চাকরিজীবীদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিজীবীদের শুধু রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনকল্যাণে নিবেদিত হবার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু রুটিন দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে আরো কী কাজ করলে মানুষের কল্যাণ হয় সেটা চিন্তা করে সেভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক-২০১৭ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরি যে, একটা রুটিন চাকরি, আসলাম, বেতন নিলাম, চলে গেলাম সেটা নয়। নিজের ভেতরে উদ্ভাবনী শক্তি কী আছে.. সেটাও কাজে লাগাতে হবে। নিজেই নিজেকে আবিষ্কার করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে যে দায়িত্ব প্রাপ্ত তাকে সেখানে ভাবতে হবে এটা আমার নিজের দায়িত্ব, কারণ এই দেশটা আমার। দেশের মানুষগুলো আমার। কাজেই দেশের মানুষের কল্যাণে আমাদের কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আরোকটি বিষয় বলি-যেমন আপনারা একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের খুলনার জেলা প্রশানক একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেখানে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এবং আমাদের পুলিশ প্রশাসন এক দিনের বেতন দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করেছেন ভিক্ষুক মুক্ত করার জন্য। এই ভিক্ষুকদের হিসাব নিয়ে তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এই বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে । আমি বলবো-এতটা উদ্ভবনী কাজ তারা করেছেন । আমি জানতে চাইলাম এটা তারা করলেন কেন? উত্তর পেয়েছি আপনারা আমাদের এত বেতন বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে আমাদেরও জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা রয়েছে। যা থেকে ভাবলাম একটু সেবা করি।

তিনি বলেন, কাজেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারাই এ ধরনের ফান্ড তৈরি করবেন সেখানে আমিও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে কিছু অনুদান দেবো। যাতে করে তারা এই কর্মসূচি সফলভাবে করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে বিশ্বায়ন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে একদিকে মানুষের আচরণ এবং রুচিতে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাসহ সবকিছু বদলে গেছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, কম্যুউনিটি ক্লিনিক, মোবাইল ব্যাঙ্কিং ইত্যাদি সেবা চালু করা হয়েছে। সারাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ সকল সেন্টারে ১১৬ ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। কৃষি কার্ড ও ফেয়ার পাইস কার্ডের মাধ্যমে কৃষি পণ্য এবং খাদ্যপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও ডাক্তারি পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এসএমএসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে সকল পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, কৃষি তথ্য প্রেরণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বিদেশ থেকে প্রবাসীদের অর্থ প্রেরণসহ অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা দ্রুততম সময়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল নথি নম্বর ও ই-ফাইলিং চালু করা হয়েছে। জনগণের অধিকার রক্ষার্থে সকল দপ্তরে দ্বিতীয় প্রজন্মের সিটিজেন চার্টার প্রবর্তন করা হয়েছে। এর আওতায় মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করছে। সে চুক্তিতে কোন কোন বিষয়ে আগামী বছর ওই মন্ত্রণালয় কাজ করবে তার বিবরণ থাকে এবং কার্যক্রমগুলো বছর শেষে মূল্যয়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে এখন ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোজাম্মেল হক খান ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

পরে দুটি ক্যাটাগরিতে ১৪ জনকে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

Please follow and like us:

Related posts