আবারো প্রশ্নের মুখে মুশফিকের ‘কিপিং’ ইস্যু

দলের সেরা ব্যাটসম্যান, তার উপর টেস্ট অধিনায়ক। এর সঙ্গে কিপিংয়ের খাটুনি মিলিয়ে মুশফিককে বেশ পরিশ্রান্ত লাগে বিশেষজ্ঞদের। তাই মুশফিককে একটু নির্ভার করে দিতেই শ্রীলঙ্কা সফরে তার জায়গায় লিটন দাসকে কিপিং করানো হয়। কিন্তু সেই সিরিজে প্রথম টেস্টের পর ইনজুরিতে পড়লেন লিটন। দ্বিতীয় টেস্ট থেকেই মুশফিক কিপিংয়ের অধিকার ফিরে পেলেন। বাংলাদেশ তাদের শততম টেস্টেটাও জিতলো। মুশফিকের ‘কিপিং’ ইস্যুটাও ঢাকা পড়ে গেল। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ না হতেই এবার আবার উঠে এলো সেই ইস্যু। এবং সেই একই চিন্তা, কিপিংটা ছাড়ো মুশফিক…।

টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক অবশ্য বরাবরই বলে আসছেন কিপিংটা তার অন্যতম দুর্বলা। এক কথায় প্যাশন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং অর্ডারে পরীক্ষা-নিরিক্ষা নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। যেখানে মুমিনুল হককে আটে নামিয়ে চারে নাসির হোসেনকে খেলানোর সমালোচনা হয়েছে। কেন মুশফিক নিজেই চারে আসলেন না এমন প্রশ্নও উঠে এসেছে। যার উত্তরে মুশফিক বলেছেন, ‘১২০ ওভার কিপিং করার পর যদি আবার চার নম্বরে ব্যাটিং করতে হয় তাহলে বলব, এটা আমার একার দায়িত্ব নয়…। ’

আর এতেই মুশফিকের কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হওয়ার কথাটা আবার উঠেছে। যে প্রশ্নে মুশফিক আগের মতোই বলেছেন, বিষয়টা পুরোটাই টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যপার। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবির অন্যতম পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। বিসিবির গেম ডেভেলপম্যান্ট কমিটির প্রধান আকরাম জানান, ‘এই বোর্ড সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনেক সম্মান করে। তাদের আইডিয়া-পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এটাও সত্যি এই গরমে সারাদিন ফিল্ডিং করে চারে ব্যাটিং করা কঠিন। ওরও দায়িত্ব আছে। সিনিয়র খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে দলের স্বার্থ আমাদের চেয়ে ওকেই বেশি দেখতে হয়। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের আইডিয়া (মুশফিককে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানো) আসে কাজ করব। আগেও টেস্টে ওকে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলিয়েছি। সে আমাদের দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান।’

তবে মুশফিকের কিপিং ইস্যু নিয়ে নানা সময় আলোচনায় একটা বিষয়ও বেশ ভালো পরিলক্ষিত হয়। মুশফিককে প্রশ্ন করলে বলেন বিষয়টা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যপার। আবার ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা বলেন এটা পুরোটাই মুশফিকের সিদ্ধান্ত। আকরামকে এবার উত্তর দিতে হলো আসল ব্যাপারটা নিয়ে। আর সেই উত্তরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম নক্ষত্র জানালেন, ‘উভয় পক্ষের বসে ঠিক করতে হবে। এই চিন্তাধারা ছিল বলেই লিটনকে দলে রাখা। ওর মাথায় যেহেতু কিপিংয়ের ভাবনাটা এসেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে যেটা ভালো হয় সেটা করব।’ ২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ২ টি-টুয়েন্টি ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে ১৭ সেপ্টেম্বর।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment