নিষিদ্ধ পল্লী থেকে বিয়ের পিঁড়িতে!

0

লোকে বলে পিরিতের পেত্নি নাকি ভালো। আবার অনেকে বলে ভালোবাসা নাকি অন্ধ! সব ক্ষেত্রে কথাটা সত্যি হয় না। ভালোবাসা শুধু অন্ধ বা আবেগিই হয় না, তা অনেক সময় মহৎ দৃষ্টান্তও স্থাপন করে। তেমনি এক ঘটনা ঘটলো প্রতিবেশি দেশ ভারতে।

ভালোবাসার মানুষের হাত ধরেই নিষিদ্ধ পল্লী থেকে আলোর পথে এলেন এক তরুণী। পুলিশ ও মহিলা কমিশনের সাহায্যে পেশায় দেহব্যবসায়ী প্রেমিকাকে নিষিদ্ধ পল্লীর অন্ধকার কুঠুরি থেকে উদ্ধার করল প্রেমিক। শুধু উদ্ধারই করলেন না, তাকে বিয়েও করলেন।

২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নেপালের বাসিন্দা ওই তরুণী সব হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে দিল্লিতে এসে পৌঁছান। সেখানে অজ্ঞাতনামা একব্যক্তি তাকে দিল্লির জিবি রোডের নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দেয়। সেই থেকে পেটের দায়ে অন্ধকার কুঠুরিই হয়ে ওঠে তার ঠিকানা। কিন্তু তার জীবনে যে এমন মুক্তির দিন আসবে হয়ত তিনি ভাবতে পারেন নি।

একদিন স্থানীয় বাজারে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় ২৭ বছরের ওই নেপালি তরুণীর। এরপর থেকেই সেখানে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন ওই যুবক। ধীরে ধীরে তাদের আলাপচারিতা বাড়তে থাকে। আর এভাবেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমে সম্পর্কয়। একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন বিয়ের। কিন্তু নিষিদ্ধ পল্লীতে প্রবেশ করা যত সহজ কিন্তু বের হওয়াটা সহজ নয়।

এদিকে তরুণ প্রেমিক প্রেমিকাকে মুক্ত করার জন্য সরাসরি হেল্পলাইনে ফোন করে দিল্লি মহিলা কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফোন পেয়ে পুলিশ ও মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

মহিলা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে কমিশনের অফিসে একটা ফোন আসে। একটি পুরুষ কণ্ঠ জানায় জিবি রোডের এক তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ৬৮ নম্বর ঘরে তিনি থাকেন। তিনি আরো জানান, তরুণী ওই পেশা ছেড়ে তার সঙ্গে বেরিয়ে আসতে চান। এজন্য তাদের সাহায্য প্রয়োজন। এরপরই পুলিশের সাহায্যে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। পরে ওই তরুণ-তরুণী বিয়ে করেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ