নারী তুমি কি পুরুষের ভোগ্য পণ্য? একটু পড়ুন

0

নারীরা কি তাঁদের দেহকে পুরুষের ভোগের বস্তু মনে করে? সব নারী এমনটি মনে না করলেও মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট নারীরা তাঁদের কাজ ও কর্মের দ্বারা আমাদেরকে এমনটি মনে করিয়ে দেয়।

মানুষ বিনোদন প্রিয়। একটু আনন্দ ও মজা উপভোগ করতে অবসর সময়টুকুতে লোকেরা ভিডিও গান, নাটক ও সিনেমা দেখে থাকে।

সুস্থ বিনোদন সমাজের নানান অসঙ্গতি ও বৈষম্য দূর করে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সরকারকে সহায়তা করতে পারে।

ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করলে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

কিন্তু আমরা এর বদলে কি দেখতে পাচ্ছি?

ধর্মীয় মূল্যবোধের বিপরীত ভিডিও গান, নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করে আমাদের যুব সমাজকে বিপথগামী করে দিচ্ছে। তাঁদেরকে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতার পাপাচারে ডুবিয়ে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে কিছু লম্পট নারী ও বিনোদন নির্মাতারা।

এসব ভিডিও নির্মাতারা নারীদেরকে মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে নাটক পর্যন্ত ওড়না বিহীন বক্ষদেশ প্রদর্শন করে যুবকদের সামনে উপস্থাপন করছে।

চলচিত্র নায়িকাদেরকে স্বল্প বসনে, আবার কাউকে আইটেম গানের নামে একেবারে লজ্জাস্থান খোলামেলা ভাবে প্রদর্শন করে সমাজের নানান শ্রেণী পেশার লোকেদের সামনে উপস্থান করছে।

তাঁদের এমন নগ্ন উপস্থাপনা দেখলে বুঝা যায় নারীদের রূপ-সৌন্দর্য্য ও তাঁদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পুরুষের উপভোগের বস্তু, তাই তাঁরা নাটক-সিনেমার মাধ্যমে নারীদেরকে জনতার ভোগের হিসেবে সমাজে  প্রতিষ্ঠিত করছে।

ভিডিও নির্মাতাদের কথা, গল্প ও তাঁদের নির্দেশনার অনুযায়ী নাটক সিনেমাতে নির্লজ্জ, বেশরম, বেহায়া অভিনেত্রীরা নিজেদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খোলামেলা ভাবে প্রদর্শন করতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করছে! তাহলে তারাও কি মনে করে তাঁরা পুরুষের উপভোগের বস্তু? নাটক ও সিনেমার মাধ্যমে নিজেদের লজ্জাস্থান খোলাভাবে প্রদর্শন করে পুরুষদেরকে পুলকিত করে খ্যাতি ও অর্থ উপার্জন করাই তাঁদের কাজ?

তাঁদের এসব কর্মকান্ডের দ্বারা কি একটুও লজ্জিত হয় না? অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করতে গিয়ে নিজের গায়ে ও লজ্জাস্থানে ঠিক মতো কাপড়ই না রাখা যায় তাহলে একাগুজে সম্মান দিয়ে কি হবে? এসম্মান তো আপনাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

মানুষ অর্থ উপার্জন করে ভালোভাবে চলা-ফেরা করার জন্য, ভালো ও সুন্দর পোশাক পরিধান করার জন্য এবং নিজের ইজ্জত আব্রু ঢাকার জন্য। নিজের লজ্জাস্থান অন্যের দৃষ্টি থেকে হেফাযত করার জন্য। একজন ভিক্ষুক নারী পুরুষ ছেঁড়া কাপড় দ্বারাও নিজের লজ্জাস্থান অন্যের দৃষ্টি থেকে হেফাযত করে। আর আপনারা এমন পোশাক পরিধান করে ক্যামেরার সামনে হাজির যাতে করে আপনাদেরকে দেখতে যৌন আবেদনময়ী লাগে।

মাহিয়া মাহির হট সেক্সি ছবি
তবুও ভালোবাসি ছবির সোনালী কাবিন গানে নায়িকা মাহিয়া মাহিকে গানের শেষের অংশে যৌন আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং যৌন আবেগবশতী হয়ে বাপ্পিকে জড়িয়ে মাটিতে শুয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

একজন দেহ প্রসারী নারীকে উপভোগ করতে হাজার টাকা লাগলে আপনাদের উপভোগ করতে একজন পুরুষকে ১০ টাকাও খরচ করা লাগে না।

এ ১০ টাকার বিনিময়ে রাস্তায় বসে জুতা সেলাই করার মুচিও আপনার রূপ-সৌন্দর্য ও যৌন আবেদনময়ী অঙ্গ-ভঙ্গি উপভোগ করতে পারছে।

আপনি কি চিন্তা করতে পারেন এই খ্যাতির নেশায় মিডিয়া আপনাকে কোথায় নামিয়ে দিয়েছে?

এক কেজি ছাগলের মাংসও আপনাদের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রয় হয়। তাই সময় থাকতে ভাবুন। লজ্জাস্থান প্রদর্শন করে পুরুষের উপভোগের বস্তু হবেন নাকি অশ্লীলতা ও লজ্জাস্থান প্রদর্শন বন্ধ করে কাজ ও কর্মের দ্বারা হাজারো মানুষের পথ  চলার অনুপ্রেরণার ব্যক্তি হবেন?

চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই যে তিনি নিজের মূল্যায়ন নিজে করতে পেরে ফিরে  এসেছেন এই পাপাচারের জগত থেকে। আল্লাহ আপনার চলার পথকে সহজ করে দিক এবং কল্যাণের পথে অবিচল রাখুক।

নাজনীন হ্যাপী
চিত্র নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী। অন্ধকার থেকে কল্যাণকামী পথে ফিরে আসেন।

আমরা যারা যেসব সিনেমা গুলোকে সামাজিক হিসেবে দেখি সেসব সিনেমার গুলো কি খবর?

২০১৬ তে ছুঁয়ে দিলে মন শিরোনামের একটি ছবি কাজের ফাঁকে কম্পিউটারে চালু করে দেখেছিলাম। ছবির শুরুর গল্পটি ভালো লেগেছে বিধায় পুরো ছবিটি ধৈর্য সহকারে দেখেছি। পুরো ছবিতে সামাজিকতা বজায় থাকলেও একটি গানের দৃশ্য সেটি নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে বুঝলাম সিনেমা নির্মাতারা সামাজিক মুভি নির্মাণের ক্ষেত্রে নায়িকার বক্ষ প্রদর্শন করা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি।

মম হট ছবি
ছুঁয়ে দিলে মন সিনেমার একটি গানের দৃশ্য। এই ছবিতে নায়িকাকে ওড়না বিহীন বক্ষ ও গানের ভিতরে খোলাভাবে প্রদর্শন করা হয়।

সামাজিক ছবিতে সহচরাচর যে সব দৃশ্য দেখা যায়, নায়িকা তাঁর উরনা আকাশে উড়িয়ে নায়কের দিকে দৌঁড়ে এগিয়ে যাচ্ছে, নায়ক নায়িকাকে জড়িয়ে ধরে পুলকিত হচ্ছে, নায়ক-নায়িকার বক্ষাদেশ মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে, আর এসব দৃশ্য #বাবা তাঁর মেয়েকে সামনে নিয়ে, #মা তাঁর ছেলেকে সামনে নিয়ে উপভোগ করছে।

ভাবতে পারেন আমরা কতটুকু নির্লজ্জ হলে এসব আপত্তিকর দৃশ্য নিজেদের পরিবার-পরিজনদেরকে সামনে নিয়ে উপভোগ করতে পারি?

আর এভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষা দিচ্ছি, বেগানা নারী-পুরুষ ভালোবাসার নামে একে-অপরকে জড়িয়ে ধরলে তাতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

আর এভাবেই অভিবাবকেরা অনৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে সন্তানদেরকে বড় করছে, এবং পরে ছেলে-মেয়েরা অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে যাবার ফলে লজ্জায় আড়ালে মুখ লুকাতে হয়।

#নারী তুমি কি পুরুষের ভোগ্য পণ্য! নিজেদের রূপ-সৌন্দর্য্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করো?

লিখেছেনঃ সৈয়দ রুবেল। (প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদকঃ আমার বাংলা পোস্ট.কম)

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ