রোহিঙ্গাদের পাশে না দাঁড়িয়ে মিয়ানমারের সাথে সামরিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে আমেরিকা!

0

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্রপন্থি বৌদ্ধদের কঠোর হত্যাযজ্ঞ এবং জাতিগত নিমূর্ল অভিযানের বিরুদ্ধে আমেরিকা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে একটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। খবর পারস্য।

মার্কিন সিনেট আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষা ব্যয় সংক্রান্ত একটি বিলে ভোট দেবে বলে অ্যাসোসিয়েটড প্রেস বা এপি আজ (শনিবার) জানিয়েছে। বিলটি পাস হলে মিয়নামারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারবে পেন্টাগন।

এদিকে, খসড়া বিলের আওতায় সমুদ্রে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শান্তিরক্ষা এবং মানবপাচার রোধে দুই দেশের সামরিক বাহিনী নানা প্রশিক্ষণ এবং ওয়ার্কশপে অংশ নেয়ার কথা বলা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে।

অবশ্য মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির প্রধান রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনকে বিলের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তা তিনি এড়িয়ে যান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যার ইস্যুতে দেশটির নেতা অং সাং সু চির বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে আমেরিকা ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে নিন্দার ঝড় বইছে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটের উত্তরাংশে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী। এদের বেশির ভাগই মুসলমান। রাখাইন স্টেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলো রোহিঙ্গা। সংখ্যায় প্রায় ২০ লাখ। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও উগ্র রাখাইনদের সাম্প্রদায়িক আক্রমণের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বেসামরিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের ধারাবাহিক নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। মূলত ১৯৭০ দশক থেকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছাড়তে শুরু করে। গত সাড়ে চার দশকে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়েছে। এসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ