স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ‘তৃতীয়’ ব্যক্তিকে পরিচয় করিয়ে দিলেন স্পর্শিয়া

0

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন শিল্পীর সংসার ভেঙেছে। এদের মধ্যে সর্বাধিক আলোচনায় ছিলেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পি জুটি তাহসান-মিথিলা। এবার সে আলোচনায় যোগ হল নির্মাতা রাফসান আহসান ও অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ার নাম।

জানা যায়, গত ২১ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাজী অফিসে স্বামী নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে স্পর্শিয়ার ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর বিকালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে স্পর্শিয়ার সংসার ভাঙ্গার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় স্পর্শীয়া ও রাফসান আহসানের বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়। খবরগুলোতে রাফসানের মন্তব্য থাকলেও ছিল না স্পর্শিয়ার কোনো কথা।

আজ সোমবার নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন ছোট পর্দার এই তারকা। বিচ্ছেদের ব্যাপারে স্পর্শিয়া জানান, হুট করেই ২০১৫ সালের অক্টোবরে আমরা দুজন (রাফসান আহসান ও স্পর্শিয়া) মিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। এক বছর একসঙ্গে ছিলাম। সংসার করেছি বা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রেমের বিয়ে ছিল না আমাদের। এরপর গত বছর নভেম্বরের দিকে মনে হচ্ছিল, না, আমরা আর একসঙ্গে থাকতে পারব না। তাই আমি রাফসানের কাছে ডিভোর্স চাই।

বিচ্ছেদের কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যাপারটি এড়িয়ে যান স্পর্শিয়া। তিনি বলেন, ব্যাপারটি শেষ হয়ে গেছে। আমি চাই না, এটা নিয়ে এখন চুল টানাটানি হোক। অথবা আমার সঙ্গে রাফসানের দেখা হলে যাতে কুশল বিনিময় করতে পারি বা ওর দিকে কেউ আঙুল তুলে কথা বলুক—এসব আমি মোটেও চাই না। ও আমাকে সম্মান করে, আমিও তাঁকে সম্মান করি। এটা বজায় থাকুক। কারণ, টেনে এনে চুলোচুলি করতে চাই না।

এদিকে বিবাহ-বিচ্ছেদের পর রাফসান দাবি করেন, তাদের সংসারের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকেছিল। যার কারণে তাদের সংসার জীবন জটিল হয়ে পড়ে। এরপরই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

বিবাহবিচ্ছেদে তৃতীয় ব্যাক্তির কথা জানতে চাইলে ছোট পর্দার এই তারকা জানান, রাফসানের কথায় তৃতীয় ব্যক্তিটা আমার মা। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলে বলব, বিচ্ছেদ কোনো অবস্থায় আমার মায়ের কারণে হয়নি। অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির তো প্রশ্নই আসে না। আমাদের ওই জায়গায় কোনো সমস্যা হয়নি। ও অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে বা আমি অন্য কোনো ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছি—তা কিন্তু নয়। যত দিন ছিলাম, নিজেদের মধ্যে এরকম কোন সমস্যা হয়নি।

সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘অনেক সমস্যা, বলে শেষ করা যাবে না। এসব কারণে আমাদের আলাদা হতে হয়েছে। আমরা দুজনই চেষ্টা করেছিলাম। রাফসান তাঁর জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার, তা হচ্ছে বোঝাপড়া। যা-ই হোক, মানুষ তো সংসার ইচ্ছে করে ভাঙতে চায় না। আমি আসলে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

‘গত বছর থেকেই আলাদা থাকছি। মাঝেমধ্যে রাফসান আসত। আমাদের কথা হতো। আড্ডা দিতাম। কিন্তু আমরা এক ছাদের নিচে থাকতাম না। গত বছর তাঁকে আমিই বলেছি, ডিভোর্স চাই। কাগজপত্রের বিষয়টি এ বছর আগস্টে শেষ হয়।’

‘সবকিছুর পরে মনে হয়েছে, যেটা হয়তো পাঁচ বছর পরে ঘটবে, সেটা আগে হয়ে গেলেই ভালো; যা ওয়ার্ক আউট করছে না, সেটাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। সংসার তো এমন না যে পার্টিতে গেলাম, কয়েক ঘণ্টা থাকলাম, মন না চাইলেও অ্যাডজাস্ট করে নিলাম।’

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় নামের একজনের সঙ্গে স্পর্শিয়াকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষ্ণেন্দু আমার খুব ভালো বন্ধু। পরিচয় অনেক দিনের। তবে ঘনিষ্ঠ হয়েছি মাস দু-এক আগে। এর বাইরে বর্তমানে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না। পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক হতেও পারে, আবার না-ও হতে পারে। ভবিষ্যতে অনেক প্রেম করতে পারি। জীবন তো থেমে থাকতে পারে না।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি সুখী হতে চাই। তারকা হতে চাই না। আর বর্তমানে নাটকে অভিনয় তো ছেড়েই দিয়েছি। খুব ভালো কাজ না হলে নাটকে অভিনয় করব না। ভালো চরিত্র পেলে হয়তো করব। আমার এখনকার সম্পূর্ণ মনোযোগ সিনেমায়। আমি ইদানীং নিজেকে নিয়ে কিছু ভাবছিও।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয় স্পর্শিয়ার। আর সে বছরেরই ১ অক্টোবর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। একটি অনলাইন শপের ভিডিওচিত্র নির্মাণের মাধ্যমেই সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো রাফসান এবং স্পর্শিয়ার। আর ধীরে ধীরে সেটি রূপ নেয় বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। তারপর পরিণয়ে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ