে। এজন্য প্রেমের বদলে বিভিন্ন শখের চর্চা করে সময় কাটান। অনেক সময় নিজের জন্য দুঃখও হয়। কিন্তু কিছু করার নেই।

এরপর রূপার্টের কথা হয় শিল্পী নকু দেনাসিকোর সঙ্গে। তিনি একজন থ্রিডি ইমেজ শিল্পী। এ জগতে খুবই জনপ্রিয়। নকু দেনাসিকো আরো দুই নারীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন রুপার্ট। পরিস্থিতি শুনে ওই নারীরা বিস্মিত। কারণ, তাঁদের কাছে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেনাসিকোর কাছে তারা যৌনতায় অনাগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ নয়। সম্পর্কের শুরুতেই একজন তরুণ ডেট করার প্রস্তাব দেয় তরুণীকে। এটি করতে গিয়ে অনেকে বিব্রতবোধ করেন। পুরুষেরা পর্নোগ্রাফি দেখেন। এভাবেই তাঁরা যৌনতৃপ্তি পান। বোঝা গেল, জাপানি তরুণেরা ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি দেখেন। তাহলে জাপানি তরুণীরা কী করেন?

জাপানের তরুণ প্রজন্মের যৌনতায় অনাগ্রহের কারণ হতে পারে পর্নোগ্রাফি, আত্মবিশ্বাসের অভাব অথবা অনাগ্রহ। কারণ যা-ই হোক, ৩০ বছরে পা রাখা জাপানিদের যৌনতার কোনো অভিজ্ঞতা নেই- এটাই বাস্তবতা।

Please follow and like us:

Related posts