নাচোল থানা হাজতে রিমান্ড আসামীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাচোল থানা হাজতে গত ২৬ জুলাই রিমান্ডের আসামি মাহফুজ রহমানের (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই শাহিনুর আলম আদালতে মামলা করেছেন।

রবিবার দুপুরে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.শহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

বাদির আইনজীবি আকরামুল ইসলাম জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ২০০ ধারায় বাদির জবানবন্দী রেকর্ড করেন। আদালত শুনানী শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ ও আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এছাড়া মামলার বিষয়টি পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ প্রধানকে (আইজিকে) জানানোর জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় ৬ পুলিশ সদস্যসহ ৮ জনকে নামীয়সহ অজ্ঞাতানামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, যে হত্যা মামলায় মাহফুজকে ২৫ জুলাই রিমান্ডে নেওয়া হয় সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নাচোল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারিক, নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ও নাচোল থানায় কর্তব্যরত অন্য ৪ পুলিশ সদস্য, মৃত মাহফুজ যে হত্যা মামলার আসামী ছিলেন সেই মামলার বাদী নাচোল বাইপুরা দরগা এলাকার মো. শমসেরের পুত্র মো. নাসির উদ্দিন ও তার ভগ্নিপতি জাফর ইকবাল।

মামলার আর্জিতে টাকার দাবিতে মাহফুজকে থানা পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করেছেন বাদি।

এর আগে, গত ২৬ জুলাই দুপুরে নাচোল থানা হাজতের টয়লেটের দরজা ও উপরের ফোকরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে মাহফুজ আত্মহত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ।

পরদিন ২৭ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

আদালতের নির্দেশে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আয়েশা জুলেখার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যর একটি মেডিক্যাল বোর্ড মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে ওইদিনই আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রদান করেন। এছাড়া মরদেহের ভিসেরা রাজশাহী ও ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

মৃত. মাহফুজ নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার জগদীশপুর মৃধাপাড়ার আবু বক্কারের ছেলে। তিনি নাচোল পৌর এলাকার জননী ক্লিনিকে গত ১৭ জুলাই রাতে চিকিৎসক না হয়েও ( ডা. মাসুদ রানা নামে ভূয়া পরিচয়ে) নাচোলের বাইপুর দরগা এলাকার নাসিরুদ্দিনের ৭ম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নাহিদার (১৩) আ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে পরিবারের সম্মতিতে তার পেটে অস্ত্রোপাচার করেন। এরপর নাহিদার অবস্থার অবনতি হয় ও ১৯ জুলাই সে মারা যায়।

এঘটনায় নাহিদার পিতা ওইদিনই নাচোল থানায় মাহফুজকে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করলে পুলিশ মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে। তাকে ২০ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই মামলায়, তদন্ত কর্মকর্তা নাচোল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল বারিক ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় মাহফুজকে দুদিনের রিমান্ডে নাচোল থানায় নিয়ে আসেন। পরদিন দুপুরে হাজতের টয়লেট থেকে মাহফুজের গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাহফুজের মুত্যুর দিন থেকেই তার স্বজনেরা একে হত্যাকাণ্ড আর পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করে আসছে।

Please follow and like us:

Related posts