নাচোল থানা হাজতে হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা হাজতের টয়লেটের দরজার উপরের ভেন্টিলেটরের সাথে পরনের প্যান্ট গলায় ফাঁস দিয়ে রিমান্ডে থাকা হত্যা মামলার আসামি মাহফুজুর রহমান (২৭) আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে ভেতর থেকে লাগানো টয়লেট ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন সহ থানা পুলিশের অনান্য সদস্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম,নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ নাজমুল হক, পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফুজুর রহমান নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার জগদীশপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, মাহফুজুর রহমান চিকিৎসক না হয়েও ডা. মাসুদ রানা ওরফে বাদল পরিচয়ে গত ১৭ জুলাই নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ৭ম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নাহিদার (১৪) এর পেটে জননী ক্লিনিকে অস্ত্রোপাচার করেন। ১৯ জুলাই নাহিদা মারা যায়। এঘটনায় ওই রাতে নাহিদার পিতা বাদী হয়ে নাচোল থানায় মাহফুজুর রহমানকে (ভুয়া চিকিৎসক মাসুদ রানা) প্রধান অভিযুক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন ( মামলা নং-০৭ তারিখ-২০/০৭/১৭)। ওই দিনই পুলিশ মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে। ২০ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। পরে গত মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাচোল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বারেক আদালতে মাহফুজের দুই দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রিমান্ডের জন্য এসআই বারেক ভুয়া চিকিৎসক মাহফুজুর রহমানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নাচোল থানায় নিয়ে আসেন।

তিনি আরো জানান, বুধবার দুপুর ১টার কিছু পরে মাহফুজ হাজতের টয়লেটের দরজার উপরের ভেন্টিলেটরের (ফুটো) সাথে দরজার ফুটো দিয়ে পরনের কালো রং এর প্যান্ট জড়িয়ে গলায় ফাঁস দেয়। এ সময় তার পরনে আরো একটি জিন্স প্যান্ট হাফপ্যান্ট আকারে গোটানো অবস্থায় ছিল।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোজাহিদুল ইসলাম বিকেলে থানায় আসেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা ও মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি আনোয়ার হোসেন।

রাত পৌঁনে ৮টা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

Please follow and like us:

Related posts