৩০ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নন্দনপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০ ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।  এনিয়ে সম্প্রতি আট ছাত্রী মাদ্রাসার সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ট ভয়ে ২৪ ছাত্রী মাদ্রাসা না আসার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন।  তবে এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার নিয়ম রক্ষার কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেই দায় সেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছেন।

এদিকে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে আজ শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক সভার আয়োজন করা হয়।  এসময় শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন ক্ষুদ্ধ উঠে।  উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া হয়।  খবর পেয়ে পুলিশ মাদ্রাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমাম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দনপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রায় দুই বছর আগে ইমাম হোসেন যোগদান করেন।  তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের খানপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে।  তিনি শুরু থেকেই ছাত্রীদেরকে মাদ্রাসার পাশের এক বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর নামে এবং মাদ্রাসাতে যৌন হয়রানি করে।
গত তিন মাস ধরে ছাত্রীদের সাথে বেপরোয়া আচরণ করে।
শিক্ষকের যৌন হয়রানি বিষয়টি ছাত্রীরা একাধিকবার সুপারকে জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি।  সম্প্রতি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির আট ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করে।  এতে সুপার শিক্ষক ইমাম হোসেনকে ১০ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেন।  এরপর ইমাম হোসেন আত্ম গোপনে চলে যায়।  ১২ অক্টোবর তিনি শোকজের জবাব দেন।  প্রসঙ্গত, মাদ্রাসাটিতে ১২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ছাত্রী জানায়, শিক্ষক ইমাম হোসেন কৌশলে তাদের সাথে প্রাইভেটের রুমে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।  তাদের বেশ অন্তত ২৮-৩০ জন ছাত্রীর সাথে তিনি চরম অশোভনীয় আচরণ করেছে।  বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের ক্ষতি হবে বলে চুপ থাকতে বলেন।

মাদ্রাসার সুপার মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, শিক্ষক ইমামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে দু বার তাকে শোকজ করা হয়েছে।  জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।  উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া হয়।  আগামীকাল রবিবার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি লজ্জাজনক।  এবিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভা করা হয়েছে।  অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।  ছাত্রীদের অভিভাবকরা থানায় এখনো আসেনি।  তাদের লিখিত অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment