বীট খাটাল বদলে দিয়েছে ভোলাহাট মানুষের জীবনযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত ও অবহেলিত উপজেলা ভোলাহাট। এ উপজেলার বেশীরভাগ মানুষগুলোই কৃষিকাজ নির্ভরশীল। আগের চেয়ে শিক্ষা ও অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও কিছু পরিবার রয়েছে, যাদের সারা বছর অন্য কিছু করার কোন উপায় থাকে না। আর তাই সম্প্রতি এই উপজেলায় চালু হয়েছে একটি বীট খাটাল। এর আগেও এখানে একটি বীট খাটাল চালু থাকলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। এই উপজেলার মানুষেরা বছরে দুইটি জিনিষের উপর নির্ভর থাকতো। কিন্তু এখন থাকে তিনটি জিনিষের উপর নির্ভর। আর এই তৃতীয় জিনিষটি হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে গরু আনা নেয়ার ব্যবসা। এতে যে তাদের লোকসান হয়েছে এমন নয় বরং তাদের লাভ হয়েছে অনেকাংশে।

সম্প্রতি চালু এই বীট খাটালের উপর কিছু মহল শকুনের দৃষ্টি দিলে তীব্র চাপা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এই এলাকার বাসিন্দারা। আর তাই সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভীন্ন চিত্র। এই এলাকার জনগণ বীট খাটালের পক্ষে বললেন নানা কথা। তেমনি এক ব্যবসিক রহিম জানালেন, খাটাল আছে বলেই আমরা আগের চেয়ে ভালো আছি। যেখানে আগে প্রতি আম মৌসুমে এলাকার এনজিওদের কাছ থেকে লোন নিয়ে পরে ব্যবসিক লোকসানে তা শোধ করতে আবারো অন্য জায়গায় কর্য করতে হতো, সেখানে এবার লোকসান হলেও অল্প কিছু অর্থ এই গরুর ব্যবসায় লাগিয়ে অল্প কয়দিনে বেশ ভালোই লাভ হয়েছে এবং পূর্বের এনজিওর লোন শোধ করতে পেরেছি। কিভাবে এই ব্যবসা পরিচালিত হয় এমন প্রশ্নের জবাবে গরু ব্যবসায়ী আজাহার জানালেন, আমরা এই বীট খাটাল দিয়ে শুধুমাত্র ছোট বাছুর নিয়ে আসি। যার দাম ওপারে ২ থেকে সাড়ে ৩ হাজার রুপির মতো পড়ে। ওপারের রাখালেরা কলার ভোঁড়ে বেধে গরু গুলি ভাসিয়ে দিলে এপারের নিবন্ধিত রাখালেরা নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে গরুগুলি নিয়ে আসে। পরে খাটালে এনে বৈধ করিডোরের মাধ্যমে ছাড় করে তবেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রেরন করা হয়। এছাড়া এই খাটাল চালু হওয়াতে এলাকার অনেক পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখন এই এলাকার জনগণ আগের মতো বছরে শুধুমাত্র আমের দিকে তাকিয়ে বসে থাকেনা বরং তারা আম মৌসুমের পরে অলস বসে না থেকে গরু ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়িত রেখে কিছুটা হলেও বাড়তি আয় করতে পারে। এ বিষয়ে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনর্চাজ ফাছির উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই এলাকায় আগে একটি খাটাল চালু ছিলো। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। পরে আশরাফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা চরধরমপুর বীট খাটালের অনুমোতি নিয়ে এখানে খাটাল পরিচালনা করে আসছেন সুন্দর ভাবে এবং এখানে এখন পর্যন্ত কোন অনিয়ম ঘটেনি। এদিকে চরধরমপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক আব্দুর রহিম জানান, বিভিন্ন মহল এই বীট খাটাল নিয়ে নানা অপপ্রচার করলেও আমরা নিজে টহল দিয়ে এর কোন অনিয়ম পাইনি। এছাড়া এর মাধ্যমে অন্য বীট খাটালের মতো কোন অস্ত্র, মাদক বা অন্য কোন অবৈধ কিছু এই পথ দিয়ে আসে না। বরং এর মাধ্যমে অলস বসে থাক ব্যক্তিরা কোন কু ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারেনা। এদিকে বীট খাটালের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে চরধরমপুর বীট খাটাল যেন অচিরেই বন্ধ না হয়ে যায় সে বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন অনেকেই।

https://i1.wp.com/cncrimenews24.com/wp-content/uploads/2017/09/nahid-add-cn-1.gif?resize=621%2C232

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related posts

Leave a Reply