ময়মনসিংহে গ্রাম পুলিশরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে

0

উজ্জল খান,ময়মনসিংহ ঃ  ইতিপূর্বেও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ছিলেন ২০ বছর বয়সী যুবক সজিব । তার পিতার নাম কাশেম আলী ফকির । ময়মনসিংহের সদর উপজেলার অলিপুর গ্রামে সজিব বসবাস করে। সজিব ঢাকায় একটি কওমী মাদ্রাসার ছাত্র। বিতর্কিত যুবক হিসেবেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। সজিব গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিঃ আদালতে বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা নং ১৩৯/১৭, দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি করা হয়। বাদী সজিবের ভাষ্যে যে বয়ান মামলাটিতে করা হয়েছে তার আসামী , কুষ্টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম হাসানসহ সরকারী চাকুরিজীবী, শিক্ষক এবং একাধিক গ্রাম পুলিশ। এই মামলাটি নিয়েও স্থানীয়বাসীদের মাঝে ক্ষোভ এবং বিষোদগারের শেষ নেই কারণ , সজিব মামলা করে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে যার একাধিক প্রমান ইতির্পূবে ময়মনসিংহ এবং ঢাকার বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সজিব ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ পেয়েছে। কিছুদিন আগে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে সজিব তার বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়া একটি রাস্তার মাটি কেটে ছিন্নভিন্ন করে রাস্তাটিকে পুকুর বানিয়ে ফেলে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী চেয়ারম্যানকে ঘটনাটি অবহিত করে জানায়, প্রায় ঐ মহল্লার তিনশতাধিক ব্যক্তি , ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। সজিব সাধারণ মানুষকে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দেবে না কাজেই সজিব রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক করেন কিন্তু সজিব এবং তার পরিবারের লোকজন সালিশি বৈঠক অপেক্ষা করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সবচেয়ে মজার বিষয় সজিব বাদী হয়ে যে মামলাটি করে সেই মামলার আসামীরা অধিকাংশই জনপ্রতিনিধি , শিক্ষক, সরকারী চাকুরিজীবী এবং নিরহ গ্রাম্য পুলিশ। এলাকার সচেতন মহলের দাবী কথিত আসামীরা সজিবের অন্যায় ও পেশীশক্তির বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করেছিল। কারণ তার মামলার অধিকাংশই আসামী হয় জনপ্রতিনিধ্ িও সরকারী চাকুর্ওী । পরবর্তীতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বারবারই সজিব ও তার পিতা কাশেম ফকির একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখিত মামলাটি সজিব গং এর লোকেরা নিজেদের বাড়ির টিনের বেড়া কেটে মামলাটি সাজিয়েছে যা একটি সাজানো নাটক বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করেছেন। জানাগেছে, যে রাস্তাটিকে কেন্দ্র করে সজিব ্ও তার পরিবার এই মামলাটি সাজিয়েছে তারা রাস্তা বন্ধ করার মূল নায়ক সজিব বলে জানান এলাকার অনেকেই। অন্যদিকে সারারাত জেগে অন্যের সম্পত্তি পাহারা দেয় সেই নিরহ গ্রাম পুলিশদেরও এই মামলার আসামী করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে করা রাস্তা সজিব ও তার পরিবারের লোকজন রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে সুতরাং সজিবের এই কাজ রাষ্ট্র ও প্রশাসন বিরোধী বলে মনে করেছেন স্থানীয় সুধীমহল। কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ মামলাটি আমলে নেওয়ার আগে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখবেন এই আশাবাদ স্থানীয়বাসীর। অন্যদিকে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কোতোয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। এদিকে সজিব এলাকায় প্রচার করছে পুলিশকে টাকা দিয়ে হলেও এই মামলার রায় তার পক্ষে নিবেই। এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে জানান, অবশ্যই মামলাটি সুষ্ঠু ও সঠিক এবং সত্যাশ্রয়ীভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে মামলার আসামী চেয়ারম্যানসহ গ্রাম্য পুলিশদের আসামী করায় বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারগন এই অগোছিত মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন। অন্যদিকে সজিবের কাছে ময়মনসিংহ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে বার বার তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ