প্রতিবন্ধীকে বলাৎকারের সাজা ১০ বার কান ধরে উঠ-বস

টুটুল রবিউলঃ প্রতিবন্ধী যুবককে বলাৎকার করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ১০ বার কান ধরে উঠ-বস করার শাস্তি দিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বানঝাপাড়া গ্রামে। জানা যায় গত মঙ্গলবার এক প্রতিবন্ধী যুবককে বলাৎকার করে জগন্নাথপুর বাানঝাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিরুল ইসলাম মান্টু (৫৫)। গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে আম পাড়ার নাম করে একই গ্রামের বাথানবাড়ী এলাকার মফিজুলের প্রতিবন্ধী ছেলে জিন্টুকে (২৩) পাট খেতে নিয়ে গিয়ে বলাৎকার করে মনিরুল ইসলাম মান্টু। প্রতিবন্ধী জিন্টু পরে গ্রামে এসে বলাৎকারের বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে বললে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হবার কারণে মান্টু দোষ স্বীকার করে মিমাংসায় বসতে রাজি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সে মীমাংসায় বসতে টালবাহানা শুরু করে। প্রতিবন্ধী জিন্টুর পরিবার দরিদ্র হওয়ার কারণে মান্টু হুমকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। মান্টুকে এ কাজে সেল্টার দেয় একই এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী আব্দুর রশিদ ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজিব (রাজু)। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা শুরু হলে রশিদ প্রতিবন্ধী যুবক জিন্টুর পিতা মফিজুলকে ভয় ভীতি দেখিয়ে চেয়ারম্যান রাজূ যে মীমাংসা করে দিবে তা মেনে নেয়ার জন্য বলে।

সরেজমিনে শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী রশিদের ভয়ে এলাকায় কেউ এবিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেনা। তবে ফিটু মহরিল নামের এক মুরুব্বী জানান ঘটনাটা সত্য। তবে মান্টুর বিচার করার মত লোক এলাকায় নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দোকানদার বলেন-যেহেতু রশিদ আর চেয়ারম্যান বিষয়টার মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছে। তাতে বলা যায় এর সুষ্ঠ বিচার হবেনা। কারণ ধর্ষক মান্টু, রশিদ আর চেয়ারম্যানের খুব কাছের লোক।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়- গত শনিবার বিকালে এক গোপন স্থানে বিচার হয়। বিচার করেন দূর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজূ। যদিও বিচার ইউনিয়ন পরিষদে হবার কথা ছিল বলে জানান এলাকার কয়েকজন যুবক। গোপন স্থানের বিচারে চেয়ারম্যান রাজু মনিরুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বার কান ধরে উঠ বস করার শাস্তি প্রদান করেন। আর ভিকটিম প্রতিবন্ধীর পরিবারকে এ বিষয় নিয়ে আর কোন ঝামেলা না করার জন্য শাসিয়ে দেন।
একাধিক সুত্রে জানা যায়- চেয়ারম্যান রাজূ আর প্রশাবশালী সন্ত্রাসী রশিদ, মনিরুল ইসলাম মান্টুর নিকট হতে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে এ বিচার করেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজুর সাথে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন-ভিকটিমের পরিবার আর্থিক জরিমানা না চাওয়ায় এবং অভিযুক্ত মান্টু সকলের সামনে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে ১০ বার কান ধরে উঠবস করা এবং জুতার মালা গলায় দিয়ে এলাকা প্রদক্ষিন করার শাস্তি প্রদাণ করি।
টাকা নিয়ে বিচার করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

Please follow and like us:

Related posts