ময়মনসিংহে ডিবির ওসি আশিকুর রহমানকে নিয়ে প্রশ্ন !

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম,  যেখানে সারাদেশের মধ্যে একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসাবে পরিগনিত । অতিরিক্ত পুলিশ সুপার , সহকারী পুলিশ সুপারগণ যেখানে মানুষের মুখে মুখে ভালো কর্মকর্তা হিসাবে জননন্দিত – সেখানে ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার ( ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান ঠিক যেন তাদের উল্টো ।

আশিকুর রহমান ময়মনসিংহে যোগদানের পর থেকেই গ্রেপ্তার বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন । এরই মাঝে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় জেলাবাসীর মধ্যে এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বাণিজ্যের নামে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া এই কর্মকর্তা কি করে পুলিশের এত বড় সন্মান অর্জন করতে সক্ষম হলেন !

যদিও ওসি আশিকুর রহমান নিজেকে ‘মুই -কি -হনু- রে’ প্রমান করতে ইতিমধ্যে ছোট খাট অভিযান পরিচালনা করে এবং সেই অভিযানের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করতেই নিজেকে বেশি ব্যস্ত রাখেন । ইতিমধ্যে তার নেতৃত্ব গ্রেপ্তাররা ছোট- খাট অপরাধি হলেও তার গোপন ইশারায় এবং ঘুষ বাণিজ্যের কারণে মাদকের গডফাদার, মাদক স¤্রাট ,

মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও দাগি অপরাধীরা ঘুড়ে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে দিবালোকে । শুধু তাই নয় । এসব অপরাধীদের সাথে রয়েছে ডিবি পুুলিশের সখ্যতা । এদের থেকে তারই ইশারায় মোটা টাকার মাসোহারায় চলে মাদক ব্যবসা । এই মাদক ব্যবসায়ীরাই তাদের বিরোধী অর্থাত প্রতিবাদকারীদের ডিবির ওসির যোগসাজশে মিথ্যা মামলার হয়রানির শিকার হন । এই হয়রানি ,

মিথ্যা মামলা এবং মিথ্যা মামলার ফাঁদ তৈরি করেও ডিবির ওসি আশিকুর হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা । ডিবির অফিসে যাতায়াতকারী অনেকের ভাষ্য সন্ধ্যার পর তাদের সোর্স, মাদক বেপারী , মাদক কারবারী, অপরাধীদের আড্ডা বসে । সেই আড্ডাতেই কা-কে ধরা হবে , কা-কে ছাড়া হবে, কার কাছ থেকে কত টাকা নেয়া হবে, কা-কে ফাঁসাতে হবে,

কোন পত্রিকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, কোন পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে শায়েস্তা করা হবে এসব নানা ছক আাঁকা এবং তার বাস্তবায়ণ হয় ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বেই ।

ময়মনসিংহে যোগদানের পরও চিহ্নিত অপরাধীদের দিয়ে তিনি গঠন করেন তার স্বঘোষিত তথাকথিত আন্ডারগ্রাউন্ড বাহিনী । এই বাহিনী সমাজের ভালো, ভদ্র এবং নিরীহদের মারধর, হুমকি ,ধমকিসহ নানাভাবে দমানোর চেষ্টা করেন । এই দমানোর নামে কাউকে হত্যা করতেও তার নির্দেশনা আছে বলে ময়মনসিংহে লোকজনের মুখে শোনা যায় । যে কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে  সমাজসেবামূল প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ,অপরাধের  প্রতিবাদকারীরা অনেকাংশে প্রতিবাদ করার আগ্রহও হারিয়ে ফেলছেন ।

সম্প্রতি জেলার মুক্তাগাছার এক মেম্বার আটক পরে মোটা অংকের টাকায় ছেড়ে দেয়া এবং ত্রিশালের এক মুক্তিযোদ্ধার পুত্রের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষদের আটকের পর মোটা অংকের টাকায় ছেড়ে দেয়ার সংবাদ প্রকাশ হয় । সেই সংবাদের প্রেক্ষিতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ওসি আশিকুর রহমান আরো হিং¯্র

রুপে অপতীর্ণ হয়েছেন । থোরাই কেয়ার ভাব তার । সেই সংবাদে এও বলা হয় যে, ওসি আশিকুর রহমান নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসাবে দাবী করে যা-খুশি তাই করছেন ।

এরও কোন তদন্ত হয়নি । পত্রিকায় প্রকাশের পর তিনি বলে বেড়ান, কিভাবে পত্রিকার সংবাদ ধামাচাপা দিতে হয় এবং কি-করে সেই সংবাদ মিথ্যা প্রমাণ করতে হয় তা আমার নখদর্পনে । ময়মনসিংহে এই ওসির ওপর ক্ষুব্ধ ক্ষোদ সরকারদলীয় নেতা- কর্মীদেরও । তারা বলছেন, তিনি কোন রাজনীতি করেছেন এটা বলার প্রয়োজন কি তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন । আসলে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের পরিচয় দিলেও জামায়াত শিবিরের সাথে সখ্যতা এটা স্পষ্ট এমন দাবি তাদের ।

তারা বলছেন, এই ওসি গ্রেপ্তার বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জেলায় জঙ্গিদের কার্যক্রম নিয়ে মাথাব্যথা নেই তার । জামায়াতের ওয়ান্টেভূক্ত আসামীকেও গ্রেপ্তার করেননি তিনি । গত রবিবার জেলার ভালুকা উপজেলায় বোমা বিষ্ফোরনে জঙ্গি নিহতের ঘটনাটি অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা হয়ে আসছে । অথচ ডিবি সেটা জানেনা ।

অথচ ওসি আশিকুর রহমান জানেন, ভালুকার কোন কোন স্পটে মাদক ব্যবসা চলে, কোন স্পট থেকে ডিবির ওসির জন্য বরাদ্দ কত । এব্যাপারে ময়মনসিংহ প্রতিদিনে সংবাদও প্রকাশ করা হয় । সংবাদে বলা হয়, ভালুকার বিভিন্ন  স্পটে বিশেষ করে জামিরদিয়া মাষ্টারবাড়িতে ইয়াবা বড়ির বাণিজ্য । সেখানে মাদক কারবারীরা বেপরোয়া । তার পরও হুশ নড়েনি ডিবি পুলিশের ।

এরই মাঝে জঙ্গি নিহতের ঘটনাতেও ডিবি প্রশ্নবিদ্ধ । অথচ জঙ্গিদের পাতা ফাঁদে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো । শুধু ময়মনসিংহে-ই নয় । ডিবির এই ওসি আশিকুরের বিরুদ্ধে তার নানা অবৈধ কর্মকান্ড, গ্রেপ্তার বাণিজ্য, ঘুষ এমনকি বাদ যায়নি এবাহিনীর কর্মকর্তাও । অর্থাত ভালো পুলিশ কর্মকর্তারাও তার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরোধীতা করে আশিকুরের নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপর্যস্ত হয়েছেন ।

রাজশাহী থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, মাসিক, সাপ্তাহিক , ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট পত্রিকা এবং অসংখ্য অনলাইন পত্রিকায় সেসব সংবাদ ফলাও করে প্রকাশ করে । এদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থার এক কর্মী পুলিশের মহা পরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ।

ঐ অভিযোগে প্রকাশ, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বৈলর থেকে চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে ১৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে ডিবি পুলিশে । পরে আটকের দেয়া তথ্যে আরও

৩ জনকে আটক করে তারা । আটকদের ৩দিন তাদের কার্যালয়ে আটক রেখে মোটা টাকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয় । একইভাবে ময়মনসিংহ শহরের কৃষ্টপুরে ১১২ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে একই ভাবে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয় । এখন প্রশ্ন উঠেছে , মাদকসহ আটক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেয়ার পর মাদকগুলি দিয়ে কি হয় । অনুসন্ধানে জানা গেছে ,

ঐসব মাদক সাধারণ মানুষদের পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে অপরাধি বানানোর নামেও চলে মোটা অংকের টাকার গ্রেপ্তার বাণিজ্য কাওকে ফাঁসানোর নামে আটক বাণিজ্য। এদিকে সদরের শম্ভুগঞ্জের গোপালপুরে  গরু চুরি এবং দুই খুনের ঘটনায় আটক ১১ জনকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ডিবির ওসির বিরুদ্ধে । অভিযোগ, আটকদের নিকট থেকে ঘুষের টাকা অংকের বিবেচনায় দফারফা হয়েছে ।

যারা বেশি টাকা দিয়েছেন তারা ছাড়া পেয়েছেন । আর যারা কম টাকা দিয়েছেন তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে । রাজশাহী থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, ওসি আশিকুরের বিরুদ্ধে সেখানে কর্মরত থাকাকালে তার অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে প্রতিনিয়ত সংবাদ প্রকাশ হয় । তন্মধ্যে দৈনিক যুগান্তর প্রকাশ করে, আরএমপির দুই ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রাজশাহী ব্যুরো -রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)

আলমগীর হোসেন ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আশিকুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিতর্কিত এ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ হয়রানির বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। কমিটির প্রধান আরএমপির দাঙ্গা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহ আবু সালেহ মো. গোলাম মাহমুদ সোমবার রাতে পুলিশ কমিশনারের দফতরে এ

প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে ওসি আলমগীর হোসেন, ওসি আশিকুর রহমান ও ডিবির এএসআই আলামিন হোসেনকে অন্যত্র বদলিসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান আরএমপির দাঙ্গা বিভাগের উপকমিশনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকরা আরএমপির কমিশনার মো. শামসুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দুপুর পর্যন্তহাতে পাননি বলে জানান। তবে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও কমিশনার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। জানুয়ারির শেষার্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগ দিয়ে আলমগীর হোসেন ব্যাপক গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্য শুরু করেন। হরতাল ও অবরোধের মধ্যে সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে

পুঁজি করে পুলিশের এ কর্মকর্তা ব্যাপক গ্রেফতার বাণিজ্যে মেতে উঠেন। সহিংসতায় জড়িত নয় এমন সব লোকজনকে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক থেকে তুলে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে নিম্নে

১০ হাজার থেকে ঊর্ধ্বে তিন লাখ টাকা পর্যন্তআদায় করেন। বোয়ালিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা লোকজনকেও মামলার আসামি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে ডিবির ওসি তদন্ত আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিপণ আদায়ের স্টাইলে লোকজনকে ধরে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্যের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিকে গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক যুগান্তরের রাজশাহী

ব্যুরো প্রধান আনু মোস্তফাসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নাশকতার ৬টি মামলা করেন বোয়ালিয়া থানার ওসি।পুলিশের সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ওসি আলমগীর ও ওসি আশিকুর রহমানের গ্রেফতার বাণিজ্যের বিষয়ে

দৈনিক যুগান্ত রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ আরএমপির কমিশনার অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন ডিসি দাঙ্গা শাহ আবু সালেহ মো. গোলাম মাহমুদকে। তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার বাণিজ্যের শিকার ব্যবসায়ী ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার ২৫ জনের সরাসরি জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এমনকি ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য নেয়া হয়। এসব বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, তুলে নিয়ে গিয়ে মামলায় জড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন ওসি আলমগীর ও ওসি আশিক। টাকা নেয়ার পর কাউকে থানা থেকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে আবার কাউকে আরএমপি ধারায় চালান করা হয়েছে। তদন্তে আশিকের আদায় বাণিজ্যে

সরাসরি সহায়তার জন্য ডিবির এএসআই আলামিন হোসেনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে। গ্রেফতার বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানো হয় বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ডিবির ওসি তদন্ত আশিকুর রহমানের আরও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আশিকুর রহমান শিবগঞ্জ থানায় ওসি থাকার সময় গ্রেফতার বাণিজ্য ছাড়াও নাশকতাকারীদের সহায়তার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা ছাড়াও আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়েছেন। তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা তদন্ত কর্মকর্তার সামনে

নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই তিন কর্মকর্তাকে রাজশাহীর বাইরে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। –নিউজ ওয়ার্ল্ড বিডি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়, মূর্তিমান আতঙ্ক ওসি আশিকুর ক্লোজড রাজশাহীর লোকজনের কাছে মূর্তিমান আতংক তিনি। নিরীহ লোকজনদের থানায় ধরে এনে নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন। তার চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন রাজশাহীর বহু ব্যবসায়ী।

এমনকি বাদ যায়নি স্কুলশিক্ষার্থীও। গোটা রাজশাহী অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার দহরম-মহরমের কথা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। তিনি আলোচিত রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান।স্থানীয়দের কাছে ডিবি আশিক নামেই পরিচিত। তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, তার দাপটে অনেক বাঘা বাঘা পুলিশ কর্মকর্তাও ভড়কে যেতেন। তবে বেপরোয়া এই ডিবি কর্মকর্তাকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আরএমপি কমিশনারের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে

রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার প্রত্যাহারের সংবাদে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। অনেকে পুলিশ কমিশনারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবার ডিবি আশিক সাইজ হলেন। রোববার ঢাকা থেকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন,

আশিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা দিয়ে হয়রানি, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে অর্থ আদায়, বিভিন্ন স্পট থেকে মাসোয়ারা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে ক্লোজড করা হল। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরএমপির একটি সূত্র জানায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ডিবি কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ পুলিশ ইন্সপেক্টর তোফাজ্জল খানকে মারধর করেন

ইন্সপেক্টর আশিক। ডিবি আশিক শিবগঞ্জ থানায় কর্মরত অবস্থায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এ কারণে তিনি জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা দমনে বারবার ব্যর্থ হন। আশিকুর রহমানের প্রত্যাহারের বিষয়ে আরএমপি কমিশনার শামসুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, প্রশাসনিক কারণে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment